kalerkantho

সোমবার । ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮। ১৭ মে ২০২১। ০৪ শাওয়াল ১৪৪

নমুনা ভাইভা

‘সিজিপিএ এত ভালো, ভার্সিটির টিচার না হয়ে এখানে কেন?’

সীমা খানম, সহকারী পুলিশ সুপার (৩৮তম বিসিএস, পুলিশ ক্যাডার)

১৭ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



‘সিজিপিএ এত ভালো, ভার্সিটির টিচার না হয়ে এখানে কেন?’

অনার্স ও মাস্টার্স করেছি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজে। ৩৮তম বিসিএস ছিল জীবনের দ্বিতীয় বিসিএস পরীক্ষা। ভাইভা হয়েছিল ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে। বোর্ডে তিনজন ছিলেন। প্রশ্ন করেছেন ২০ মিনিটের মতো

আমি : May I come in, sir?

চেয়ারম্যান : Yes, come come, so you are seema, okay?

আমি : Yes sir

চেয়ারম্যান : Please be seated

আমি : Thank you sir

চেয়ারম্যান : (টেবিলের সামনে থাকা একটা ডকুমেন্টস, যেখানে বাংলাদেশ সরকারের লোগো আছে) এটা ব্যাখ্যা করো।

আমি : বাংলাদেশ সরকারের লোগো। ওপরে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ; নিচে সরকার লেখা, মাঝখানে ডানে-বাঁয়ে দুটি করে চারটি তারকা। এই চারটি তারকা বাংলাদেশের সংবিধানের প্রধান চারটি মূলনীতি নির্দেশ করে।

চেয়ারম্যান : সিরিয়াল অনুযায়ী বলো...

আমি : (১) জাতীয়তাবাদ (৯ নং অনুচ্ছেদ), (২) সমাজতন্ত্র (১০ নং অনুচ্ছেদ), (৩) গণতন্ত্র (১১ নং অনুচ্ছেদ),

(৪) ধর্মনিরপেক্ষতা (১২ নং অনুচ্ছেদ)।

চেয়ারম্যান : বাংলাদেশ সরকারের লোগো গোল কেন?

আমি : স্যার, মনে হয় পৃথিবী গোল এই জন্য!

চেয়ারম্যান : বানিয়ে বানিয়ে বলতেছ? (মুচকি হেসে)

আমি : জি স্যার!

এক্সটার্নাল ম্যাডাম : বাংলাদেশে কেন বিদেশিরা বিনিয়োগ করবে?

আমি : Bangladesh is a beautiful country. Bangladesh now is a role model of development. Here some benefits are available for foreigners like :

- Cheap labor.

- Prime minister’s endeavor to change the economic condition of Bangladesh.

- Hundred economic zones.

- One stop service for foreign investment.

- Earned profit can be sent to mother country by investors.

এক্সটার্নাল স্যার : বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির মূলনীতি কী?

আমি : ‘Friends to all, malice to none’ সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারোর সঙ্গে শত্রুতা নয়।

এক্সটার্নাল স্যার : আচ্ছা, বাংলাদেশের সঙ্গে ইসরায়েলের কি খুব ভালো সম্পর্ক, নাকি খারাপ?

আমি : স্যার, কোনো সম্পর্ক নেই।

এক্সটার্নাল স্যার : ফিলিস্তিনের সঙ্গে সম্পর্ক আছে আবার ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক নেই, তাহলে তো পররাষ্ট্রনীতির মূলনীতির পরিপন্থী হয়ে গেল না?

আমি : বাংলাদেশের সংবিধানের ২৫ নং ধারা অনুযায়ী, বিশ্বের নিপীড়িত মানুষের ন্যায়সংগত সংগ্রামের পক্ষে বাংলাদেশ অবস্থান করবে। তাই ফিলিস্তিনের পক্ষে সমর্থন থাকায় ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক নেই। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির মূলনীতি হলো—‘Friends to all, malice to none’ (সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারোর সঙ্গে শত্রুতা নয়)। যেহেতু ফিলিস্তিনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক আছে। তাই ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক না থাকলেও পররাষ্ট্রনীতির মূলনীতির পরিপন্থী নয়।

চেয়ারম্যান : কেন ফরেন প্রথম, অ্যাডমিন দ্বিতীয় ও পুলিশ তৃতীয়?

আমি : ফরেন ক্যাডার প্রথম চয়েজ, কারণ আমি মনে করি আমার একাডেমিক পড়াশোনার সঙ্গে খুব বেশি রিলেটেড।

বিদেশ ভ্রমণের সুবিধা আমাকে খুব আকৃষ্ট করে। এ জন্য আমি অলরেডি ফ্রেঞ্চ ভাষা শেখার কোর্সও করেছি। বিদেশি একটি ভাষা শিখেছি। আর আ্য্যডমিন ক্যাডারও আমার সাবজেক্টের সঙ্গে খুবই রিলেটেড। পাবলিক ম্যানেজমেন্ট, যেটা আমার অর্জিত জ্ঞানের বাস্তবিক প্রয়োগ ঘটার সুযোগ থাকবে। এ ছাড়া পুলিশের পদসংখ্যা বেশি, সে জন্য তৃতীয় চয়েসে দিয়েছি।

চেয়ারম্যান : তোমার অনার্সের পঠিত সাবজেক্টের সঙ্গে ফরেন ক্যাডারের সম্পর্ক কী?

আমি : আমি ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজে পড়েছি। ম্যানেজমেন্ট মানে ব্যবস্থাপনা আর ফরেন সার্ভিসের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ব্যবস্থাপনা করা হয়। তাই সাবজেক্টের সঙ্গে পুরোপুরি রিলেটেড।

চেয়ারম্যান : ধরো, তুমি বিদেশে। সেখানে বিদেশিদের কাছে বাংলাদেশকে পরিচয় করিয়ে দাও।

আমি : Hello everyone! Nice to meet you. This is Seema Khanam from People’s Republic of Bangladesh. Bangladesh is a beautiful country.

World largest sea beach Cox’s bazar is here. Now Bangladesh is a role model of development. Bangladesh is a safeguard for foreign investment.

One stop service is available here. We believe friendship is to all malice to none. So welcome to Bangladesh. See you again.

চেয়ারম্যান : আজকের পত্রিকা পড়েছ? কী ছিল শিরোনাম?

আমি : জি স্যার পড়েছি। শিরোনাম...

চেয়ারম্যান : তুমি বিবাহিত। তোমার হাজব্যান্ড ক্যাডার সার্ভিসে না? তিনি কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে কোন সাবজেক্টে পড়াশোনা করেছেন?

আমি : জি স্যার। সে ক্যাডার সার্ভিসে আছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজে পড়াশোনা করেছে।

চেয়ারম্যান : তোমার সঙ্গে মিলে যাচ্ছে।

আমি : স্যার, আমরা আসলে ক্লাসমেট।

চেয়ারম্যান : এই কথা বলো নাই কেন?

আমি : বিয়ে হয়েছে এক মাস হয়েছে।

চেয়ারম্যান : তাহলে তো সব নতুন।

আমি : বাংলাদেশের নারীরা এত এগিয়েছে।

তোমার হাজব্যান্ড ক্যাডার, তুমি তো পিছিয়ে গেছ। তোমার সিজিপিএ এত ভালো, ভার্সিটির টিচার না হয়ে এখানে আসছ কেন?

(এই কথা শুনে এক্সটার্নাল ম্যাম বলেছেন—ও যখন খুশি ভার্সিটির টিচার হতে পারবে; কিন্তু সিভিল সার্ভিসের একটা প্রসিডিউর আছে, এখানে এজ লিমিট আছে। সব সময় চাইলেও সম্ভব নয় বিসিএসে আসা।)

চেয়ারম্যান : ব্যাংকে এক্সাম দাওনি? কোনো জবে আছ?

আমি : জি না স্যার, ব্যাংকে এক্সাম দিইনি। কোনো জব করি না।

এক্সটার্নাল স্যার : ‘ভ্রমর কইয়ো গিয়া’ একটা গান আছে না? এই গানের গীতিকার কে?

আমি : গীতিকার রাধা রমন দত্ত।

এক্সটার্নাল স্যার : রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির নাম কী?

(তৎকালীন ভিসির নাম বললাম)

এ ছাড়া ব্যক্তিগত আরো কিছু প্রশ্ন এবং বঙ্গবন্ধুকে নিয়েও বেশ কয়েকটি প্রশ্ন করা হয়েছিল। সব উত্তর ঝটপট দিয়েছিলাম। ভাইভা বোর্ড অনেক ফ্রেন্ডলি ছিল।

   

শ্রুতলিখন : এম এম মুজাহিদ উদ্দীন