kalerkantho

বুধবার । ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ১ ডিসেম্বর ২০২১। ২৫ রবিউস সানি ১৪৪৩

যেভাবে চাকরি পেলাম

অনার্স পড়াকালেই বিজেএসের প্রস্তুতি শুরু করেছি

সোহেল ভূইয়া, সহকারী জজ, জেলা ও দায়রা জজ আদালত, মৌলভীবাজার (১১তম বিজেএস)

২৩ অক্টোবর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



অনার্স পড়াকালেই বিজেএসের প্রস্তুতি শুরু করেছি

নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার রাজিউদ্দীন আহমেদ রাজু উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০০৯ সালে এসএসসি (মানবিক) এবং কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার হাজী আসমত কলেজ থেকে ২০১১ সালে এইচএসসি পাস করি। উভয় পরীক্ষায়ই কাঙ্ক্ষিত ফল অর্জনে ব্যর্থ হই।

২০১১-১২ শিক্ষাবর্ষে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিষয়ে ভর্তির সুযোগ পাই।

প্রত্যন্ত গ্রামের স্কুল-কলেজে পড়াশোনা করায় বইয়ের বাইরে খুব বেশি কিছু জানার সুযোগ কিংবা গাইডলাইন কোনোটাই পাইনি। বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম দিন ওরিয়েন্টেশন ক্লাসে আইন বিভাগের চেয়ারম্যান স্যার আমাদের লক্ষ্য সম্পর্কে জানতে চান; তখনই বিচারক হওয়ার ইচ্ছার কথা জানাই। বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিদিনের ক্লাসের পড়া বাসায় গিয়ে পড়ে ফেলতাম আর সঙ্গে সঙ্গে নোট করে রাখতাম। একাডেমিক পড়ার বাইরে প্রতি মাসের সাধারণ জ্ঞানভিত্তিক মাসিক পত্রিকা ও দৈনিক পত্রিকা পড়ার চেষ্টা করতাম।

সাধারণ জ্ঞানের মৌলিক বিষয়বস্তু আয়ত্তে আনার জন্য বাজার থেকে প্রচলিত একটি বই জোগাড় করেছিলাম। অনার্স তৃতীয় বর্ষ থেকেই বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) পরীক্ষার সাধারণ বিষয়গুলো নিয়ে প্রস্তুতি শুরু করেছি। প্রিলিমিনারি পরীক্ষার এক সেট বই থেকে প্রতিদিনই কয়েক পৃষ্ঠা করে একাডেমিক পড়ার পর পড়তাম। ফলে বিজেএস পরীক্ষার সাধারণ বিষয়গুলোর প্রস্তুতি অনেকটাই হয়ে যায়। পাশাপাশি বাংলার জন্য নবম-দশম শ্রেণির মুনীর চৌধুরীর বাংলা ব্যাকরণ বোর্ড বই, গণিতের জন্য ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির গণিতের বই এবং ইংরেজির জন্য মাধ্যমিক পর্যায়ের অ্যাডভান্স গ্রামার বই অনুসরণ করতাম। এ ছাড়া বাজারের প্রচলিত বেশ কয়েকটি গ্রামার বইও প্রস্তুতির জন্য সহায়ক হয়েছে। অনার্স চতুর্থ বর্ষ থেকে বিজেএস পরীক্ষার আইনবিষয়ক সিলেবাস সংগ্রহ করে মূল আইনের বইগুলো পড়তে থাকি।

আইনের ছাত্র হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের ক্লাসগুলো মনোযোগ সহকারে করতাম এবং বাসায় গিয়ে নোট করার ফলে আইনের ধারণাগুলো আমার কাছে সহজেই আয়ত্ত হয়ে যায়। সব সময় মূল আইনের বইগুলোকেই আমি প্রাধান্য দিয়েছি। মূল আইনের বইয়ের পাশাপাশি আইন পাঠ (প্রথম ও দ্বিতীয় খণ্ড) প্রিলিমিনারি পরীক্ষার বই এবং বাংলাদেশ বার কাউন্সিল প্রিলিমিনারি পরীক্ষার বই পড়েছি। কোচিং সেন্টারের ওপর নির্ভর না করে নিজে নিজেই পড়ার চেষ্টা করেছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস করে বাসায় এসে বিশ্রাম নিয়ে যতটুকু সময় পেতাম এবং ছুটির দিনগুলোতেও পড়াশোনা করতাম।

উল্লেখ্য, বিজেএস প্রিলিমিনারির পর আমার স্মার্টফোন নষ্ট হয়ে যায়। এরপর আমার মনে হলো, স্মার্টফোন না থাকায় আগের চেয়ে আরো মন দিয়ে বিজেএস লিখিত পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে পেরেছি। টানা ১০টি লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এ কারণে ভিন্ন ভিন্ন বই থেকে প্রস্তুতি নিলে পরীক্ষার আগের রাতে সব বিষয় পড়ে শেষ করা কঠিন! তাই কোন বিষয়ে কোন বই থেকে প্রস্তুতি নেব, সেটা আগেই নির্ধারণ করা ছিল। নোট করা থাকলে পরীক্ষার আগের দিন চটজলদি চোখ বুলিয়ে নেওয়া যায়।

গ্রন্থনা : এম এম মুজাহিদ উদ্দীন