kalerkantho

শনিবার । ২০ জুলাই ২০১৯। ৫ শ্রাবণ ১৪২৬। ১৬ জিলকদ ১৪৪০

৯৬৮০ জনকে কনস্টেবল পদে নিয়োগ দেবে বাংলাদেশ পুলিশ

ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) হিসেবে ৬৮০০ জন পুরুষ, ২৮৮০ জন নারীসহ মোট ৯৬৮০ জনকে নেবে বাংলাদেশ পুলিশ। প্রশিক্ষণ শেষে প্রার্থীদের কনস্টেবল পদে নিয়োগ দেওয়া হবে। ২৪ মে ইত্তেফাকে এসংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়েছে। প্রার্থীদের তিন ধাপে (শারীরিক, লিখিত এবং ‘মনস্তাত্ত্বিক ও মৌখিক’ পরীক্ষা) বাছাই করা হবে। বিস্তারিত জানাচ্ছেন জুবায়ের আহম্মেদ

১২ জুন, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে




৯৬৮০ জনকে কনস্টেবল পদে নিয়োগ দেবে বাংলাদেশ পুলিশ

ঢাকা, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, রংপুর, খুলনা, বরিশাল ও সিলেট রেঞ্জের অধীনে সংশ্লিষ্ট জেলার পুলিশ লাইনস ময়দানে পর্যায়ক্রমে ২২, ২৪, ২৬, ২৯ জুন ও ১, ৩ জুলাই সরাসরি শারীরিক মাপ ও শারীরিক পরীক্ষা (দৌড়, রোপিং, জাম্পিং ইত্যাদি) হবে। এ ধাপে যোগ্য প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিতদের ৪০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে। এ পরীক্ষায় ৪৫ শতাংশ নম্বর পাওয়া প্রার্থীরা সর্বশেষ ধাপের পরীক্ষা (মনস্তাত্ত্বিক ও মৌখিক, ২০ নম্বর) দিতে পারবেন।

 

যোগ্যতা

সাধারণ বা অন্যান্য কোটার প্রার্থীদের ক্ষেত্রে বয়স হতে হবে ১৮ থেকে ২০ বছর (১ জুন ২০১৯ তারিখে)। মুক্তিযোদ্ধা বা শহীদ মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের ক্ষেত্রে বয়স (১ জুন ২০১৯ তারিখে) ১৮ থেকে ৩২ বছর হলেও চলবে। ২.৫ জিপিএ নিয়ে এসএসসি/সমমান পাস অবিবাহিত যেকোনো জেলার স্থায়ী প্রার্থীরাই টিআরসি পদের বাছাই পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে।

♦ সাধারণ ও অন্যান্য কোটার পুরুষের ক্ষেত্রে উচ্চতা কমপক্ষে ৫ ফুট ৬ ইঞ্চি বা ১.৬৭৬৪ মিটার হতে হবে। বুকের স্বাভাবিক অবস্থা ৩১ ইঞ্চি বা ০.৭৮৭৪ মিটার এবং সম্প্রসারিত অবস্থায় ৩৩ ইঞ্চি বা ০.৮৩৮২ মিটার হতে হবে।

♦ মুক্তিযোদ্ধা/শহীদ মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের (পুরুষ প্রার্থী) ক্ষেত্রে উচ্চতা কমপক্ষে ৫ ফুট ৪ ইঞ্চি বা ১.৬২৫৬ মিটার, বুক স্বাভাবিক অবস্থায় ৩০ ইঞ্চি বা ০.৭৬২০ মিটার এবং সম্প্রসারিত অবস্থায় ৩১ ইঞ্চি বা ০.৭৮৭৪ মিটার হতে হবে। তবে মুক্তিযোদ্ধা/শহীদ মুক্তিযোদ্ধার সন্তানের সন্তানদের (পুরুষ প্রার্থী) ক্ষেত্রে সাধারণ ও অন্যান্য কোটার পুরুষ প্রার্থীদের উচ্চতা ও বুকের মাপের শর্ত প্রযোজ্য হবে।

♦ ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী কোটায় পুরুষ প্রার্থীদের ক্ষেত্রে উচ্চতা কমপক্ষে ৫ ফুট ৪ ইঞ্চি বা ১.৬২৫৬ মিটার, বুক স্বাভাবিক অবস্থায় ৩১ ইঞ্চি বা ০.৭৮৭৪ মিটার এবং সম্প্রসারিত অবস্থায় ৩৩ ইঞ্চি বা ০.৮৩৮২ মিটার হতে হবে।

♦ নারী প্রার্থীর (সব কোটা) ক্ষেত্রে উচ্চতা কমপক্ষে ৫ ফুট ২ ইঞ্চি বা ১.৫৭৪৮ মিটার হতে হবে।

♦ বয়স ও উচ্চতার সঙ্গে ওজন অনুমোদিত পরিমাপের হতে হবে। (বডি ম্যাস ইনডেক্স বা বিএমআই অনুযায়ী)।

 

প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

প্রথম ধাপের বাছাই পরীক্ষা—অর্থাত্ শারীরিক মাপ ও শারীরিক পরীক্ষার সময় প্রার্থীদের সঙ্গে আনতে হবে—শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদপত্র/সাময়িক সনদপত্রের মূল কপি, সর্বশেষ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কর্তৃক চারিত্রিক সনদপত্র, স্থায়ী নাগরিকত্বের সনদপত্রের মূল কপি, জাতীয় পরিচয়পত্রের মূল কপি (নিজের না থাকলে মাতা-পিতার জাতীয় পরিচয়পত্রের মূল কপি), সরকারি গেজেটেড কর্মকর্তা কর্তৃক সত্যায়িত তিন কপি পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি, পরীক্ষার ফি বাবদ ১০০ টাকা (‘১-২২১১-০০০০-২০৩১’ বা ‘১২২০২০১১০৫৯৫৪১৪২২৩২৬’ কোডে) ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে জমার রসিদের মূল কপি। মুক্তিযোদ্ধা/শহীদ মুক্তিযোদ্ধার সন্তানের ক্ষেত্রে প্রমাণস্বরূপ কাগজপত্র, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী কোটার প্রার্থীদের ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসক/উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কর্তৃক প্রদত্ত সনদপত্রের মূল কপি আনতে হবে।

সরকারি/আধাসরকারি/স্বায়ত্তশাসিত সংস্থায় চাকরিরত প্রার্থীদের ক্ষেত্রে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতিপত্র লাগবে।

 

বাছাইপ্রক্রিয়া

কক্সবাজার সদরে কর্মরত কনস্টেবল আব্দুর রহমান বাছাইপ্রক্রিয়ায় নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে বলেন, ‘বাছাই পরীক্ষার জন্য আবেদন করতে হয় না। শুধু চালান নম্বরে ব্যাংক ড্রাফট করে ফি জমা দিয়ে এর রসিদসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের মূল কপি নিয়ে শারীরিক পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়। শারীরিক পরীক্ষায় যারা যারা পাস করবে, তাদেরই লিখিত পরীক্ষার জন্য প্রবেশপত্র দেওয়া হয়। লিখিত পরীক্ষায় বাংলা, ইংরেজি, গণিত ও সাধারণ জ্ঞানের ওপর প্রশ্ন আসে। ১ ঘণ্টা ৩০ মিনিট উত্তর করতে হয়। ভাইভায় যেকোনো প্রশ্ন করতে পারে। সমসাময়িক ঘটনা ও বিষয়াবলির ওপর জানাশোনা থাকলে ভাইভায় ভালো করা যাবে।

 

বেতন ও অন্যান্য সুবিধা

পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের প্রতিনিধির সমন্বয়ে গঠিত কমিটির মাধ্যমে বাছাইয়ের পর প্রার্থীদের ছয় মাস মেয়াদি মৌলিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

টিআরসি প্রশিক্ষণার্থী হিসেবে প্রশিক্ষণকালীন প্রতি মাসে প্রশিক্ষণভাতা দেওয়া হবে। এ ছাড়া বিনা মূল্যে পোশাক, থাকা-খাওয়া ও চিকিত্সার সুবিধা তো থাকছেই।

প্রশিক্ষণ শেষে কনস্টেবল পদে নিয়োগ দিয়ে বেতন ধরা হবে ‘জাতীয় বেতন স্কেলের (২০১৫) ১৭তম গ্রেডে ৯,০০০-২১,৮০০ টাকা বেতন। নিয়োগপ্রাপ্তরা অন্যান্য ভাতা ও রেশন পাবেন। প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী পদোন্নতিসহ জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে যাওয়ারও সুযোগ থাকছে।

 

♦    শারীরিক মাপ ও শারীরিক পরীক্ষা, লিখিত পরীক্ষা ও মৌখিক পরীক্ষার সূচির পাশাপাশি পুরো বিজ্ঞপ্তি পাওয়া যাবে এই লিংকে : www.police.gov.bd/en/recruitment_information

মন্তব্য