kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৭ জুন ২০১৯। ১৩ আষাঢ় ১৪২৬। ২৩ শাওয়াল ১৪৪০

তারার বৈশাখ

‘ধরো তোমার সামনে একটা রঙিন প্রজাপতি’

আরিফিন শুভ, চিত্রতারকা

৭ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



‘ধরো তোমার সামনে একটা রঙিন প্রজাপতি’

‘বৈশাখের আনন্দ কৈশোরেই। কর্মজীবনে এসে বৈশাখের সেই আনন্দ আর কোথায়! এই দেখেন, সিনেমার শুটের চাপে ভর্তা হয়ে যাচ্ছি। মানসিক আর কায়িক পরিশ্রম দুটিই। এখন মনে হচ্ছে, ঘুম ছাড়া বৈশাখে আর কোনো পরিকল্পনা নেই। বৈশাখের দিন শুটিং থাকে না, তবে কাজের স্বার্থে নানা দিকে যেতে হয়। নিজের মনমতো ঘোরাঘুরি বা পরিবারকে সময় দেওয়া হয় না। মন চাইলেও ঘুরতে পারি না।

কৈশোরে ময়মনসিংহের বৈশাখ ছিল অন্য রকম। সেখানেই হয়তো শেষ বৈশাখের আনন্দ উপভোগ করেছি। এরপর কর্মজীবনে আসার পর আর সেই সুযোগ হয়নি। তখন বৈশাখের জামা পরে সকাল সকাল মেলায় যেতাম। পান্তা ইলিশ খেতাম। চড়তাম নাগরদোলায়। কিনতাম খই-সন্দেশ, আর চিনির হাতি-ঘোড়া তো অবশ্যই। সেগুলো নিয়ে নদীর পার ধরে হাঁটতাম বন্ধুদের নিয়ে। নির্জনে কোথাও গাছের ছায়ায় বসে চলত আড্ডা-গল্প। কারণ কোলাহলে তো বেশি কিছু দেখার থাকে না। তাই নির্জনে নিজেদের মতো সময়টাকে স্মরণীয় করে রাখতাম।

টিনএজ সময়টাই আনন্দের, তাদের জন্য আলাদা করে টিপস দেওয়ার কিছু নেই। আমি নিজে রঙিন জামা পরে রিকশায় ঘুরে বেড়ানো মিস করি খুব। তবে দলছুটের টিনএজার পাঠকদের জন্য একটা অনুরোধ আছে। তারা যাতে উত্সবের চেয়ে সামাজিক মাধ্যমকে বেশি গুরুত্ব না দেয়। ভার্চুয়াল বৈশাখের পরিবর্তে যেন বাস্তবের বৈশাখ উপলব্ধি করে। সেটা আরো রঙিন। ধরো তোমার সামনে দিয়ে একটি রঙিন প্রজাপতি উড়ে যাচ্ছে, কিন্তু তুমি ব্যস্ত স্মার্টফোনের নোটিফিকেশনে। কিছুক্ষণ পর কেউ সেই প্রজাপতির ছবিটাই তুলে শেয়ার দিচ্ছে, তুমি তাতে লাইক দিচ্ছ। আর ভাবছ, প্রজাপতিটা তো আমার পাশেই ছিল। ভাবো, বাস্তবে প্রজাপতিটা আরো কত বেশি রঙিন লাগত। তাই প্রথমে আনন্দ উপভোগ করো, পরে সুযোগ পেলে তা পৃথিবীকে জানাও। নববর্ষের প্রথম দিন থেকে এই ব্রত নিতেই পারো।’

শ্রুতিলিখনঃ  নাঈম সিনহা

মন্তব্য