kalerkantho

বুধবার । ১০ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৫ নভেম্বর ২০২০। ৯ রবিউস সানি ১৪৪২

চাকরি পেতে ইংরেজি

১৬ মে, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৬ মিনিটে



চাকরি পেতে ইংরেজি

বর্তমান বিশ্ব যেহেতু গ্লোবাল ভিলেজ, তাই গ্লোবাল ভাষা শেখাটাও জরুরি। আর ক্যারিয়ার গঠন কিংবা সমৃদ্ধ করতে ইংরেজিতে দক্ষতাটাও পাকাপোক্ত হওয়া চাই। বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় ইংরেজিতে কেমন প্রশ্ন হয়, ভাইভায় ইংরেজি এবং কোন ক্ষেত্রে ভুল বেশি হয়? আর প্রস্তুতি কী হবে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এসব বিষয়ে লিখেছেন জুবায়ের আহম্মেদ

নিয়োগ পরীক্ষায় ইংরেজির ধরন কেমন

৩৬তম বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারে নিয়োগপ্রাপ্ত রাজবাড়ী সরকারি কলেজের প্রভাষক মো. শাহরিয়ার রহমান বলেন, ‘এখন বিসিএস প্রিলিতে ৩৫ মার্কসের ইংরেজি প্রশ্ন হয়, যা দুটি অংশে বিভক্ত। একটি গ্রামার, অন্যটি সাহিত্য। গ্রামার অংশে Preposition, Subject verb arrangement, Phrase and idiomes, Synonym-Antonym ইত্যাদি আর সাহিত্য অংশের ক্ষেত্রে বিভিন্ন সাহিত্যিকের সাহিত্যকর্ম, কবিতা বা উপন্যাসের চরিত্র ইত্যাদি বিষয়ে বিশদ পড়তে হবে। লিখিত পরীক্ষায় Free hand writing-এ ভালো হতে হবে আর Vocabulary বেশি জানলে Essay থেকেও ভালো উত্তর দেওয়া যাবে। অনুবাদ অংশে ভালো করা যাবে।’ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগে এমসিকিউতে থাকে ২০ মার্কের প্রশ্ন। চাঁদপুরের হাসান আলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক এস এম আবদুর রহমান বলেন, ‘Parts of Speech, Voice, Narration, Spelling, Sentence Correction, Right forms of verb, Tense, Preposition, Phrase and Idioms, Synonym, Antonym-এ অংশগুলো ভালোভাবে অনুশীলন করতে হবে। দেশি-বিদেশি সাহিত্যিকদের সাহিত্যকর্ম নিয়েও ধারণা রাখা ভালো। বিগত বছরের প্রশ্ন সলভ করার মাধ্যমেই প্রার্থীর আত্মবিশ্বাস বাড়বে।’ ব্যাংকে চাকরির ক্ষেত্রে সাধারণত আইবিএ, বিআইবিএম, বিজনেস ফ্যাকাল্টি প্রশ্ন করে। গ্রামার থেকে এমসিকিউ প্রশ্ন থাকে। আর একটি রচনা বা সাম্প্রতিক টপিকস কিংবা ব্যাংক রিলেটেড টপিকসে লিখতে হয়। ব্যাংকে বাংলা পার্ট ছাড়া পুরো প্রশ্নই ইংরেজিতে থাকে। অন্যদিকে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় কলেজ পর্যায়ে প্রিলিতে ইংরেজিতে ২৫ নম্বর। ফার্মাসিউটিক্যালস সেক্টরে চাকরি পরীক্ষায় Essay লিখতে হয়, গ্রামারের ওপর প্রশ্ন থাকে। অন্যান্য চাকরির ক্ষেত্রেও গ্রামারের ওপর এমসিকিউ থাকে।

 

ভাইভায় ইংরেজি

অনেক বহুজাতিক কম্পানি ও ফার্মাসিউটিক্যাল সেক্টরসহ বিভিন্ন করপোরেটে চাকরির ভাইভা ইংরেজিতে হয়। সেখানে প্রার্থীর ইংরেজিতে কমিউনিকেশনের লেভেল যাচাই করা হয়। ব্যাংকের চাকরির ভাইভাও ইংরেজিতে হয়। সোস্যাল ইসলামী ব্যাংকের (পান্থপথ শাখা) সিনিয়র অফিসার রুবেল শেখ বলেন, ‘ভাইভায় বেসিকের ওপর নজর দেয়। বিষয়ের ওপর প্রশ্ন করে, অন্যান্য প্রশ্নও থাকে। বিষয়ের ওপর বেসিক প্রশ্ন ইংরেজিতে করার পর যখন বিষয়ের ওপর ডিপ প্রশ্ন করেছে, তখন উত্তর বাংলায় বুঝিয়ে বলেছি। এটা নির্ভর করে ভাইভা বোর্ডের ওপর। তবে ইংরেজিতে বলার সময় উচ্চারণে সতর্ক থাকতে হবে।’

 

ইংরেজিতে যোগাযোগ দক্ষতা

বলা হয় বর্তমান বিশ্ব দাঁড়িয়ে আছে কমিউনিকেশনের ওপর। আর করপোরেট জগতে যোগাযোগ দক্ষতা বা উপস্থাপনা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রার্থীর যোগ্যতার একটি হলো যোগাযোগ দক্ষতা। বায়িং হাউসগুলোতে বিদেশি বায়ারদের সঙ্গে বিজনেস ডিল করার জন্য ইংরেজিতে কমিউনিকেশনে দক্ষ হতে হবে। তাদের পণ্য সম্পর্কে জানাতে হয়। আবার যারা ট্যুরিজম অ্যান্ড হোটেল ম্যানেজমেন্টে চাকরি করবেন, মাঝে মাঝে তাঁদের বিদেশি অতিথি আসেন। তখন তাঁদের সঙ্গে ইংরেজিতে কমিউনিকেট করতে হবে। অনেক সময় তাঁরা বিদেশে গিয়ে চাকরি করেন। তখন ইংরেজিতে যোগাযোগ দক্ষতা বাধ্যতামূলক। মার্কেটিং চাকরি প্রার্থীদেরও ইংরেজিতে যোগাযোগ দক্ষতা থাকা ভালো।

বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের প্রডাকশন অফিসার ফাহিম হোসেন বলেন, ‘ফার্মাসিউটিক্যাল সব সেক্টরেই কমবেশি ইংরেজি দরকার হয়, বিশেষ করে যাঁরা FDA TGA অ্যাপ্রুভ কম্পানিতে চাকরি করেন তাঁদের কিছুদিন পর পর অডিটের মুখোমুখি হতে হয় এবং সে ক্ষেত্রে ইংরেজিতে কমিউনিকেশনটা জরুরি। আর ফার্মাসিউটিক্যালে লোকাল ও ইন্টারন্যাশনাল মার্কেটিংয়ে ইংরেজিতে যোগাযোগ দক্ষতা খুব গুরুত্বপূর্ণ। বিদেশি বায়ারদের সঙ্গে যোগাযোগ কিংবা প্রডাক্ট প্রমোশন করার ক্ষেত্রে ইংরেজিতে প্রেজেন্টেশন স্কিল অবশ্যই জরুরি। আবার ব্যাংকে যাঁরা ফরেন এক্সচেঞ্জ অর্থাৎ বিদেশি ব্যাংকের সঙ্গে করেসপনডেন্ট করেন, তাঁদের ভার্বাল ও ওরাল দুটিতেই দক্ষতা অর্থাৎ ইংরেজি কমিউনিকেশনে দক্ষতা প্রয়োজন। এ ছাড়া বিভিন্ন করপোরেটে প্রজেক্ট প্রেজেন্টেশন ইংরেজিতে করতে হয়। তাই ইংরেজিতে যোগাযোগ দক্ষতা ও প্রকল্প উপস্থাপনা চর্চাও রাখতে হবে।

 

ইংরেজিতে দক্ষতা বাড়ানোর পরামর্শ

ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ইয়াছির আরাফাত বলেন, ‘ইংরেজির চর্চাটা ছোটবেলা থেকেই করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় থেকে চাকরির প্রস্তুতির জন্য বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় আসা ইংরেজি অংশের প্রশ্ন সলভ করতে পারেন। ইংরেজির যেকোনো ভালো ব্যাকরণ বই কিনে এখন থেকেই অনুশীলন করুন। আর সপ্তাহে এক দিন বন্ধুরা মিলে স্পিকিং অনুশীলন করা যেতে পারে। বাসায় বাংলা পত্রিকার সঙ্গে একটা ইংরেজি পত্রিকা রাখতে পারেন। ইংরেজি পত্রিকার সম্পাদকীয় ও সাম্প্রতিক বিষয়গুলোতে প্রতিদিন চোখ বুলিয়ে নিন। কঠিন বা বড় শব্দগুলোর নিচে দাগ দিয়ে রাখতে পারেন। পরে এর অর্থ ও উচ্চারণ দেখে নিলেন। এভাবে ধীরে ধীরে রিডিং ও স্পিকিং স্কিল বাড়াতে হবে। রাইটিং স্কিলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ইংরেজি শব্দসম্ভার বাড়ানো। সঙ্গে গ্রামার ঠিক রাখা। ফ্রি হ্যান্ড রাইটিংয়ের জন্য নিজে নিজে লিখতে হবে। শুরুতে সহজ বিষয়ে লিখুন। আপনার যে টপিক ভালো লাগে সে টপিকগুলো নিয়ে প্যারাগ্রাফ লিখে ফেলুন। ধীরে ধীরে কঠিন বিষয়ে লেখা শুরু করুন। এভাবেই ইংরেজিতে দক্ষ হয়ে উঠবেন।’  

 

নিয়োগকর্তা বললেন

ওয়ালটনের নির্বাহী পরিচালক (মানবসম্পদ ও প্রশাসন) এস এম জাহিদ হাসান বলেন, ‘ইংরেজি একটি আন্তর্জাতিক ভাষা। এখন যেহেতু পৃথিবীটা গ্লোবাল ভিলেজ, তাই বিচ্ছিন্নভাবে চিন্তা করার সুযোগ নেই। ফলে যদি ইংরেজি জানা থাকে, তাহলে বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে যোগাযোগে সমস্যা হয় না। এসব দিক বিবেচনা করতে গেলে ব্যবসাটাও যেহেতু বিশ্বব্যাপী, ক্ষুদ্রভাবে করা যায় না; সুতরাং চাকরি ও ব্যবসা দুটির সঙ্গেই একটা সম্পর্ক আছে। সে ক্ষেত্রে চাকরি পাওয়া এবং চাকরিরত অবস্থায় ইংরেজির গুরুত্ব রয়েছে। বিভিন্ন রকমের যোগাযোগ ইংরেজিতে করতে হয়। কিছু সিস্টেম আছে যেগুলো বাংলায় করা সম্ভব নয়। ফলে ইংরেজিতে দক্ষতাটা জরুরি। আমরা লিখিত ও ভাইভা পরীক্ষার মধ্যে দিয়েই বুঝে যাই—প্রার্থীদের ইংরেজিতে দক্ষতাটা কতটুকু।’

মন্তব্য