kalerkantho

রবিবার । ২১ জুলাই ২০১৯। ৬ শ্রাবণ ১৪২৬। ১৭ জিলকদ ১৪৪০

তাঁদের স্কুলবেলা

বিশ্বকাপে নিজের দেশের হয়ে দারুণ পারফর্ম করছেন তাঁরা। কিন্তু আজকের বিশ্ব ক্রিকেট শাসন করা বড় এই তারকাদের ভিত গড়া হয়েছে স্কুলেই। ছয় দেশের ছয় জনপ্রিয় ক্রিকেটারের স্কুলবেলার গল্প জানাচ্ছেন লতিফুল হক

১০ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



মুশফিকুর রহিম

বাংলাদেশ

একটু লাজুক, ভদ্র টাইপ—ঠিক এখনকার মতোই ছিলেন ছোটবেলায়। তবে তখন থেকেই ছিলেন ভীষণ জেদি। যা আবদার করতেন, মেটাতেই হতো। বগুড়ার বিখ্যাত জিলা স্কুলে শুরু হয় তাঁর স্কুলবেলা। এরপর পড়েছেন বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে। খেলার মতো পড়াটাও খুব মন দিয়ে করতেন তিনি। বেশির ভাগ সময়ই দারুণ ফল করতেন। আর ছিলেন ভীষণ নিয়মতান্ত্রিক। পড়া বা খেলা কোথাও ফাঁকি দিতেন না। সেই ছোটবেলা থেকেই মা-বাবা থেকে দূরে  হোস্টেলে কেটেছে। তাই নিজের অনেক কাজ নিজেই করতে অভ্যস্ত হয়ে গেছেন মুশফিক। ছোটবেলা থেকেই দেশের হয়ে বয়সভিত্তিক দলে খেলেছেন। পড়াশোনা অনেক আগে শেষ করলেও এখনো শিক্ষকদের কথা ভোলেননি সাবেক বাংলাদেশ অধিনায়ক। মাঝেমধ্যেই যান তাঁদের সঙ্গে দেখা করতে।

 

রোহিত শর্মা

ভারত

বাবা ছিলেন পরিবহন কম্পানির স্টোরহাউসের কর্মী। ছেলে রোহিতের খেলায় আগ্রহ দেখে চিন্তায়ই পড়ে গেলেন। আয় সামান্য, ক্রিকেট একাডেমিতে পড়ার খরচ জোগানো মুশকিল। রোহিতকে পাঠানো হলো বরিভালির স্বামী বিবেকানন্দ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড জুনিয়র কলেজে। প্রতিষ্ঠানটি ক্রিকেটের পাঠ নেওয়ার জন্য নামকরা। তবে খরচ বড্ড বেশি। সে সমাধানও হলো। রোহিতের ব্যাটিং প্রতিভা দেখে কোচ দিনেশ বৃত্তির ব্যবস্থা করে দেন। শুরুতে স্কুল ক্রিকেটে রোহিত ব্যাট করতেন সাত কি আটে। একবার কোচের কথামতো আন্ত স্কুল প্রতিযোগিতায় ওপেন করলেন। শুরুতেই বাজিমাত, পাক্কা ১২০। টানা চার বছর এই স্কুলে পড়েছিলেন রোহিত। এখন বড় হয়ে স্কুলের দিনগুলো খুব মিস করেন এই ভারতীয় ওপেনার। ওয়ানডে ক্রিকেটে রোহিতই একমাত্র ক্রিকেটার, যার তিনটি ডাবল সেঞ্চুরি আছে। এই বিশ্বকাপেও করেছেন পাঁচটি সেঞ্চুরি।

স্টিভ স্মিথ

অস্ট্রেলিয়া

 

মেনাই হাই স্কুল সিডনির খুব নামকরা স্কুল। বিশেষ করে খেলাধুলার ব্যাপারে স্কুলটির বিশেষ সুনাম আছে। পড়াশোনা ও সাংস্কৃতিক জগতেও স্কুলটির খুব সুনাম। এই স্কুলেই পড়েছেন সাবেক অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক স্টিভ স্মিথ। এ স্কুলের চৌহদ্দিতেই কেটেছে কত বর্ণিল সময়। ১৭ বছর পর্যন্ত স্কুলের ছাত্র ছিলেন, এরপর ক্রিকেটের আরো পাঠ নিতে চলে যান ইংল্যান্ড। স্মিথের মা ব্রিটিশ, তাই ওই দেশেও তাঁর অনেকটা সময় কেটেছে। মেনাই স্কুলের ছাত্র-ছাত্রী আর শিক্ষকরা কিন্তু স্মিথকে নিয়ে দারুণ গর্ব করেন। অজি এই ক্রিকেটার ছাড়াও সিডনি এফসির ফুটবলার ব্লেক পাওয়েলও এই স্কুলেরই ছাত্র।

কেন উইলিয়ামসন

নিউজিল্যান্ড

নিউজিল্যান্ডের ভারি সুন্দর শহর তুরাংগা। নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে খেলছে ঠিকই; কিন্তু দেশটিতে ক্রিকেট জনপ্রিয়তার দিক থেকে চার কি পাঁচ নম্বরে। ওই দেশের কাউকে কোনো ক্রিকেটার সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে চট করে বলতে পারবে না। তবে তুরাংগা শহরে গিয়ে যদি কেন উইলিয়ামসন সম্পর্কে জিজ্ঞেস করো, সবাই চিনবে তাঁকে। স্কুলপড়ুয়ারা তো চিনবেই। কারণ ওরা বড় হচ্ছে ওদের ক্রিকেট অধিনায়কের গল্প শুনেই। তুরাংগা স্কুল ক্রিকেটে ৪০টি সেঞ্চুরি আছে উইলিয়ামসনের! তুরাংগা বয়েজ কলেজে ২০০৪ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত পড়েছিলেন উইলিয়ামসন। এই স্কুলে থাকতেই উইলিয়ামসনের নাম ছড়িয়ে পড়েছিল গোটা দেশে। এর পরের গল্পটা তো তোমরা জানোই। এবার বিশ্বকাপে দারুণ করছেন তিনি। এখন পর্যন্ত করেছেন দুই সেঞ্চুরি, এক হাফসেঞ্চুরি।

জেসন রয়

ইংল্যান্ড

ইংল্যান্ডের মারকুটে ওপেনার জেসন রয়ের বাড়ি আসলে দক্ষিণ আফ্রিকায়। মাত্র দশ বছর বয়সে মা-বাবার সঙ্গে ইংল্যান্ড পাড়ি দেন তিনি। প্রথমে ভর্তি হন হাউথ্রনস স্কুলে, পরে হোয়াইটগিফট স্কুলে। তবে স্কুলে পড়ার সঙ্গে ক্রিকেট পাঠ চলত নিয়মিত। বিখ্যাত ক্রিকেট ক্লাব সারে অনূর্ধ্ব-১১ দলে খেলতেন তিনি। ক্রিকেটের বাইরে ছোটবেলা থেকেই বই পড়তে ভীষণ ভালোবাসেন। এক সাক্ষাত্কারে তিনি বলেছেন, কোনো ট্যুরে গেলে সব সময়ই ব্যাগে বই রাখতেন। সুযোগ পেলেই ডুবে যেতেন বই পড়ায়।

কুইন্টন ডি কক

দ. আফ্রিকা

উইকেট কিপিংয়ে দুর্দান্ত, ওপেনিংয়েও দারুণ। অনেকেই তাঁকে সাবেক অস্ট্রেলিয়ান কিপার অ্যাডাম গিলস্ক্রিস্টের সঙ্গে তুলনা করেন। এই বিশ্বকাপটা ভালো না গেলেও সাত বছরের ক্যারিয়ারে গর্ব করার মতো অনেক অর্জনই আছে তাঁর। জোহানেসবার্গের কিং এডওয়ার্ড সপ্তম স্কুলের ছাত্র ছিলেন কক। স্কুলে থাকতেই নিজের ব্যাটিং প্রতিভার জন্য পরিচিতি পান। কক এই দলের হয়ে হাজার হাজার রান করেছেন। এর পরই সুযোগ পান ২০১২ সালের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে। এখনো ব্যাটে রান না পেলে মনে করেন স্কুলের কোচদের কথা। ‘যখনই ব্যাটিং মনমতো হয় না, স্কুলের দিনগুলোর কথা মনে করি। তখনকার কোচদের কথা মনে করি। মনে করি, তখন কিভাবে এত রান করেছি। এটা আমাকে আত্মবিশ্বাসী করে।’ এক সাক্ষাত্কারে বলেছিলেন কক।

 

মন্তব্য