kalerkantho

শনিবার । ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৬ রবিউস সানি               

ক্যাম্পাসের মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ

রাফাহ্ নানজিবা তোরসা জিতেছেন ‘মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ ২০১৯’-এর মুকুট। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এই শিক্ষার্থীর ক্যাম্পাসজীবনের গল্প তাঁর শিক্ষক, সহপাঠী ও বন্ধুদের কাছে শুনেছেন মোবারক আজাদ

২৩ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ক্যাম্পাসের মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ

ক্যাম্পাসে বন্ধুদের সঙ্গে সেলফিবন্দি তোরসা (সবার সামনে)

৩৭ হাজার ২৪৩ জন প্রতিযোগীকে হারিয়ে ‘মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ ২০১৯’-এর মুকুট পরায় তোরসাকে নিয়ে ভীষণ উচ্ছ্বসিত তাঁর শিক্ষক, সহপাঠী ও বন্ধুরা।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের এই ছাত্রীর ক্লাসমেট মেহেদী হাসান সজীব জানান, ‘আগে থেকেই নাচ, গান ও উপস্থাপনায় জড়িত থাকায় নিয়মিত ক্লাস করতে পারে না তোরসা। তাই পরীক্ষার আগে খুব খাটত সে। এমনকি পরীক্ষার দিন সকালে ঝুপড়িতে বসেও তাকে পড়তে দেখা গেছে। ফলে প্রথম বর্ষে পেয়েছে জিপিএ ৩.৩৯। এককথায় সে মাল্টিট্যালেন্ট।’

আরেক ক্লাসমেট ফাতিমা রিতু বললেন, ‘ছোটবেলা থেকেই গান, নাচ, আবৃত্তির পাশাপাশি চিত্রাঙ্কন ও বিতর্ক প্রতিযোগিতায় পারদর্শী তোরসা। থিয়েটার, মডেলিং, মূকাভিনয়েও দারুণ সে। এরই মধ্যে জাতীয় পর্যায়ের অনেক পুরস্কার জমা পড়েছে ওর ঝুলিতে। তবু ওর মধ্যে কখনো গরিমা দেখিনি। এত দিন সে নিজের হয়ে লড়েছে, এখন দেশের জন্য লড়বে। অনেক বড় দায়িত্ব এখন ওর কাঁধে। এ বছরের ডিসেম্বরে লন্ডনে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বিশ্বসুন্দরী প্রতিযোগিতায় আমাদের এই বান্ধবী দেশের প্রতিনিধিত্ব করবে—এটা ভাবতেই ভালো লাগছে।’

একই বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জোবায়ের চৌধুরী বলেন, “ডিপার্টমেন্টের প্রবীণ বিদায় অনুষ্ঠানে একবারে শেষ সময়ে এসে নাচ তোলা ও দিক নির্দেশনার দায়িত্ব দেওয়া হলো তোরসাকে। তখন অন্য কেউ হলে হয়তো বলত, ‘হাতে তেমন সময় নেই। এ সময়ে মধ্যে নাচের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া সম্ভব না।’ কিন্তু সে বলল, ‘ভাইয়া, আস্থা রাখুন, এই অল্প সময়ের মধ্যেই সুন্দর কিছু পরিবেশন করতে পারব।’ ঠিকই সে তা পেরেছিল। তখন থেকেই দেখে আসছি, কাজের প্রতি ওর ভীষণ ভালোবাসা। এ ছাড়া  ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জিকে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় ডি. লিট উপাধি দেওয়ার সময় তোরসা প্রথম বর্ষের একেবারে প্রথম দিকে ছিল। সেই আয়োজনের নৃত্যানুষ্ঠানেও সে মনোমুগ্ধকর নৃত্য পরিববেশন করেছে।”

অন্যদিকে অর্থনীতি বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী সাখাওয়াত হোসেন ফেসবুকে লিখেছেন, ‘মিস ওয়ার্ল্ড তো এখন আমাদের চবিয়ান। ঝুপড়িতে তাকে প্রায়ই দেখা যেত। এখন কথা হচ্ছে, মিস বাংলাদেশকে বলে দিয়ো, তাকে ফেসবুকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠানো যাচ্ছে না! সময়-সুযোগ করে যেন আরেকটা আইডি খুলে নেয়।’

এদিকে তোরসার শিক্ষক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সহকারী প্রক্টর নিয়াজ মোরশেদ রিপন বলেন, ‘বিভাগের ২০১৮ সালের বিদায় অনুষ্ঠানের সমন্বয়ক ছিলাম আমি। তোরসা তখন প্রথম বর্ষে পড়ে। সেই অনুষ্ঠানের সাংস্কৃতিক দিকগুলোর দায়িত্ব ছিল ওর ওপর। দায়িত্ব পালনে কতটুকু পরিশ্রম সে করতে পারে, সেটি প্রথম বর্ষের প্রথম দিকেই দেখেছি। এ ছাড়া আমি প্রক্টরিয়াল বডিতে থাকার সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় অনেক অনুষ্ঠানে সে বিভিন্ন রকমের সাংস্কৃতিক পরিবেশনা করেছে।’

অন্যদিকে রাফাহ্ নানজিবা তোরসা জানান, ‘যখনই প্রতিযোগিতাটির সেরা ১২ জনের তালিকায় আমি জায়গা পেলাম, তখনই আমার ক্যাম্পাসে সাড়া পড়ে গেল। বন্ধুরা, বড় ও ছোট ভাই-বোনেরা আমার জন্য ভোট চেয়েছেন। শিক্ষকদের কাছ থেকেও অনেক সহযোগিতা পেয়েছি। এটা আমাকে দারুণভাবে প্রেরণা দিয়েছে চ্যাম্পিয়ন হতে। ‘মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশে’র মুকুট পরার পর এখনো ক্যাম্পাসে ফেরা হয়নি। তবে ফেরার জন্য  ছটফট করছি! শাটল ট্রেনে চড়ে ক্যাম্পাসে আসা, ঝুপড়িতে গান গাওয়া ও আড্ডা মিস করছি।’

মন্তব্য