kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ০৫ ডিসেম্বর ২০১৯। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ৭ রবিউস সানি ১৪৪১     

বকুলের ছবি

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের (গ্রাফিক ডিজাইন) মাস্টার্সের শিক্ষার্থী মো. বকুল মিয়া। নিরন্তর সংগ্রাম করে যাওয়া এই তরুণের গল্প শোনাচ্ছেন ও ছবি তুলেছেন সজীব আহমেদ

১৬ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বকুলের ছবি

ছবি এঁকে ক্যাম্পাসে সবার প্রিয় পাত্র হয়ে উঠেছেন মো. বকুল মিয়া

ছোটবেলা থেকেই ছবি আঁকতে ভালো লাগে তাঁর। স্কুলের দিনগুলোতে চারু ও কারুকলায় সব সময় প্রথম হতেন। জামালপুর সাধুরপাড়া নজরুল ইসলাম উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করে দেওয়ানগঞ্জ টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজে পড়াশোনা করেন। তারপর ছবি আঁকাকে পড়ার বিষয় করতে ভর্তি হন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে।

নিম্নমধ্যবিত্ত কৃষক পরিবারের ছেলে বকুল আট ভাই-বোনের মধ্যে সবার ছোট। ছোটবেলা থেকেই ছিলেন কঠোর পরিশ্রমী। স্কুলে পড়াশোনার পাশাপাশি বাবার সঙ্গে কৃষিকাজ, কাঠমিস্ত্রির কাজ, মেকানিকের কাজ, ট্রাক্টর চালানোসহ চার বছর নৌকার মাঝি হয়েও শ্রম দিয়েছেন, তবু পড়াশোনার হাল ছাড়েননি। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে শুরু থেকেই ছবি এঁকে শিক্ষকদের নজরে আসেন।

পড়াশোনার ধরাবাঁধা কোনো সময় ছিল না তাঁর। চারুকলা প্র্যাকটিক্যাল সাবজেক্ট হওয়ায় ক্লাসের পাশাপাশি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন জায়গায়, আশপাশের বিভিন্ন গ্রাম ও বাজারে বসে ছবি আঁকেন তিনি। তবে বেশির ভাগ সময়ই ক্যাম্পাসে কবি নজরুলের স্মৃতিবিজড়িত বটতলা, পেতনীতলা, চা-চত্বর ও চারুদ্বীপে বসে ছবি আঁকতে দেখা যায় তাঁকে। ছবির প্রতি এই ভালোবাসার ফল তিনি পেয়েছেন। স্নাতকে তাঁর অর্জিত সিজিপিএ ৩.৮১।

২০১৫ সালে বাংলাদেশ-চীন ফ্রেন্ডশিপ সেন্টার আয়োজিত ‘বিউটিফুল বাংলাদেশ-বিউটিফুল চায়না’ দ্বিতীয় ইয়াং আটির্স্ট আর্ট কম্পিটিশনে ময়মনসিংহ জাদুঘরকে নিয়ে বকুলের আঁকা ছবিটি স্থান পায়। সেখানে সারা দেশের ১০৪ জন চিত্রশিল্পীর ছবির মধ্যে নির্বাচিত আটজনের একজন হন তিনি। এরই ফলে ১৫ দিনের জন্য সরকারিভাবে চীনে শিক্ষা সফরে যাওয়ার সুযোগ পান বকুল। সেই সফরে দলনেতা ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান আব্দুল মতিন তালুকদার। চীনে যাওয়ার পর দুটি আন্তর্জাতিক চিত্র প্রদর্শনীতে অংশ নেওয়া এবং দেশটির বিভিন্ন বড় আর্ট গ্যালারি ও আর্ট ক্যাম্প পরিদর্শনসহ বিখ্যাত শিল্পীদের সঙ্গে আর্ট ওয়ার্কশপে অংশগ্রহণের সুযোগ হয় তাঁর।

এরপর শিক্ষা সফরে অংশ নেওয়া বাকিদের মধ্যে ‘বাংলাদেশ-চীন ফ্রেন্ডশিপ সেন্টার’ আয়োজিত চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করে চীনে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পেয়েছিলেন বকুল। কিন্তু তখনো স্নাতক সম্পন্ন না হওয়ায় সেই সুযোগ হাতছাড়া হয় তাঁর। তাই বলে দমে যাননি এই তরুণ শিল্পী। ২০১৩ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ে কবি নজরুলের জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে বার্ষিক শিল্পকর্ম প্রদর্শনী প্রতিযোগিতায় জল রং স্টিল লাইফে প্রথম স্থান, পরের বছর গ্রাফিকস ডিজাইনেও প্রথম স্থান, ২০১৫ ও ২০১৬ সালে গ্রাফিকস ডিজাইন স্ট্রিম মাধ্যমে দ্বিতীয় স্থান এবং ২০১৭ সালে সেই ক্যাটাগরিতে প্রথম স্থান অর্জন করে প্রতিভার মূল্যায়ন পেতে থাকেন তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয়টির চারুকলা বিভাগ আয়োজিত বিভিন্ন ওয়ার্কশপে নিয়মিত অংশ নেওয়া বকুলের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। কেননা নিরন্তর শিখতে তিনি ভালোবাসেন। এ ছাড়া পড়াশোনার পাশাপাশি এখন নিজ বিভাগের নবীন শিক্ষার্থীদের চিত্রকর্মের কাজ শিখিয়ে সহযোগিতা করছেন। আর পড়াশোনার খরচ জোগাতে একটি বেসরকারি স্কুলে খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে পড়াচ্ছেন চারু ও কারুকলা।

মন্তব্য