kalerkantho

সোমবার । ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮। ১৪ জুন ২০২১। ২ জিলকদ ১৪৪২

নমুনা ভাইভা

ইঞ্জিনিয়ার হয়ে অ্যাডমিন ক্যাডারে কেন?

গোলাম মোর্শেদ মানিক, সহকারী সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক , ৩৮তম বিসিএস (রেলওয়ে ক্যাডার)

১ মে, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



ইঞ্জিনিয়ার হয়ে অ্যাডমিন ক্যাডারে কেন?

সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর করেছি রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট) থেকে। ৩৮তম বিসিএসের ভাইভা হয়েছিল ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে। এটি আমার জীবনের দ্বিতীয় বিসিএস। ভাইভা বোর্ডে তিনজন ছিলেন। ৮-১০ মিনিটের মতো সেখানে ছিলাম।

 

আমি : আসতে পারি, স্যার?

চেয়ারম্যান : জি, আসুন।

আমি : (প্রবেশ করেই) আসসালামু আলাইকুম, স্যার।

চেয়ারম্যান : ওয়ালাইকুমুস সালাম, বসো।

আমি : ধন্যবাদ, স্যার।

চেয়ারম্যান : So, you are...?

আমি : Sir, I am Golam Morsed...

চেয়ারম্যান : You have completed your BSC from?

আমি : From Rajshahi University of Engineering and Technology; in Civil Engineering.

চেয়ারম্যান : ‘Heavens light is our guide’ What is this? (আমার সার্টিফিকেটে লেখা ছিল)

আমি : Sir, This is the motto of our University.

চেয়ারম্যান : Is this motto or slogan?

আমি : Sir, As far as I know, This is our University motto.

চেয়ারম্যান : What is the difference between motto and slogan?

আমি : Sorry sir, I don’t have clear Idea.

চেয়ারম্যান : আচ্ছা, আপনি তো ইঞ্জিনিয়ার! বলেন তো, আমরা গ্যাস বা পানির প্রবাহের জন্য যে পাইপ ব্যবহার করি, এগুলো কোন Shape-এর হয়?

আমি : এগুলো Circular হয় স্যার।

চেয়ারম্যান : Is there any particular reason doing these as rounded shape?

আমি : Yes sir, These are designed in rounded shape to get more surface area for passing the liquid with less friction.

চেয়ারম্যান : এইটা কোন ফর্মুলা দিয়ে ডিজাইন করা হয়, যাতে ফেটে না যায়?

(ভাইভার আগের দিন চট্টগ্রাম গ্যাসলাইন বিস্ফোরণের কারণে সম্ভবত এই প্রশ্ন করা হয়েছে)

আমি : স্যরি স্যার, আমার জানা নেই।

(তারপর স্যার কোনো একটা সূত্রের কথা বললেন আর একটু রাগ করলেন)

চেয়ারম্যান : প্রথম চয়েজ কী?

(আমি বলতে যাব এর আগেই পাশের এক্সটার্নাল স্যার বলে উঠলেন, অ্যাডমিন।)

চেয়ারম্যান : কী বলেন, ঠিক কি না?

আমি : জি স্যার, ঠিক। অ্যাডমিন।

এক্সটার্নাল-১ : ইঞ্জিনিয়ার হয়ে অ্যাডমিন ক্যাডারে কেন? অর্জিত জ্ঞান কিভাবে কাজে লাগাবেন?

আমি : Sir, Present government is strongly committed to bring a renaissance in the infrastructure sector. At present 10 mega projects are being built. More other projects are at policy making stage and will be implemented in future.

1. As a civil engineer if I get chance to be part of the administration, One day I will be able to contribute to the policy making, planning and implementation of these immense super structure. I have technical knowledge about building and construction of superstructures. So I can well utilize my engineering knowledge and share my technical ability with other working mates in administration.

2. Sometimes a technical gap becomes created between policy makers and government engineers because of misunderstanding. So, Being a civil engineer if I become a part of the policy making team, I can be a bridge over engineers and policymakers.

এক্সটার্নাল-১ : পলিসি মেকিং তো পরে করবেন। এখন কিভাবে কাজে লাগাবেন?

আমি : মাঠ পর্যায়ে কাজ করার সময় উপজেলার অনেক উন্নয়নমূলক অবকাঠামোগত কাজ করা হয়। এগুলো তদারকির সময় কোনো গাফিলতি বা ভুলত্রুটি হলে তা ধরতে পারব, সংশোধন করতে পারব। কারণ আমার ইঞ্জিনিয়ারিং জ্ঞান আছে।

চেয়ারম্যান : এর মানে আপনি বলতে চাইছেন, কন্ট্রাক্টর চুরি করলে আপনি সেটা ধরে ফেলবেন! তাই তো?

আমি : স্যার, অনেকটা এ রকমই (সবাই জোরে জোরে হাসলেন, আমিও হেসে দিলাম)।

এক্সটার্নাল-২ : আচ্ছা, যশোরের ওই দিকে সেপ্টেম্বর মাসে যেন কী হয়েছিল, জানা আছে?

আমি : জি, ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় শরণার্থীরা যশোর দিয়ে ভারতে গিয়েছিল।

এক্সটার্নাল-২ : এ সম্পর্কিত কোনো গান বা কবিতা কেউ লিখেছেন?

আমি : জি, অ্যালেন গিন্সবার্গ লিখেছেন, ‘সেপ্টেম্বর অন যশোর রোড’ নামক কবিতা।

এক্সটার্নাল-২ : পড়েছেন কবিতাটা?

আমি : জি, পড়েছি।

এক্সটার্নাল-২ : এটা বাংলা গান আকারে কে গেয়েছেন এবং বাংলায় কে অনুবাদ করেছেন জানেন?

আমি : স্যরি, আমার জানা নেই।

এক্সটার্নাল-২ : গানটা শোনেননি?

আমি : না-সূচক মাথা নাড়ালাম

(হুট করে এক্সটার্নাল-১ প্রশ্ন করলেন)

এক্সটার্নাল-১ : রবীন্দ্রনাথ কত সালে নোবেল পুরস্কার পান?

আমি : ১৯১৩ সালে।

এক্সটার্নাল-১ : এ পর্যন্ত কতজন বাঙালি নোবেল পেয়েছেন এবং কে কে?

আমি : স্যার, চারজন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, অমর্ত্য সেন, ডক্টর মুহাম্মদ ইউনূস, আর...

চেয়ারম্যান : আর কে বলেন?

আমি : স্যার, নাম অভিজিৎ... (পুরো নাম অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়)

চেয়ারম্যান : ওকে, আপনি আসতে পারেন।

(উঠতে যাব, এমন সময় এক্সটার্নাল-১ চেয়ারম্যান স্যারকে বললেন, আমি আরেকটু প্রশ্ন করি...)

এক্সটার্নাল-১ : এখন কী করেন?

আমি : স্যার, সোনালী ব্যাংকে সিনিয়র অফিসার হিসেবে কর্মরত আছি।

এক্সটার্নাল-১ : এটা কী প্রথম বিসিএস?

আমি : স্যার, এটা দ্বিতীয় বিসিএস; কিন্তু প্রথম ভাইভা।

এক্সটার্নাল-১ : আচ্ছা ধরেন, আপনার পুলিশে চাকরি হলো। কিভাবে দেশের সেবা করবেন?

আমি : স্যার, আমি পুলিশ হলে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে আমার ওপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করে মানুষের সেবা করব...

চেয়ারম্যান : আচ্ছা আপনি এবার আসুন।

আমি : আসসালামু আলাইকুম। (তারপর বেরিয়ে এলাম)    

     শ্রুতলিখন : এম এম মুজাহিদ উদ্দীন