kalerkantho

অনিবার্য কারণে আজ শেয়ারবাজার প্রকাশিত হলো না। - সম্পাদক

রহস্যজট

মেঝে খুঁড়ে

ফারহান নাসের

৭ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



মেঝে খুঁড়ে

অঙ্কন : মাসুম

গত রাতে চুরি হয়েছে মিজান ব্যাপারীর বাড়িতে। প্রায় দশ ভরির মতো স্বর্ণ গায়েব। ইট-সিমেন্টের একতলা বাড়ির ভেতরের একটি রুমের সিন্দুকে ছিল গয়না। চোর বেটা সিন্দুকটাই গায়েব করে দিয়েছে। সেই প্রাচীন আমলের সিন্দুক। দেখতে চিকন হলেও ওটার ওজন কমছে কম ৩০ কেজি। 

সিন্দুকটা যে রুমে ছিল, ওই রুমের  মেঝেতে গোলগাল একটা ফুটো। মিজান ব্যাপারীর ছয় রুমের বড় বাড়িটার মধ্যে একমাত্র ওই রুমেই কেউ রাতে থাকত না। বাড়ির পেছনের জংলামতো জায়গায় একটা বহুকাল আগে পুঁতে রাখা মোটা পাইপ আছে। মাসখানেক ধরে বৃষ্টির দেখা নেই, তাই জায়গাটা খটখটে শুকনো। ওই পাইপ দিয়েই ভেতরে ঢুকে ওপরের সিলিংয়ে দিনের পর দিন গর্ত খুঁড়েছে চোর। কেউ কিছুই টের পায়নি! অথচ চোর ঠিকই ধরতে পেরেছিল যে ওই সিলিং খুঁড়লেই ঢুকে পড়া যাবে মিজান ব্যাপারীর সিন্দুকের ঘরে।

দেড় ফুট ব্যাসের গর্তটা দিয়ে একজন মাত্র মানুষ ঢুকতে ও বের হতে পারবে। কোনোভাবেই দুজন দাঁড়াতে পারবে না। নিখুঁত গোল করে কাটা গর্ত দেখে স্পষ্ট বোঝা যায়, ওটা বেশ সময় নিয়ে ধারালো কিছু দিয়ে কাটা হয়েছে। তা ছাড়া চুরির রাতে মেঝে কাটার সময় কেউ টেরও পায়নি।

এমনিতে মিজান ব্যাপারীর জমজমাট সংসার হলেও চুরির রাতে বাড়িতে ছিল মাত্র পাঁচজন লোক। বহুদিনের বুড়ো কেয়ারটেকার রহিম বকশি, বাড়িতে বেড়াতে আসা বকশির ছোট ছেলে করিম, মিজান ব্যাপারীর দূরসম্পর্কের এক বোন ও তার স্বামী সুমন মিয়া আর মিজান ব্যাপারী নিজে।

মিজান ব্যাপারী বারবার বলছেন, ঘরের কেউ এ ব্যাপারে কিছুই জানে না। এ অতি চালাক কোনো চোরের কাজ। তবে এখনো কাউকে বলেননি যে কত টাকার গয়না চুরি হলো। যথারীতি পুলিশ এলো। ইন্সপেক্টর কিরণকে পুরো ঘটনা জানালেন মিজান। এলাকার মানুষও অবশ্য জেনে গেল চুরির বিষয়টা। তারা শুধু জানে, গয়না চুরি হয়েছে। কয় ভরি ছিল, তা জানে না।

চুরির জন্য এর আগে ধরা পড়েছে এমন তিন সাবেক চোরের ডাক পড়ল। আসা মাত্রই ওরা একচোট মার খেল গ্রামবাসীর হাতে। কিন্তু তিন চোরের কেউই স্বীকার করছে না। স্বীকার করার কথাও না। চোর জানে, গ্রামবাসীর নরম মন। তারা কাউকে পিটিয়ে মেরে ফেলবে না। আর এ যাত্রা বেঁচে গেলে নগদ সাত-আট লাখ টাকার মালিক বনে যাবে সে।

ইন্সপেক্টর কিরণ তিন চোরের দিকে তাকালেন। তিনজনই হাত বাঁধা অবস্থায় কাঁচুমাচু করে বসে আছে আর নকল কান্না জুড়ে দিয়েছে। হাসু, কাসু আর মতলব। তিনজনই দেখতে একই রকম। খালি গা আর লুঙ্গি পরা।

ভালো করে তিনজনের শরীরের নানা অংশ দেখলেন ইন্সপেক্টর। হাসুর হাতে-পায়ে কালশিটে দাগ, কাসুর পায়ে কাটাছেঁড়ার শুকিয়ে যাওয়া দাগ আর মতলবের পা একেবারে চকচকে। ঘটনাস্থলে হাজির রহিম বকশি ও তার ছেলে করিম। ওই দুজনকেও দেখল কিরণ। করিমের ডান হাত চলছে না। দেখে মনে হবে, এক হাত ভাঙা। জিজ্ঞেস করতেই বলল, ‘ডান হাতে বিশেষ জোর নাই। কান্ধে ব্যথা আছে আমার।’ ‘কী হইছে আবার! কাইল না দেখলাম মোটরসাইকেল চালাইতেছ?’ বিরক্ত হয়ে বললেন মিজান ব্যাপারী। ‘এই সব মোটরসাইকেল না দাপাইয়া আমার লগে লেদ মেশিনের ওয়ার্কশপে কাম করলেই পারো।’ বলল সুমন মিয়া।

‘ভাই, আমারেও একটা কাম দিয়েন। আমি তো চুরিদারি ছাইড়া দিছি।’ বলল হাসু। কাসু বলল, ‘আমারে যে কেন ধরছেন, এমুন একটা সিন্দুক চুরি করতে পারলে তো আমি কবেই পলাইতাম। বলা মাত্তর এইখানে হাজির হইতাম না। মতলব বলল, ‘আমার শইললে জোর নাই। এই সব গর্ত খোঁড়া আমার কাম না, স্যার। আমারে আপনি দেখেন। একটুতেই হাঁপাইয়া যাই।’

ইন্সপেক্টর কিরণ মিজান ব্যাপারীর কানে কানে কী যেন জানতে চাইলেন। মিজান ব্যাপারী দ্রুত মাথা নাড়িয়ে বললেন, না না! অবশ্যই না! কেউ ঢোকেই তো নাই!

ইন্সপেক্টর কিরণ এবার চোরের দিকে তাকিয়ে হাসলেন। ‘ধরা তো পড়ছিসই, সঙ্গে তোর শাগরেদ কে, সেটাও বুঝতে পেরেছি। আর শাগরেদ ছাড়া যে চুরি করতে পারবি না, সেটাও জানা কথা।’

এবার বলো, চোর কে ও তার সঙ্গী কে? সঙ্গী ছাড়া কেন চোর চুরি করতে পারবে না?

গত রহস্যজটের উত্তর

লাইসেন্সে তারিখ দেওয়া ২৯ ফেব্রুয়ারি। কিন্তু ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসটা ২৮ দিনের।

মন্তব্য