kalerkantho

বৃহস্পতিবার  । ১৭ অক্টোবর ২০১৯। ১ কাতির্ক ১৪২৬। ১৭ সফর ১৪৪১       

‘প্রাইভেট ও লিমিটেডের মধ্যে পার্থক্য কী?’

চাকরির জন্য সাক্ষাত্কার। অম্লমধুর এক অভিজ্ঞতা। পাঠান সোহাগকে ভাইভা বোর্ডের মুখোমুখি হওয়ার গল্প শুনিয়েছেন ওয়ান ব্যাংকের ফরিদপুর শাখার প্রিন্সিপাল অফিসার মো. জহিরুল ইসলাম

১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে




‘প্রাইভেট ও লিমিটেডের মধ্যে পার্থক্য কী?’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর করে চাকরির জন্য আবেদন শুরু করি। চারটি বিসিএস ও তিনটি ব্যাংকসহ সাতটি ভাইভা দিই। ২৮তম বিসিএস আমার জীবনের প্রথম ভাইভা ছিল। আমাকে প্রায় সাত মিনিটে ৮ থেকে ১০টি প্রশ্ন করা হয়েছিল। পুলিশ ক্যাডার ছিল প্রথম পছন্দ। প্রশ্নকর্তা জানতে চেয়েছিলেন, ‘পুলিশ ক্যাডার আমার প্রথম পছন্দ কেন?’ আমি সহজ করে বলেছিলাম, ‘পুলিশ পেশা দেশ ও দেশের মানুষের সঙ্গে সম্পর্কিত। আমি দেশ ও দেশের মানুষের সেবা করতে চাই।’ পরের প্রশ্নটা ছিল, ‘বাংলাদেশ পুলিশের কতজন মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য বীর-উত্তম খেতাম পেয়েছিলেন?’ আমি এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিতে পারিনি। পরের প্রশ্নটা ছিল, ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানের করাচি কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে কোন কোন দেশ হয়ে কিভাবে বাংলাদেশে ফেরেন?’ আমি দেশের নাম বলতে পারলেও যাত্রাপথের সঠিক বিবরণ দিতে পারিনি। জানতে চেয়েছিলেন, ‘তখন বাংলাদেশ ও বার্মার মধ্যে সম্পর্ক কেমন ছিল?’ পরে আমাকে বিষয়ভিত্তিক আরো কয়েকটি প্রশ্ন করেন। সেগুলো পেরেছিলাম; কিন্তু আমার চাকরি হয়নি।

দ্বিতীয় ভাইভাও ছিল বিসিএস। জানতে চেয়েছিলেন, ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ভারতের কোথায় পড়াশোনা করেছিলেন, কোথায় ছিলেন?’ পরের প্রশ্নগুলো ছিল আমার বিষয়ভিত্তিক। এবার আমার প্রথম পছন্দ ছিল ফরেন ক্যাডার। আমাকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রশ্ন করেছিলেন। জানতে চেয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্র, ইরাক, ইরানসহ বিভিন্ন দেশের আন্তঃসম্পর্ক। প্রায় সব প্রশ্নের উত্তর দিই। ভাইভা ভালো হয়েছিল, আশাবাদী ছিলাম। কিন্তু আমার চাকরি হলো না।

এর মধ্যে বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকে ভাইভা দিই। চাকরি হয়নি। পরের বিসিএসে অ্যাডমিন ক্যাডার প্রথম পছন্দ ছিল। ভাইভা বোর্ডে পাঁচ-ছয় মিনিট ছিলাম। প্রশ্ন সহজ ছিল। ভালো ভাইভা দিয়েও চাকরি না পেয়ে হতাশ ছিলাম।

পূবালী ব্যাংকের ভাইভায় জানতে চেয়েছিলেন ব্যাংক ও কম্পানি আইন, প্রাইভেট ব্যাংকের কাজ ও বাংলাদেশ ব্যাংকের কাজ সম্পর্কে। প্রশ্ন করেছিলেন, ‘প্রাইভেট ও লিমিটেডের মধ্যে পার্থক্য কী?’ শেয়ারহোল্ডারের সংখ্যা, শেয়ার হস্তান্তর ও সাধারণের কাছে বন্ড বিক্রি—এই তিনটি বিষয়ে পার্থক্যের কথা বলেছিলাম। পরীক্ষা দিয়ে সন্তুষ্ট ছিলাম। চাকরি হবে, সেটা বুঝিনি। অফিসার পদে যোগদান করি। চাকরিরত অবস্থায় ৩১তম বিসিএস ভাইভা দিই। বোর্ডে মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন সেক্টর সম্পর্কে জানতে চেয়েছিলেন। প্রশ্ন করেন মুক্তিযুদ্ধকালীন অস্থায়ী সরকার, মন্ত্রিপরিষদ নিয়ে। এই বিসিএসেও ক্যাডার পাইনি।

পূবালী ব্যাংকে দুই বছর চাকরি করার পর ওয়ান ব্যাংকে ভাইভা দিই। সেখানে পূবালী ব্যাংকে চাকরির অভিজ্ঞতা কাজে লেগেছিল। ব্যাংকের বিভিন্ন কাজ সম্পর্কে প্রশ্ন করেছিলেন। জানতে চেয়েছিলেন, ওয়ান ব্যাংক কেন পছন্দ, কেন চাকরি পেতে চাই, চাকরি পেলে করব কি না ইত্যাদি। অফিসার পদে চাকরিটি পেয়ে যাই। পদোন্নতি পেয়ে বর্তমানে প্রিন্সিপাল অফিসার পদে কর্মরত আছি।

নতুনদের উদ্দেশে বলতে চাই, লক্ষ্য অনুসারে সাধ্যমতো চেষ্টা করতে হবে। পছন্দের চাকরি না পেলে জীবন মিছে, এমনটি ভাবা ঠিক নয়। যে চাকরিতেই থাকুন, সাফল্য পাওয়াটাই আসল কথা।

মন্তব্য