kalerkantho

বুধবার । ২১ শ্রাবণ ১৪২৭। ৫ আগস্ট  ২০২০। ১৪ জিলহজ ১৪৪১

বিসিএস থেকে নন-ক্যাডারে চাকরি

৩৮তম বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ কিন্তু ক্যাডার পদে সুপারিশপ্রাপ্ত নন, এমন প্রার্থীদের নন-ক্যাডার প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির চাকরিতে আবেদনের জন্য সম্প্রতি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন। বিগত ৩টি বিসিএস থেকে সুপারিশ করা হয়েছে এমন কিছু নন-ক্যাডার চাকরির দপ্তর, পদায়ন ও পদসোপান, কাজের ধরন ও সুযোগ-সুবিধা নিয়ে আলোচনা করছেন বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তা রবিউল আলম লুইপা

২৫ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৯ মিনিটে



বিসিএস থেকে নন-ক্যাডারে চাকরি

►  আবেদনের লিংক : bpsc.teletalk.com.bd

►  বিস্তারিত : http://103.230.104.194/media/notice/2020/07/13/NON_CADRE_FRESS-ICT_38_BCS.pdf

 

বিসিএসে যাঁরা ক্যাডার সার্ভিসের জন্য সুপারিশপ্রাপ্ত হচ্ছেন না, তাঁদের অনেকেই নন-ক্যাডার হিসেবে চাকরির সুযোগ পাচ্ছেন।

বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (বিপিএসসি) দুই ধরনের নিয়োগ প্রদান করে থাকে—১. বিসিএস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ক্যাডার সার্ভিসের চাকরি (মোট ১৫০০ নম্বরের পরীক্ষা), ২. অন্যান্য বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নন-ক্যাডারে নিয়োগ (মোট ৪০০ নম্বরের পরীক্ষা)।

বিসিএস উত্তীর্ণ কিন্তু ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত নন, এমন প্রার্থীদের নন-ক্যাডার নিয়োগ বিধিমালা-২০১০ ও সংশোধিত বিধিমালা (২০১৪) অনুযায়ী নন-ক্যাডারে প্রথম শ্রেণি ও দ্বিতীয় শ্রেণির চাকরিতে সুপারিশ করা হচ্ছে। এতে বিসিএস উত্তীর্ণ মেধাবীরা ক্যাডার না পেলেও নন-ক্যাডারের চাকরিতে নিয়োগ পাচ্ছেন।

বিসিএস উত্তীর্ণ কিন্তু ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত নন, এমন প্রার্থীদের দুই ধরনের নন-ক্যাডারে চাকরি দেওয়া হয়। ১. জেনারেল (এই চাকরিগুলোতে সব ডিসিপ্লিনের প্রার্থীদের নিয়োগ দেওয়া হয়)।

২. টেকনিক্যাল (চাকরির পদসংশ্লিষ্ট শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকা প্রার্থীদের নিয়োগ দেওয়া হয়)।

 

জেনারেল কোরের ১০টি প্রথম শ্রেণির

নন-ক্যাডারের চাকরির তথ্য

 

১) পাসপোর্ট অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক : স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সেবা সুরক্ষা বিভাগের একটি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর—বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর। পাসপোর্ট বর্তমানে একটি প্রয়োজনীয় বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই অধিদপ্তর স্বাধীনতার পর থেকেই রাষ্ট্রের সব পাসপোর্ট ও ভিসা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজের দায়িত্ব পালন করে আসছে। ঢাকার আগারগাঁওয়ে অবস্থিত সদর দপ্তরসহ প্রতিটি জেলায় অধিদপ্তরের আঞ্চলিক কার্যালয় রয়েছে। অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের পদসোপান হলো—সহকারীপরিচালক>উপপরিচালক>পরিচালক> অতিরিক্ত মহাপরিচালক>মহাপরিচালক। বেশির ভাগ জেলার দপ্তরপ্রধান হিসেবে সহকারী পরিচালক (গ্রেড-৯) পদের কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করে থাকেন। সহকারী পরিচালক হিসেবে যোগদানের পর কর্মকর্তাদের পিএটিসি অথবা এর সহযোগী যেকোনো প্রশিক্ষণ একাডেমিতে বিশেষ বুনিয়াদি প্রশিক্ষণসহ দেশের ভেতরে ও বাইরে দায়িত্বসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রশিক্ষণ নিতে হয়। জেলার নতুন পাসপোর্ট ভবনগুলোতে অফিস সংযুক্ত এয়ারমার্ক আবাসনব্যবস্থা থাকতে পারে। দপ্তরগুলোতে জনবল এখনো পর্যাপ্ত না থাকায় কাজের চাপ অনেকটাই বেশি। নিজ জেলায় পোস্টিং সুবিধা নেই।

২) মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক : স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সেবা সুরক্ষা বিভাগের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। ১৯৯০ সালে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন প্রণয়নের সঙ্গে সঙ্গে নারকোটিকস অ্যান্ড লিকার পরিদপ্তরকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হয়। দেশে অবৈধ মাদকের প্রবাহ রোধ, ওষুধ ও অন্যান্য শিল্পে ব্যবহার্য বৈধ মাদকের শুল্ক আদায় সাপেক্ষে আমদানি, পরিবহন ও ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ, মাদকাসক্তদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসন নিশ্চিতকরণ, মাদকদ্রব্যের কুফল সম্পর্কে ব্যাপক গণসচেতনতা সৃষ্টিসহ জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা অধিদপ্তরের প্রধান দায়িত্ব। এ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অধিদপ্তরের পাশাপাশি জেলা দপ্তরে পদায়িত হতে পারেন। অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের পদসোপান হলো—সহকারী পরিচালক>উপপরিচালক> অতিরিক্ত পরিচালক>পরিচালক>অতিরিক্ত মহাপরিচালক>মহাপরিচালক। সহকারী পরিচালক (গ্রেড-৯) বেশির ভাগ জেলার দপ্তরপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে থাকেন। চাকরিতে যোগদানের পর কর্মকর্তাদের বিশেষ বুনিয়াদি প্রশিক্ষণসহ দেশের ভেতরে ও বাইরে দায়িত্বসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রশিক্ষণে অংশ নিতে হয়। দপ্তরগুলোতে অর্পিত দায়িত্ব পালন ও মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করতে গিয়ে অনেক ব্যস্ত থাকতে হতে পারে।

৩) নিবন্ধন অধিদপ্তরের সাবরেজিস্ট্রার : রেজিস্ট্রেশন বিভাগ এই উপমহাদেশের প্রাচীনতম একটি বিভাগ।  বর্তমানে আইন ও বিচার বিভাগের অধীন নিবন্ধন অধিদপ্তর দেশের ভেতরে বিভিন্ন দলিল নিবন্ধন ও সম্পাদনের মাধ্যমে জনসাধারণকে সেবা প্রদানের পাশাপাশি রেজিস্ট্রেশন বিভাগ সরকার ও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষে রাজস্ব ও কর আহরণ করে থাকে। অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের পদসোপান হলো—সাব-রেজিস্ট্রার>জেলা রেজিস্ট্রার>বিভাগীয় পরিদর্শক> অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক নিবন্ধন>মহাপরিদর্শক নিবন্ধন। অধিদপ্তরের উপজেলার দপ্তরপ্রধান হিসেবে সাবরেজিস্ট্রার (গ্রেড-৯) এবং জেলার দপ্তরপ্রধান হিসেবে জেলা রেজিস্ট্রার (গ্রেড-৬) দায়িত্ব পালন করে থাকেন। চাকরিতে যোগদানের পর সাবরেজিস্ট্রারদের পিএটিসিতে দুই মাসের বিশেষ বুনিয়াদি প্রশিক্ষণসহ দেশের ভেতরে দায়িত্বসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করতে হয়। উপজেলা অনুযায়ী কাজের চাপ একেক রকম হতে পারে।

৪) ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক : ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর মাধ্যমে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠা করা হয়। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর একটি আধাবিচারিক সরকারি সংস্থা, যা পণ্য ও পরিষেবার ওপর ভোক্তাদের অভিযোগ গ্রহণ এবং তা নিষ্পত্তি ও ভোক্তাদের অধিকার সংরক্ষণ করার অভিলক্ষ্যে কাজ করে থাকে। এর প্রধান সদর দপ্তর ঢাকায় এবং প্রতিটি বিভাগ ও জেলা পর্যায়ে স্থানীয় দপ্তর রয়েছে। অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের পদসোপান হলো—সহকারী পরিচালক>উপপরিচালক>পরিচালক> মহাপরিচালক। অধিদপ্তরের জেলা কার্যালয়ের দপ্তরপ্রধান সহকারী পরিচালক (গ্রেড-৯) হিসেবে যোগদানের পর দেশের ভেতরে ও বাইরে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ নিতে হতে পারে। অধিদপ্তরের মাঠ প্রশাসনে ভোক্তাদের অভিযোগ গ্রহণ ও অভিযান পরিচালনা করতে গিয়ে একজন সহকারী পরিচালককে অনেক ব্যস্ত থাকতে হয়।

৫) বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের উপজেলা নির্বাচন অফিসার : বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। নির্বাচন কমিশন বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজনের পাশাপাশি জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, সিটি করপোরেশন, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের বিভিন্ন নির্বাচনের দায়িত্ব পালন করে আসছে। এর সদর দপ্তর ঢাকায় এবং প্রতিটি বিভাগ, জেলা ও উপজেলায় স্থানীয় দপ্তর রয়েছে। নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তাদের পদসোপান হলো—উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা/সহকারী সচিব>জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা/সিনিয়র সহকারী সচিব>জ্যেষ্ঠ্য জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা/উপসচিব> আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা/যুগ্ম সচিব>অতিরিক্ত সচিব> নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সচিব। অধিদপ্তরের উপজেলা অফিসপ্রধান হিসেবে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা (গ্রেড-৯) এবং জেলার অফিসপ্রধান হিসেবে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা (গ্রেড-৬) দায়িত্ব পালন করে থাকেন। সীমিত জনবল নিয়ে দপ্তরগুলোতে জাতীয় পরিচয়পত্র এবং নির্বাচনসংক্রান্ত কাজ করতে গিয়ে ব্যস্ত থাকতে হতে পারে।

৬) সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপজেলা সমাজসেবা  কর্মকর্তা : সমাজসেবা অধিদপ্তর সরকারের জাতি গঠনমূলক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে অন্যতম। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়াধীন সমাজসেবা অধিদপ্তর দেশের দুস্থ, অবহেলিত, পশ্চাৎপদ, দরিদ্র, এতিম, অটিস্টিক ও প্রতিবন্ধী এবং সমাজের অনগ্রসর মানুষের কল্যাণ ও উন্নয়নের ক্ষেত্রে ব্যাপক ও বহুমুখী কর্মসূচি নিয়ে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী সুদৃঢ়করণের লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এর প্রধান সদর দপ্তর ঢাকায় এবং প্রতিটি বিভাগ, জেলা ও উপজেলায় স্থানীয় দপ্তর রয়েছে। এর বাইরেও একজন কর্মকর্তাকে প্রশিক্ষণ একাডেমি, জেলার শিশু পরিবার, আদালত, হাসপাতালসহ অধিদপ্তরের যেকোনো প্রতিষ্ঠানে পদায়ন করা হতে পারে। অধিদপ্তর ও মাঠ দপ্তরের কর্মকর্তাদের পদসোপান হলো—উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা/উপ-তত্ত্বাবধায়ক/প্রবেশন অফিসার>সহকারী পরিচালক> উপপরিচালক>অতিরিক্ত পরিচালক>পরিচালক> মহাপরিচালক। অধিদপ্তরের উপজেলার অফিসপ্রধান উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা একজন গ্রেড-৯-এর কর্মকর্তা। যোগদানের পর সমাজসেবা প্রশিক্ষণ একাডেমি থেকে বুনিয়াদি প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করতে হয়।

৭) পিএসসির সহকারী পরিচালক : সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) একটি সাংবিধানিক সংস্থা, যা সংবিধানের ১৩৭ নম্বর অনুচ্ছেদবলে গঠিত হয়েছে। এ কমিশন বাংলাদেশের জনপ্রশাসনে জনবল নিয়োগ ও প্রযোজ্য ক্ষেত্রে তাদের চাকরিকালে স্থায়ীকরণ, প্রমোশনসহ বিভিন্ন পরীক্ষা ও সুপারিশকাজ পরিচালনা করে থাকে।

পিএসসির সহকারী পরিচালক হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে মূল কার্যালয় বা যেকোনো আঞ্চলিক কার্যালয়ে পদায়ন করা হতে পারে। পিএসসি কর্মকর্তাদের পদসোপান হলো—সহকারী পরিচালক>উপপরিচালক>পরিচালক। সচিব, পিএসসি সচিবালয় প্রতিষ্ঠানটির প্রশাসনিক প্রধানের দায়িত্ব পালন করে থাকেন।

৮) কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক : শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়াধীন কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর বিধান অনুযায়ী শ্রমিকদের কল্যাণ, পেশাগত স্বাস্থ্য ও কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থাগুলো বাস্তবায়নসহ শ্রম ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা সমুন্নত রেখে মালিক, শ্রমিক, সরকার ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে সমন্বয়ের কাজ করে যাচ্ছে। গ্রেড-৯-এর সহকারী মহাপরিদর্শক হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তার পদায়ন হতে পারে অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয় বা ২৩টি জেলা পর্যায়ের দপ্তরগুলোতে। অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের পদসোপান হলো—সহকারী মহাপরিদর্শক> উপমহাপরিদর্শক>যুগ্ম মহাপরিদর্শক>অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক>মহাপরিদর্শক। সহকারী মহাপরিদর্শক হিসেবে যোগদানের পর বুনিয়াদি প্রশিক্ষণসহ দেশের ভেতরে ও বাইরে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও সেমিনারে অংশগ্রহণ করতে হতে পারে। অধিদপ্তরের উপমহাপরিদর্শক (গ্রেড-৬) অধিদপ্তরের জেলা দপ্তরপ্রধানের দায়িত্ব পালন করে থাকেন।

৯) যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক : যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর হলো যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর। ১৯৮১ সালে প্রতিষ্ঠিত এই অধিদপ্তর দেশের অসংগঠিত ও কর্মপ্রত্যাশী যুবগোষ্ঠীকে সুসংগঠিত, সুশৃঙ্খল এবং উৎপাদনমুখী শক্তিতে রূপান্তরের লক্ষ্যে নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এর সদর দপ্তর ঢাকায় এবং প্রতিটি বিভাগ, জেলা ও উপজেলায় স্থানীয় দপ্তর রয়েছে। অধিদপ্তর ও মাঠ দপ্তরের কর্মকর্তাদের পদসোপান হলো—সহকারী পরিচালক>উপপরিচালক> পরিচালক>মহাপরিচালক। অধিদপ্তরের জেলার অফিসপ্রধান হিসেবে উপপরিচালক (গ্রেড-৬) দায়িত্ব পালন করে থাকেন।

১০) জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক : ১৯৭২ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের উদ্যোগে জাতীয় সঞ্চয় পরিদপ্তর প্রতিষ্ঠা লাভ করে এবং ২০১৪ সালে অধিদপ্তরে উন্নীত হয়।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের অধীন জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তর বিক্ষিপ্তভাবে ছড়িয়ে থাকা ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সঞ্চয় জাতীয় সঞ্চয় স্কিমের মাধ্যমে আহরণ করে জনগণকে সঞ্চয়ী হতে উদ্বুদ্ধ করা, জাতীয় সঞ্চয় স্কিমের মাধ্যমে দেশের বিশেষ বিশেষ জনগোষ্ঠী যেমন—মহিলা, অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, বয়োজ্যেষ্ঠ নাগরিক, প্রবাসী বাংলাদেশি এবং শারীরিক প্রতিবন্ধীদের আর্থিক ও সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় আনয়নসহ বৈদেশিক নির্ভরতা হ্রাস এবং মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। এ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক হিসেবে আপনার পদায়ন হতে পারে ঢাকায় অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয় বা জেলা কার্যালয়ে। অধিদপ্তর ও জেলা দপ্তরের কর্মকর্তাদের পদসোপান হলো—সহকারী পরিচালক>উপপরিচালক> পরিচালক>মহাপরিচালক। অধিদপ্তরের জেলার অফিসপ্রধান হিসেবে সহকারী পরিচালক পদের গ্রেড-৯-এর কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করে থাকেন।

 

ওপরে বর্ণিত পদগুলো ছাড়াও নন-ক্যাডার প্রথম শ্রেণির চাকরিতে আপনাকে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের সহকারী পরিচালক, জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর সহকারী পরিচালক, পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক, গ্রন্থাগার অধিদপ্তরের জেলা লাইব্রেরিয়ান, মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরের প্রগ্রাম অফিসার/উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা, বাংলাদেশ টেলিভিশনের সহকারী পরিচালক/প্রকৌশলী, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের গবেষণা ইনস্টিটিউটের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রভাষক (টেকনিক্যাল ও নন-টেকনিক্যাল), বিভিন্ন অধিদপ্তরের সহকারী প্রগ্রামার/মেডিক্যাল অফিসার/ সহকারী পরিচালক/হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা/লাইব্রেরিয়ানসহ নন-ক্যাডার যেকোনো জেনারেল ও টেকনিক্যাল (প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ বিধিমালা ও আপনার একাডেমিক পড়াশোনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ) পদে পিএসসি সুপারিশ করতে পারে।

 

বেশিরভাগ নন-ক্যাডারের চাকরির ক্ষেত্রে দেখা যায়—

দু-একটি প্রমোশনের পর প্রমোশন প্রক্রিয়া সীমিত হয়ে যায়।

মন্তব্য