kalerkantho

রবিবার । ২১ জুলাই ২০১৯। ৬ শ্রাবণ ১৪২৬। ১৭ জিলকদ ১৪৪০

জেনে নাও

তোমার বুদ্ধির বয়স কত?

বুদ্ধিও মাপা যায়! কিন্তু কী দিয়ে? গজফিতায় তো বুদ্ধি ধরে না। বুদ্ধি মাপতে চাই প্রশ্ন। আর প্রশ্নের উত্তর দিলে মিলবে আইকিউ স্কোর। আইকিউ নিয়ে লিখেছেন ফয়সল আবদুল্লাহ

১০ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



তোমার বুদ্ধির বয়স কত?

তারা শরিফির আইকিউ ১৬২

কদিন আগে অনেক পত্রিকায় একটা খবর বেশ ছড়িয়েছে, সেটা হলো—১১ বছর বয়সী ইরানি ছাত্রী তারা শরিফির আইকিউ স্কোর ১৬২। সেটি নাকি ছাড়িয়ে গেছে আইনস্টাইন ও স্টিফেন হকিংকেও! কারণ এ দুই মহাবিজ্ঞানীর আইকিউ স্কোর নাকি ১৬০।

এমন খবর পড়ার পর স্বভাবতই কিছু প্রশ্ন ঘুরপাক খেতে পারে মাথায়। কিভাবে মাপল এই আইকিউ? আইনস্টাইন বা হকিং সাহেবরাই বা এ পরীক্ষা দিলেন কবে? কারো আইকিউ আইনস্টাইনের চেয়ে বেশি হলে কি সে আইনস্টাইনকেও ছাড়িয়ে যাবে?

প্রশ্নের উত্তর নিয়ে মাথায় ধোঁয়া তোলার আগে ঘুরে আসো মেনসা নামের একটি প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট ঃবংঃ.সবহংধ.হড় থেকে। সাইটে ঢুকে তোমার বয়সসীমায় ক্লিক করার পর শুরু হবে ২৫ মিনিটের একটা পরীক্ষা। পরীক্ষা শেষ হতেই জানা যাবে তোমার স্কোর। আর সেটা যদি ১৪০-এর আশপাশে থাকে, তবে তুমি হয়ে যাবে সার্টিফিকেটধারী জিনিয়াস! কারণ ঠিক এ পরীক্ষায়ই ১৬২ নম্বর তুলে খবরের শিরোনাম হয়েছে তারা শরিফি।

এতক্ষণে বুঝে গেছ যে আইকিউ স্কোরের সঙ্গে বয়সের একটা সম্পর্ক আছে। সম্পর্কটা খুব সরল। আইকিউ মানে হলো, বয়সের তুলনায় দ্রুত চিন্তা ও সমাধান বের করার দক্ষতা। এ ক্ষেত্রে সারা দুনিয়ায় যে সমীকরণটা মানা হয় সেটা হলো, মানসিক বয়স ভাগ সত্যিকারের বয়স গুণ ১০০। এ ক্ষেত্রে মানসিক বয়স বের করাটাই হলো আসল কাজ। এ বয়স বের করার কোনো সর্বজনস্বীকৃত মানদণ্ড নেই। তবে মেনসার মতো কিছু প্রতিষ্ঠান আছে, যারা একগাদা কঠিন প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে বের করে ফেলবে, তুমি স্বাভাবিক বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন নাকি খুদে বিস্ময়।

 

এবার আইকিউ নিয়ে একটু ধারণা পাওয়া যাক। আইকিউ মানে ইন্টেলিজেন্স কোশেন্ট। সরল বাংলায় দাঁড়াবে বুদ্ধিমত্তার সূচক। কঠিন বাংলাটা হলো বুদ্ধ্যাঙ্ক! তো এই সূচকটা হলো একটা সাদাসিধা সংখ্যা-১৪০ বা ১৬০ বা ১৬২। এই স্কেলে ১৪০ স্কোর মানেই দারুণ বুদ্ধিমান। সুতরাং বুঝতেই পারছ, ১৬০ ছাড়িয়ে যাওয়া মানে ধরাছোঁয়ার বাইরে। আর বেশির ভাগ বুদ্ধিমান মানুষের স্কোরটা থাকে সাধারণত ১২০ থেকে ১৩০-এর মধ্যে।

সংখ্যাটা বের করার অনেক আন্তর্জাতিক পদ্ধতি আছে বটে। যেমন জেনারেল ফ্যাক্টর, ফ্লুইড ইন্টেলিজেন্স, ক্রিস্টালাইজড ইন্টেলিজেন্স, লেখা ও পড়ার ক্ষমতা, শর্ট টার্ম মেমোরি ইত্যাদি। এদের একেকটির ধরন একেক রকম। ফ্লুইড ইন্টেলিজেন্সে পরীক্ষা করা হবে একটি প্রদত্ত ধারণা থেকে কোনো একটি সমস্যার সমাধান করার দক্ষতা। যেমন—একটি পুকুরে দশটি মাছ আছে, এর মধ্যে দুটি মারা গেল আর দুটি বড়শিতে ধরা পড়ল। তাহলে পুকুরে কয়টি মাছ থাকবে? এ প্রশ্নের উত্তর পেতে হলে তোমার ধারণা থাকতে হবে যে মাছ মরে গেলেও সেটি পুকুরেই থাকবে। আবার ক্রিস্টালাইজড বুদ্ধিমত্তা হলো, আগে থেকে জানা কোনো কিছু দিয়ে নতুন সমস্যার সমাধান। যেমন—কোন প্রাণীটা আলাদা? গরু, গাধা, জেব্রা, বানর, ক্যাঙ্গারু। এ প্রশ্নের উত্তর দিতে হলে তোমার জানা থাকতে হবে, ক্যাঙ্গারু যখন হাঁটে তখন লেজের ওপরও সে ভর দেয়, বাকিরা দেয় না। আরেকটি বহুল প্রচলিত প্রশ্নের ধরন হলো, র্যাভেনস প্রগ্রেসিভ মেট্রিসেস। আটটি নকশা দেওয়া থাকবে। তোমাকে বের করতে হবে নবম নকশাটা কী হবে।

এ ধরনের একগাদা প্রশ্ন একসঙ্গে সাজালেই তৈরি হয়ে যায় এক সেট প্রশ্ন। এরপর একটা ধরাবাঁধা সময়ের মধ্যে এমসিকিউ আকারে সেই প্রশ্নগুলোর উত্তর দিলেই বের হয়ে যাবে তোমার মানসিক বয়সের স্কোর। সেটার সঙ্গে আসল বয়সটাকে সমীকরণে বসালেই জানা যাবে আইকিউ। অর্থাত্ তোমার চেয়ে বয়সে বড় কেউ যদি পরীক্ষায় তোমার সমান স্কোর করে, তার পরও তোমার আইকিউ হবে তার চেয়ে বেশি। আর এখানেই বাজিমাত করেছে শরিফি। ১১ বছর বয়সের তুলনায় সে মেনসা টেস্টে বেশ ভালো স্কোর করেছে।

আর হ্যাঁ, আইনস্টাইন বা স্টিফেন হকিং কিন্তু কোনো ওয়েবসাইটে ঢুকে আইকিউ পরীক্ষা দেননি। আইনস্টাইনের প্রসঙ্গটা আসে মূলত মহাবিজ্ঞানীর প্রতি সম্মান দেখানোর জন্যই। কোয়ান্টাম মেকানিকস বা অপেক্ষবাদ নিয়ে তাঁর চিন্তার যে দৌড় ছিল, সেই চিন্তাটাকে কোনো মাপকাঠিতে ফেলা আদৌ সম্ভব নয়। তাই তোমাদেরও হতাশ হওয়ার কারণ নেই। চোখ-কান খোলা রেখে কঠিন সব ধাঁধা নিয়ে দিন-রাত পড়ে থাকলে তোমার স্কোরও ছাড়িয়ে যেতে পারে ১৬০।

মন্তব্য