kalerkantho

শনিবার । ২০ জুলাই ২০১৯। ৫ শ্রাবণ ১৪২৬। ১৬ জিলকদ ১৪৪০

টেকনোক্রেসি ২০১৯

বিজ্ঞানপ্রেমীদের মিলনমেলা

4   

১০ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বিজ্ঞানপ্রেমীদের মিলনমেলা

প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীদের একাংশ

৪ জুলাই। ৭টা ছুঁই ছুঁই। ভিড় জমতে শুরু করেছে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) তড়িত্ ও কম্পিউটার প্রকৌশল ভবনের চতুর্থ তলায়। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আসা শিক্ষার্থীদের পদচারণে মুখর হয়ে উঠছে দেবদারু ঘেরা ১৫২ একরের সবুজ প্রাঙ্গণ। কারো হাতে নিজেদের বানানো রোবট, কারো হাতে পোস্টার, আবার কারো চোখে একরাশ কৌতূহল। তাঁরা এসেছেন তড়িত্ ও কম্পিউটার প্রকৌশল বিভাগ আয়োজিত জাতীয় প্রযুক্তি মহোত্সব ‘টেকনোক্রেসি ২০১৯’-এ যোগ দিতে।

দুই দিনের এই উত্সবে ছিল ছয়টি প্রতিযোগিতা। অংশ নিয়েছেন ৫০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ১২০০ শিক্ষার্থী। দুর্দান্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা শেষে লাইন ফলোয়িং রেসিংয়ে প্রাইম এশিয়া ইউনিভার্সিটির দল ‘ম্যাম্পল রোবোটিকস’, প্রজেক্ট শোকেসে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজির ‘রোবো নিনজা’, পোস্টার প্রেজেন্টেশনে রুয়েটের ‘চেঞ্জ মেকার’ ও প্রগ্রামিং কনটেস্টে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ডিইউ-সোয়াম্প ফায়ার’ এবং গেমিং কনটেস্টে রুয়েটের তড়িত্ ও কম্পিউটার প্রকৌশল বিভাগের মো. আনাস আহমেদ হয়েছেন চ্যাম্পিয়ন।

‘টেকনোক্রেসি ২০১৯’র অন্যতম সেরা আকর্ষণ ছিল স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ। প্রযুক্তির এই মহোত্সবে রাজশাহীর পাশাপাশি নাটোর, বগুড়া, এমনকি রংপুর থেকেও এসব খুদে বিজ্ঞানপ্রেমী ভিড় জমান। এবারের উত্সবে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি স্কুল-কলেজের এই শিক্ষার্থীদের জন্যও আয়োজন করা হয় দুটি প্রতিযোগিতা—সায়েন্স অলিম্পিয়াড ও জুনিয়র আইনস্টাইন। সায়েন্স অলিম্পিয়াডে পঞ্চম থেকে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জুনিয়র সেকশন, নবম ও দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের সেকেন্ডারি সেকশন এবং একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের হায়ার সেকেন্ডারি সেকশনে ভাগ করা হয়। জুনিয়র সেকশনে চ্যাম্পিয়ন হয় রাজশাহী ইউনিভার্সিটি স্কুলের মো. মুবাশ্বিরুল আলম। সেকেন্ডারি সেকশনে নাটোর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের রায়ান বিনতে মোস্তফা এবং হায়ার সেকেন্ডারিতে রাজশাহী কলেজের অনন্যা শাহরিন প্রমি হয়েছে চ্যাম্পিয়ন।

খুদে বিজ্ঞানীদের জন্য আয়োজিত জুনিয়র আইনস্টাইন প্রতিযোগিতায় আটটি দলকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক কলেজের দল ‘ব্রেইলি’। এ ছাড়া বিজ্ঞানকে জনপ্রিয় করতে ও সহজভাবে উপস্থাপনের লক্ষ্যে ন্যাশনাল মিউজিয়াম অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি থেকে আনা হয় দুটি মিউজো-বাস। বাস দুটিতে থাকা ৩০টি সায়েন্স প্রজেক্ট প্রদর্শনীর জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।

উত্সবের দ্বিতীয় ও শেষ দিনে অনুষ্ঠিত সেমিনারে সাইবার সিকিউরিটি, বায়োমেডিক্যাল, থিসিস পেপার সিলেকশন ও রাইটিংসহ বিভিন্ন বিষয়ের ওপর আলোচনা চলে। সেমিনার শেষে বিশ্ববিদ্যালয়টির মিলনায়তনে আয়োজিত হয় পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান। সেখানে প্রধান অতিথি রুয়েটের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. রাফিকুল ইসলাম শেখ ও বিশেষ অতিথি ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাশিউরেন্স সেলের ডিরেক্টর প্রফেসর ড. মুহাম্মদ আব্দুল গোফফার খান উপস্থিত ছিলেন। আরো ছিলেন রুয়েটের ছাত্র কল্যাণ পরিষদের পরিচালক, কোষাধ্যক্ষ ও শিক্ষক-শিক্ষিকারা।

প্রতিযোগিতার গণ্ডি ছাপিয়ে ‘টেকনোক্রেসি ২০১৯’ পরিণত হয়েছিল বিজ্ঞানপ্রেমীদের মিলনমেলায়। এবারের সাফল্যে ভরসা রেখে আয়োজকরা এটিকে আন্তর্জাতিক উত্সবে পরিণত করার স্বপ্ন দেখছেন।

মন্তব্য