kalerkantho

বুধবার । ১৭ জুলাই ২০১৯। ২ শ্রাবণ ১৪২৬। ১৩ জিলকদ ১৪৪০

টেক টাশকি

স্মার্ট কাকতাড়ুয়া

৩০ জুন, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



স্মার্ট কাকতাড়ুয়া

প্রযুক্তিজগতের আরেক মজার আবিষ্কার স্মার্ট কাকতাড়ুয়া। এতে কাক পালিয়ে যাক বা না যাক, হুড়মুড় করে পালাবে বুনো পাখির দল। বিশেষ করে ফলের বড় বড় বাগানগুলোয় যে পাখিরা হানা দেয়, তাদের তাড়াবে লেজার রশ্মি ছোড়ার যন্ত্রটা।

বার্ড কন্ট্রোল গ্রুপ নামের একটি আমেরিকান প্রতিষ্ঠান তৈরি করেছে লেজার ছোড়ার যন্ত্রটি। এর মাধ্যমে একটি শক্তিশালী সবুজ লেজার বিচ্ছুরিত হতে থাকবে বাগানজুড়ে। পাখির দল এ আলো দেখে হবে বিভ্রান্ত। তারা ভাববে, একটা সবুজ দানব বুঝি ছুটে আসছে তাদের দিকে।

‘আমরা পরীক্ষা করে দেখেছি, কোন আলোটা পাখির চোখের ভেতর দিয়ে মাথায় বেশি প্রভাব ফেলে। তাতে লালের চেয়ে সবুজ রংটাই বেশি কার্যকর দেখা গেছে।’ জানালেন কম্পানির সিইও স্টেইনার হেনসকেস। তাঁর মতে, এই যন্ত্রের একটা ফিল্টার ব্যবহার করা হয়েছে। যাতে পাখির কোনো ক্ষতি হবে না।

পাখিপ্রেমীরা এমন যন্ত্রকে কিছুতেই মেনে নিতে না পারলেও ফলচাষিরা অবশ্য খুশি। ওরেগন রাজ্যের এক ব্লুবেরি চাষি জানালেন, এই আধুনিক কাকতাড়ুয়ার কারণে তাঁর ব্লুবেরির উত্পাদন বেড়েছে আড়াই লাখ কেজিরও বেশি। আট লাখ টাকা খরচ হলেও এ যন্ত্রের কারণে তার বেঁচেছে ৯০ গুণ বেশি মূল্যের ফল।

তবে লেজারটা সব ধরনের পাখি তাড়ায় না। বিশেষ করে ইগল বা বাজপাখির কিছু যায়-আসে না এ ধরনের আলোয়। অবশ্য ওইসব শিকারি পাখি নিয়ে খামারিদের টেনশনও নেই।

টেনশনে আছেন পরিবেশপ্রেমীরা। তাঁদের কথা হলো, পাখির সরাসরি ক্ষতি না হলেও এ ধরনের রশ্মি পাখির চোখের ক্ষতি করতে পারে। এ নিয়ে কোনো পরীক্ষাও করা হয়নি। এরই মধ্যে শখানেক ফলচাষি লেজারটি কিনেছেন। বছর শেষে সংখ্যাটা বাড়বে কয়েক গুণ। চারপাশে এত এত লেজারের ছড়াছড়িতে দেখা যাবে, উড়ে গিয়ে বসার জায়গাটাও পাচ্ছে না পাখিরা।

     —আশিকুর রহমান

মন্তব্য