kalerkantho

সোমবার । ৯ কার্তিক ১৪২৮। ২৫ অক্টোবর ২০২১। ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

যেভাবে চাকরি পেলাম

পড়ার সময়টা ভাগ করে নিয়েছিলাম

আরজুমা আকতার, সহকারী পুলিশ সুপার (৩৭তম বিসিএস)

১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



পড়ার সময়টা ভাগ করে নিয়েছিলাম

পঞ্চম শ্রেণিতে সাধারণ বৃত্তি পেয়েছিলাম। অষ্টম শ্রেণিতে ট্যালেন্টপুল বৃত্তি। আমাদের গ্রামের স্কুলে আমিই ছিলাম এসএসসিতে প্রথম এ-প্লাস পাওয়া শিক্ষার্থী। এইচএসসিতেও (বিজ্ঞান) এ-প্লাস মিস হয়নি। এরপর মেডিক্যাল ভর্তি পরীক্ষা দিই, কিন্তু চান্স পাইনি। পরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে রসায়ন বিভাগে ভর্তি হই।

স্নাতকে পড়াশোনার শুরুতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়ার জন্য একাডেমিক পড়াশোনায় মন দিই। স্নাতকে সিজিপিএ ৩.৬৩ নিয়ে বিভাগে চতুর্থ ও স্নাতকোত্তরে জিপিএ ৩.৯২ নিয়ে প্রথম স্থান অধিকার করি।

 

চতুর্থ বর্ষ থেকে বিসিএসের জন্য টুকটাক পড়াশোনা শুরু করি। স্নাতকোত্তরে ওঠার পর থেকে পুরোদমে বিসিএসের প্রস্তুতি নিতে থাকি। একাডেমিক পড়াশোনা, থিসিস, বিসিএসের পড়াশোনা সব কিছু সমন্বয় করে পড়ালেখা করতে হয়েছে। সব কিছুই ছিল রুটিনমাফিক। সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাসে যেতাম। প্রতিদিন বিকেলে বিসিএসের পড়াশোনা করতাম। সন্ধ্যার পর থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত ডিপার্টমেন্টের পড়াশোনা করতাম। তারপর রাত ১টা বা ২টা পর্যন্ত আবার বিসিএসের পড়াশোনা। বিসিএসের জন্য একসঙ্গে অনেক বিষয় নিয়ে বসতাম না। প্রতিদিন গণিত আর ইংরেজির পাশাপাশি দু-একটা বিষয় রুটিনে রেখেছিলাম। সপ্তাহ শেষে রিভিউ করতে গিয়ে দেখতাম সব বিষয়ই কাভার হয়ে গেছে। জব সলিউশন দেখতাম বিশ্রামের সময়ে, প্রতিদিন একটি নির্দিষ্ট সালের প্রশ্নপত্র নির্ধারণ করতাম।

সালভিত্তিক প্রশ্ন দেখার ক্ষেত্রে কোনো ধারাবাহিকতা রাখতাম না। ‘জব সলিউশন শেষ করতেই হবে’ এমনটা ভেবেও চাপ নিইনি।

বই খুললে যেটা সামনে আসত, সেটাই পড়তাম। পড়া শেষে সেটা দাগিয়ে রাখতাম। ইংরেজিতে প্রস্তুতির ক্ষেত্রে গ্রামারের রুলসগুলো বুঝে বুঝে পড়তাম। তারপর সালের প্রশ্ন পড়ার সময় গ্রামারের রুলসগুলোর সঙ্গে রিলেট করার চেষ্টা করতাম। ইংরেজি সাহিত্যের ক্ষেত্রে যুগ, বিভাগ, বিখ্যাত সাহিত্যিকদের উল্লেখযোগ্য কর্ম, বিভিন্ন কোটেশন ইত্যাদি আত্মস্থ করতাম।

 

অনুবাদ করতাম বই দেখে নিয়মিত। বাংলার প্রস্তুতি নিয়েছি বাজারের প্রচলিত দুটি বই থেকে। গুরুত্বপূর্ণ সাহিত্যিকদের দরকারি তথ্যগুলো দেখেছি। ব্যাকরণের জন্য নবম-দশম শ্রেণির মুনীর চৌধুরীর লেখা বইটি সম্পূর্ণ পড়েছি। বিগত সালে বিসিএস, ব্যাংকসহ বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় আসা প্রশ্নগুলো অনুশীলন করেছি। গণিতের জন্য প্রতিদিন বিসিএসের বই দেখে কমপক্ষে ১০টি অঙ্ক হলেও করতাম। সাধারণ জ্ঞানের জন্য মানচিত্র দেখে বুঝে বুঝে পড়েছি। সাম্প্রতিক ইস্যু নিয়ে অনেকে বেশি সময় দেন; অথচ এর চেয়ে মৌলিক সাধারণ জ্ঞানে সময় দিলে কমন পাওয়া সহজ হয়। এ ছাড়া গণিত ও বিজ্ঞানে বেশি সময় দিলে নম্বর পাওয়ার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখে।

 

বিসিএস ক্যাডার হওয়ার জন্য সিলেবাসভিত্তিক পড়াশোনা করাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রিলিমিনারি ও লিখিত উভয় পরীক্ষার ক্ষেত্রেই কৌশলী হয়ে সিলেবাসভিত্তিক পড়াশোনার চেষ্টা করেছি। সিলেবাস আর বিগত সালের প্রশ্ন বিশ্লেষণের ফলে প্রস্তুতি আরো গোছানো হয়েছে।

লিখিত পরীক্ষার প্রস্তুতির সময় নিয়মিত পত্রিকা পড়তাম। গুরুত্বপূর্ণ কোটেশন ও তথ্য পেলে খাতায় নোট করে রাখতাম। পত্রিকার সম্পাদকীয় পাতা, অর্থনীতির পাতা, আন্তর্জাতিক পাতায় এসব কোটেশন ও তথ্য বেশি পাওয়া যায়। কোটেশনগুলো খাতায় বিষয়ভিত্তিকভাবে সাজিয়ে রাখতাম। লিখিত পরীক্ষায় কোটেশন, চার্ট এগুলো ব্যবহার করলে ভালো নম্বর পেতে সহায়ক হয়।

লিখিত পরীক্ষায় বাংলাদেশ বিষয়াবলিতে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার সময় বাংলাদেশ সংবিধানের রেফারেন্স দিয়ে লিখেছি। সংবিধানের রেফারেন্স বাংলাদেশ বিষয়াবলির প্রায় সব প্রশ্নের উত্তরেই ব্যবহার করা যায়। লিখিত পরীক্ষায় সব বিষয়ের প্রায় সব প্রশ্নের উত্তর দিয়ে আসার চেষ্টা করেছি।

৩৫তম বিসিএস ছিল আমার প্রথম বিসিএস। এটাতে প্রিলিমিনারি পাস করলেও লিখিত পরীক্ষায় ভালো করতে পারিনি। এরপর ৩৬তম বিসিএসের মাধ্যমে নন-ক্যাডারে সরকারি মাধ্যমিক স্কুলের শিক্ষক হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছি। পরে ৩৭তম বিসিএসে অংশ নিয়ে সব ধাপেই ভালো করেছি। আমার প্রথম পছন্দের ক্যাডার পুলিশে ৩৪তম স্থান অধিকার করে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছি।

গ্রন্থনা : এম এম মুজাহিদ উদ্দীন