kalerkantho

বুধবার । ২৩ অক্টোবর ২০১৯। ৭ কাতির্ক ১৪২৬। ২৩ সফর ১৪৪১                 

যেভাবে চাকরি পেলাম

ইংরেজি ও গণিতে বেশি জোর দিয়েছি

এম এম মুজাহিদ উদ্দীনকে চাকরি পাওয়ার অভিজ্ঞতার কথা শুনিয়েছেন খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের সদর থানার সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) শাহনেওয়াজ বাপ্পী

২ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ইংরেজি ও গণিতে বেশি জোর দিয়েছি

খুলনা জেলার কয়রা থানার মহারাজপুর গ্রামে আমার বাড়ি। গ্রামের স্কুল-কলেজে পড়াশোনা করেছি। বাবা ব্যাংকার ছিলেন, তাই তিনি আমাদের পড়ালেখার ব্যাপারে সচেতন ছিলেন। সে জন্য খুব মেধাবী ছাত্র না হলেও কখনো একেবারে খারাপ ছাত্র ছিলাম না। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০০৭-২০০৮ সেশনে প্রাণিবিদ্যা বিভাগ থেকে স্নাতক করি। তারপর একই বিভাগের ফিশারিজ সেকশনে স্নাতকোত্তর করি। চাকরির পড়াশোনা শুরু করি মূলত বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ বর্ষে উঠে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র ভাই-বোন, বন্ধুদের দেখতাম দিনভর লাইব্রেরিতে বসে চাকরির পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তাঁদের মধ্যে অনেকেই বিসিএস ক্যাডার হয়ে যান। মূলত তাঁদের দেখেই অনুপ্রাণিত হয়ে বিসিএসের জন্য প্রস্তুতি নিতে শুরু করি। অন্যদিকে মধ্যবিত্ত পরিবার হওয়ায় পড়াশোনা শেষে পরিবার থেকে চাকরির জন্য চাপ ছিল। নিজের মধ্যেও একটা তীব্র জেদ কাজ করত যে আমাকে সরকারি একটা চাকরি পেতেই হবে। প্রতিদিন নিয়ম করে একটি বাংলা ও একটি ইংরেজি পত্রিকা পড়ার চেষ্টা করতাম। বিশেষ করে পত্রিকার সম্পাদকীয় পাতা, আন্তর্জাতিক পাতা, অর্থনীতির সংবাদের পাতা। ইংরেজি পত্রিকা থেকে অনুবাদের চর্চা করতাম। কারণ আমি জানতাম, যেকোনো সরকারি চাকরির পরীক্ষাগুলোতে অনুবাদ আসে। গণিতের জন্য পঞ্চম শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত বোর্ডের বইগুলো অনুশীলন করেছি। ফলে আমার বেসিক পাকাপোক্ত হয়েছে। তা ছাড়া চাকরির পরীক্ষাগুলোতে এসব বই থেকে অঙ্ক আসে। ইংরেজি ও গণিতে বেশি জোর দিয়েছি। চাকরির পরীক্ষাগুলোয় এই দুটি বিষয়ে যারা ভালো দক্ষ, তারা এগিয়ে থাকে। বাংলার জন্য নবম-দশম শ্রেণির ব্যাকরণ বইটি খুব ভালো করে পড়েছি। এ ছাড়া বাজারের প্রচলিত কয়েকটি গাইড বইও পড়েছি।  একটি বিষয়ের একাধিক বই না পড়ে একটি বই বারবার পড়তাম। আমার মনে হয়, এতে পড়া মনে রাখা সহজ হয়। কারণ একটি বইয়ের পাতা যখন আমি বারবার পড়ব, তখন সেটার ছবি আমার মনে গেঁথে যাবে। ফলে পড়া মনে রাখাও সহজ হবে। মনস্তাত্ত্বিক দক্ষতার জন্য ইন্টারনেটের বিভিন্ন ওয়েবসাইট থেকে চর্চা করেছি। এ ছাড়া ইউটিউবেও বেশ ভালো ভালো টিউটরিয়াল আছে। বাজারে প্রচলিত ভালো মানের একটি গাইড বইও দেখেছি। মাস্টার্স শেষ করে কয়েকটি চাকরির পরীক্ষা দিলাম। কিন্তু কোথাও আলোর দেখা পেলাম না। মাঝে মাঝে হতাশ হয়ে পড়তাম। কিন্তু নিজেকে বুঝ দিতাম—আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যরা পারলে আমিও নিশ্চয়ই পারব। এসব বুঝ দিয়ে পড়ার টেবিলে যেতাম। তারপর হঠাৎ একদিন দেখি পত্রিকার পাতায় ‘আউট সাইড ক্যাডেট সাব-ইন্সপেক্টর ৩৫তম ব্যাচের (নিরস্ত্র)’ বিজ্ঞাপন। বিজ্ঞাপনটি দেখে পত্রিকার পাতা থেকে কাটিং করে রাখি। তারপর সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) পদে আবেদন করি।

সাব-ইন্সপেক্টর পদে আবেদন করে পড়ালেখার গতি আরো বাড়িয়ে দিলাম। মনেপ্রাণে চেয়েছিলাম, এই চাকরিটা যাতে হয়। তারপর বিভাগীয় পর্যায়ের প্রাথমিক বাছাইয়ের জন্য আমি ঢাকা ছেড়ে খুলনা চলে আসি।  খুলনায় আসার পথে সাব-ইন্সপেক্টরের জন্য নীলক্ষেত থেকে আলাদা গাইড বইও কিনে নিয়ে আসি। স্বপ্ন দেখতে থাকি সাব-ইন্সপেক্টরের চাকরির মতো একটা বৈচিত্র্যময় জীবনের। প্রাথমিক বাছাইয়ে শারীরিক মাপে ও পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে লিখিত পরীক্ষার জন্য জোর প্রস্তুতি শুরু করি। আমার মনে আছে, এই সময়ে প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য দীর্ঘ রাত জেগে পড়াশোনা করতাম। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর ভাইভার জন্য ডাক পাই। জীবনের প্রথম চাকরির ভাইভায় পরিপাটি হয়ে গেলাম। ভাইভা বোর্ডে পাঁচজন সদস্য ছিলেন। আমার নিজের পরিচয়, অনার্সে অধীত বিষয় থেকে প্রশ্ন করা হয়েছিল। এ ছাড়া দেশ-বিদেশের সাম্প্রতিক ঘটনাবলি, মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সম্পর্কে বেশ কয়েকটি প্রশ্ন করা হয়েছিল। আমি প্রশ্নগুলোর উত্তর স্পষ্টভাবে দিয়েছিলাম। আর যেগুলো পারিনি, বিনয়ের সঙ্গে ‘স্যরি’ বলেছি।

ভাইভা দেওয়ার কিছুদিন পরই ফলাফল দিলে দেখি, জীবনের প্রথম চাকরির ভাইভায় আমি সফল হয়েছি। সাব-ইন্সপেক্টর হওয়ার পর আর বিসিএস পরীক্ষা দেওয়া হয়নি। 

যাঁরা এসআই হতে চান, তাঁদের বলব—একজন সাব-ইন্সপেক্টরকে অনেক বিষয়ে জানতে হবে। প্রচণ্ড পরিশ্রমী হতে হবে। মানসিক ও শারীরিক পরিশ্রমের প্রস্তুতি নিয়ে এ পেশায় আসতে হবে।

মন্তব্য