kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৩ মে ২০১৯। ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৭ রমজান ১৪৪০

যেভাবে চাকরি পেলাম

প্রতিদিন ইংরেজি পত্রিকা থেকে দু-একটি আর্টিকল পড়তাম

ওয়াহিদা নাজনিন পিংকি, অফিসার, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক সিডস্টোর বাজার (ময়মনসিংহ) শাখা

১৫ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



প্রতিদিন ইংরেজি পত্রিকা থেকে দু-একটি আর্টিকল পড়তাম

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গণিতে অনার্স-মাস্টার্স করি। অনার্স ফাইনাল দিয়েই চাকরির জন্য প্রস্তুতি নিতে শুরু করি। মাস্টার্স পড়ার সময় বিসিএস কোচিং করি। কোচিং শেষে কয়েকজন মিলে গ্রুপ স্টাডি করতাম। একেক দিন একেকজন প্রশ্ন তৈরি করে নিয়ে আসত। সেই প্রশ্নেই গ্রুপের বন্ধুরা পরীক্ষা দিতাম।

মাস্টার্স ফাইনাল দিয়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরির জন্য আবেদন করতে থাকি। ৩৬তম ও ৩৭তম বিসিএস দিয়েছি, ভালো হয়নি। কয়েকটি ব্যাংকের পাশাপাশি নন-ক্যাডারে পরীক্ষা দিই। লিখিত পরীক্ষায় পাস করতে পারিনি। কাছাকাছি সময়ে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের অফিসার পদে আবেদন করি। আগের অভিজ্ঞতা মাথায় রেখে নতুন করে প্রস্তুতি নিতে শুরু করি। বিগত বছরের প্রশ্নগুলো সামনে রেখে প্রস্তুতির ছক ঠিক করি। প্রথমে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন, এরপর অন্যান্য প্রশ্ন পড়ি। নবম-দশম শ্রেণির পাঠ্য বইয়ের পাশাপাশি ওরাকল ও এমপিথ্রি সিরিজের বইগুলো দেখেছি। প্রতিদিন ইংরেজি পত্রিকা থেকে দু-একটি আর্টিকল পড়েছি। এর ফলে আমার ভোকাবুলারি সমৃদ্ধ হয়েছে। যেসব ইংরেজি শব্দের অর্থ জনতাম না, সেগুলোও জেনেছি। ইংরেজি আর্টিকল পড়ায় ইংরেজিতে আমার বেশ দখল আসে। কৃষি ব্যাংকের প্রিলিমিনারি প্রশ্ন হয় ১০০ নম্বরে; বাংলা, ইংরেজি, গণিত, সাধারণ জ্ঞান ও আইসিটির ওপর। পরীক্ষায় ভালো করি, এ ধাপে টিকে গেলাম। ফল ঘোষণার কয়েক দিন পরই লিখিত পরীক্ষা। অল্প সময়ে শর্টকাট প্রিপারেশন নিই। প্রিলি ও লিখিত পরীক্ষার প্রশ্ন একই বিষয়ের ওপর। সব বিষয়ের প্রশ্নই ভালো হয়েছে। পরীক্ষা দিয়েই মনো হলো ‘টিকব’। গায়েহলুদের আগের দিন শুনি লিখিত পরীক্ষার ফল বেরিয়েছে, আমি টিকেছি।

এর প্রায় ছয় মাস পর ভাইভার তারিখ হলো। ব্যাংক ভাইভার জন্য আরিফুর রহমানের একটি বই পাওয়া যায় বাজারে, সে বইটা একনজর দেখি। এ ছাড়া ব্যাংকিং কার্যক্রমের খুঁটিনাটি বিষয়গুলোও নতুন করে দেখি। ভাইভা বোর্ডে চারজন ছিলেন। সব মিলিয়ে ২০টির মতো প্রশ্ন করা হয়। মানসিক দক্ষতার ওপর বেশ কয়েকটি প্রশ্ন করেন। সাধারণ জ্ঞান থেকে চার-পাঁচটি প্রশ্ন ছিল। আমার এলাকা নিয়ে কয়েকটি প্রশ্ন করা হয় ‘নেত্রকোনার একজন কুখ্যাত ব্যক্তির নাম বলেন।’ উত্তরে বলি, ‘মানবতাবিরোধী একজনের ফাঁসি হয়েছে। উনি আমাদের এলাকার একজন কুখ্যাত ব্যক্তি। তবে এই মুহূর্তে নামটা মনে হচ্ছে না।’ আপনার এলাকার একজন সচিবের নাম বলেন। বলি, ‘উজ্জল বিকাশ দত্ত।’ তিনি এখন কোথায় আছন? ‘বর্তমানে তিনি সরকারি কর্মকমিশনে...।’

ব্যাংকিং সেক্টর নিয়ে তেমন কোনো প্রশ্ন করেননি। ভাইভা শেষে যখন বের হচ্ছিলাম, ডেকে নিয়ে জিজ্ঞেস করেন, ‘কৃষি ব্যাংকে কেন চাকরি করতে চাই? চাকরি হলে করব কি না? গ্রামে কাজ করার ইচ্ছা আছে কি না?’ উত্তর দিলাম, ‘চাকরি পেলে অবশ্যই করব। কারণ আমার একটা চাকরি দরকার।’ এর আগে ভাইভা দেওয়ার কোনো অভিজ্ঞতা ছিল না।

মন্তব্য