kalerkantho

শনিবার । ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৬ রবিউস সানি               

অবাক পৃথিবী

বিমানে চড়ে উড়ালমানব বাংলাদেশে

উড়োজাহাজে বছরে প্রায় তিন লাখ মাইল ওড়েন। সেসব গল্প প্রকাশ করেন ভিডিও ব্লগে। পেয়েছেন দুনিয়াজোড়া খ্যাতি। সম্প্রতি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের আমন্ত্রণে দেশে এসেছেন উড়ালমানব স্যাম চুই। তাঁর ওড়াওড়ির গল্প শোনাচ্ছেন জুবায়ের আহম্মেদ

১০ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বিমানে চড়ে উড়ালমানব বাংলাদেশে

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি বোয়িং এয়ারক্রাফটে স্যাম চুই

জন্ম তাঁর চীনে। তবে ঘুরে বেড়ান দুনিয়াজুড়ে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাঁকে নিয়ে দারুণ হৈচৈ। আছে লাখ লাখ ফলোয়ার। আপডেট দেন নিয়মিত। যাদের তর সইছে না তাদের জন্য স্যামের চ্যানেলের লিংকটা আগেই দিয়ে রাখি www.youtube.com/user/N178UA

শৈশব থেকেই আকাশে ওড়ার স্বপ্ন স্যাম চুইয়ের। ঠিক করলেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ওড়াওড়ি নিয়ে এটা-ওটা লিখবেন। এভাবেই শুরু তাঁর এভিয়েশন ব্লগিং। সেই শখই এখন তাঁর পেশা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এ পর্যন্ত উড়েছেন ১০০টি দেশে। চড়েছেন ১৮০০-এরও বেশি ফ্লাইটে। বলতে গেলে কোনো এয়ারলাইন্সই বাদ রাখেননি। বাদ রাখেননি বড় কোনো শহর। সবখানেই পেয়েছেন সমাদর। এবার বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সুবাদে সে তালিকায় যোগ হলো খাঁটি বাঙালি আতিথেয়তাও।

বিশ্বের সবচেয়ে নামকরা নির্মাতাপ্রতিষ্ঠান বোয়িং কম্পানির সঙ্গেও তাঁর রয়েছে দারুণ সব অভিজ্ঞতা। বোয়িংয়ের খুটিনাটি অনেক কিছু জানতে পাবে তাঁর চ্যানেলে। আবার কোন ফ্লাইটে কী খেয়েছেন, কোনটার ককপিট কেমন, বিশ্বের সবচেয়ে বিলাসবহুল প্রাইভেট জেটে কী আছে, ফ্লাইট অ্যাটেন্ডডেন্টদের মজার মজার কাণ্ড, ইন-ফ্লাইট বিনোদন, আকাশপথে দীর্ঘতম ভ্রমণ সবই আছে ওতে।

১৫ ঘণ্টা উড়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সে চড়ে গত ৪ মার্চ লন্ডন থেকে সিলেট হয়ে ঢাকায় এসেছেন স্যাম চুই। এসেই জানালেন, বিমানে তাঁর বেশি ভালো লেগেছে বিমানকর্মীদের আতিথেয়তা। বিশেষ করে বয়োবৃদ্ধ যাত্রীদের প্রতি ক্রুদের যত্ন-আত্তি তাঁর মন ছুঁয়ে গেছে।

স্যামের ইউটিউব চ্যানেলের সাবসক্রাইবার ৯ লাখ ৭০ হাজার। শুধু উড়োজাহাজ বিষয়ক চ্যানেলের জন্য সংখ্যাটা নেহাত মন্দ নয়। স্যামের ইউটিউব ব্লগিংয়ের জন্য কোনো ক্যামেরাম্যান, সাউন্ডম্যান বা লাইটম্যান নেই। নিজেই সর্বেসর্বা। মাঝেমধ্যে সহযাত্রীদের সাহায্য নিয়ে ভিডিও করেন। তাঁর ভিডিওগুলো বছরে প্রায় ২১ কোটি ভিউ পায়।

বাংলাদেশে স্যাম চুইয়ের ভক্ত অনেক। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পা রাখতেই ভিড় জমায় অনেকে। সেলফি তুলতে তুলতেই সময় পার। ভক্তদের বেশির ভাগই তরুণ। এক ভক্ত তো পাবনা থেকে সারা রাত ট্রেনে দাঁড়িয়ে ঢাকায় এসেছেন শুধু স্যামকে দেখবে বলে। স্যাম জানালেন, ‘সর্বশেষ ২০১৪ সালে বাংলাদেশে এসেছিলাম। তারপর সোশ্যাল মিডিয়া  ফেসবুক, ইন্সটাগ্রামে এখানকার অনেক লোকের বার্তা পেয়েছি। অধিকাংশই কিশোর-কিশোরী ও বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া। তাদের অনেকেরই এখনো উড়োজাহাজে চড়ার সুযোগ হয়নি। তবে এভিয়েশন নিয়ে জানাশোনা ও কৌতূহল অনেক। ঠিক করেছিলাম, পরে বাংলাদেশে এলে তাদের আমার সঙ্গে ওড়াব।’

ফেসবুক ও ইন্সটাগ্রামে নিজের ই-মেইল এড্রেস জানিয়ে কয়েকজনকে বাছাইও করেছিলেন স্যাম। তাঁর সঙ্গে চার তরুণ ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে ওড়ার সুযোগও পেয়েছেন ইতিমধ্যে। তাঁরা হলেন সুরাইয়া রহমান, খালিদ হাসান আসিফ, মোহাম্মদ লাবিব খান ও হাসিবুল হোসেন। ৭ মার্চ বাংলাদেশ থেকে ওমানে যাওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।

মন্তব্য