kalerkantho

শুক্রবার । ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৫ রবিউস সানি          

জেনে নাও

অণুবীক্ষণ যন্ত্র এলো কেমন করে

জীববিজ্ঞান গবেষণাগারে অণুবীক্ষণ যন্ত্রের সঙ্গে পরিচয় হয়েছে তোমাদের। কিন্তু এর আবিষ্কারের ইতিহাস হয়তো অনেকেই জানো না। এটাই জানানোর চেষ্টা করেছেন তুষার ইশতিয়াক

২৩ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



অণুবীক্ষণ যন্ত্র

এলো কেমন করে

ছোট জিনিসকে বড় আকারে দেখার জন্য লেন্সের ব্যবহার শুরু হয় বহু আগ থেকেই। যত দূর জানা যায়, এ ধরনের লেন্স প্রথম আবিষ্কার হয় আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব ৭০০ অব্দের দিকে। তবে ওই লেন্স নাকি ছিল খুব ঘোলাটে। প্রথম লেন্স কে আবিষ্কার করেন, এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। মোটামুটি ১০০ খ্রিস্টাব্দের দিকে এসে আরেকটু ভালো লেন্স তৈরি হয়। এ সময় লেন্সের উপরিভাগকে গোলাকার করা হয়। রোমানরা এ ধরনের লেন্স ব্যবহার করত।

কাছের জিনিস বড় করে দেখার জন্য চশমা তৈরি শুরু হয় চীনে। তবে ওইগুলো মানের দিক থেকে খুব একটা ভালো না হওয়ায় জনপ্রিয়তা পায়নি। ১২৮০ সালের দিকে এসে ইতালির ফ্লোরেন্সে চশমা ও লেন্সের বেশ বিকাশ ঘটে। কারো কারো ধারণা, আমাটি নামের এক গবেষক এই লেন্স ও চশমা তৈরি করেন।

ধীরে ধীরে চশমার পাশাপাশি এমন ধরনের আতশ কাচ তৈরি হতে থাকে যেগুলো চোখে না লাগিয়েই বস্তুকে বড় দেখা সম্ভব হয়। এর ধারাবাহিকতায় তৈরি হয় সরল অণুবীক্ষণ যন্ত্র। ১৫৯০ সাল কিংবা এর কিছু পরে ডাচ লেন্স প্রস্তুতকারক হ্যান্স এবং তাঁর ছেলে জ্যাকারিয়াস জ্যানসেন এক জোড়া লেন্স ব্যবহার করে তৈরি করেন জটিল অণুবীক্ষণ যন্ত্র। এই যন্ত্রটায় বাপ-বেটা দুজনের ভূমিকা থাকলেও পরে অণুবীক্ষণ যন্ত্রের ব্যাপক উন্নয়ন করেন জ্যাকারিয়াস। তাই আধুনিক অণুবীক্ষণ যন্ত্রের জনক বলা হয় জ্যাকারিয়াসকেই।

পরে গ্যালিলিও অণুবীক্ষণ ও দূরবীক্ষণ যন্ত্রের বেশ উন্নয়ন করেন। হল্যান্ডের লিউ ওয়েনহোকও বেশ শক্তিশালী মাইক্রোস্কোপ তৈরিতে সফল হন। রবার্ট হুক নামের এক ইংরেজও অণুবীক্ষণ যন্ত্র নিয়ে ওই সময় বেশ কাজ করেন। এখনকার আধুনিক অণুবীক্ষণ যন্ত্রগুলোর বেশির ভাগ তৈরি হয় জার্মানি, জাপান ও চীনে।

মন্তব্য