kalerkantho

বুধবার । ১৭ জুলাই ২০১৯। ২ শ্রাবণ ১৪২৬। ১৩ জিলকদ ১৪৪০

টেক টাশকি

শরীর এক মুখ আরেক!

৩০ জুন, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



শরীর এক মুখ আরেক!

বন্ধুরা মিলে পার্কে আড্ডা দিচ্ছে। কিন্তু তোমার পা মচকেছে। অবশ্য চাইলে বাসায় বসেও আড্ডায় দিব্যি শামিল হতে পারবে। ভিডিও চ্যাটিং নয়, একেবারে শরীরী উপস্থিতি! কিভাবে সম্ভব! আছে ক্যামেলিয়ন মাস্ক।

ছবি দেখে বিষয়টা নিশ্চয়ই এতক্ষণে পরিষ্কার হয়েছে। এর জন্য দরকার হবে একজন চুক্তিভিত্তিক সাহায্যকারী ও একটি বিশেষ মাস্ক। আর লাগবে একটি ট্যাব। ওই ট্যাবের ডিসপ্লেতে দেখা যাবে তোমার মুখ। এতে সাহায্যকারীর মুখ ঢেকে গেলে বন্ধুদের মনে হবে, তুমিই বুঝি সরাসরি আড্ডায় এসেছ।

জাপানি গবেষক জুন রেকিমটো এ আইডিয়া দিয়েছেন। সম্ভবত দেশটিতে সবাই কাজে ব্যস্ত থাকে বলেই এমন অদ্ভুত ব্যবস্থার কথা ভেবেছেন তিনি। যাতে সশরীরে কোথাও উপস্থিত হওয়ার ঝামেলা কেটে যায়। পরিস্থিতি বুঝে দ্রুত রংবদলকারী প্রাণী ক্যামেলিয়নের সঙ্গে মিল রেখে তিনি এ প্রযুক্তির নাম দিয়েছেন ক্যামেলিয়ন মাস্ক। কেউ কেউ আবার এটাকে হিউম্যান উবার বলেও ডাকছে। তবে প্রযুক্তিটা মোটেও আহা মরি নয়। একটি মুখোশ আর ইন্টারনেটযুক্ত ট্যাব থাকলে যে কেউ এ ধরনের মুখোশধারী প্রতিনিধি সাজতে পারে।

শুধু মুখোশ পরে বসে থাকলেই হবে না। আড্ডার ফাঁকে তুমি ঠিক করলে, নেচে নেচে একটা গান গাইবে। গান শুরু করলে তোমার গানের ধরন অনুযায়ী মাস্ক পরা মানুষটাকেও ঠিকঠাক নাচতে করতে হবে। আবার তোমার কথাবার্তার ধরন অনুযায়ী সে-ও তার হাত-পা নাড়াবে, প্রয়োজনে ছোড়াছুড়ি করবে। তোমার নির্দেশনা হুবহু নকল করতে হবে তাকে। তবেই মিলবে সত্যিকারের উপস্থিতির অনুভূতি।

রেকিমটোর মতে, এ ধরনের শরীরী উপস্থিতির মাধ্যমে ভিডিও কনফারেন্সকে আরো বেশি বাস্তবসম্মত মনে হবে। তবে এমন সশরীরে অন্যের প্রতিনিধিত্ব করার মতো মানুষ আদৌ ভাড়ায় মিলবে কি না সেটাও একটা প্রশ্ন বটে। তার আগ পর্যন্ত তোমরা নিজেরা নিজেরা এমন মানব-উবার সাজতেই পারো। কে কতটা বাস্তবসম্মত অঙ্গভঙ্গি করতে পারছে, সেটা নিয়ে একটা খেলাও হয়ে যেতে পারে।

     —জুবায়ের আহম্মেদ

মন্তব্য