kalerkantho

শনিবার । ২০ জুলাই ২০১৯। ৫ শ্রাবণ ১৪২৬। ১৬ জিলকদ ১৪৪০

বাগানবিলাস

মোয়াজ্জেম আফরান   

১০ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বাগানবিলাস

নিজ বাগানের সামনে আশরাফুল

রৌদ্রস্নাত সকাল। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের দিকে এগোতেই চোখে পড়ল রাস্তার দুই পাশে সারি সারি বাগান। পাশেই পুকুর। সেখান থেকে বালতি দিয়ে পানি তুলছেন নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মো. আশরাফুল ইসলাম হিমেল। গাছের গোড়ায় পানি ঢালবেন। ছোটবেলা থেকেই নিজ উদ্যোগে ফলদ বৃক্ষের বাগান করা যাঁর নেশা। এই বাগানটিও তিনিই গড়ে তুলেছেন। অবসর সময়টুকু এর পেছনেই ব্যয় করেন।

বাগানটি গড়ে তুলতে দুই বছর লেগেছে আশরাফুলের। ২৫০টিরও বেশি ফলদ বৃক্ষ রয়েছে এখানে। প্রতিটি গাছের উচ্চতা এখন ৮ থেকে ১২ মিটার। এর মধ্যে ৩০-৪০টি গাছে পেয়ারা ফলেছে; কয়েকটি গাছে পেকেছে কাঁঠাল। জানালেন, ২০১২ সালে ভর্তি হওয়ার পর থেকেই ক্যাম্পাসে বাগান করার সুপ্ত বাসনা জেগে ওঠে তাঁর মনে। কিন্তু নানা সীমাবদ্ধতার কারণে প্রথম দিকে কূল পাচ্ছিলেন না। তবু হাল ছাড়েননি। অপেক্ষার পালার শেষ হয় ২০১৭ সালের জুনে। জায়গা বরাদ্দের জন্য হল কর্তৃপক্ষের অনুমতি মেলে। বরাদ্দকৃত ১.০১ হেক্টর জায়গায় তিনি রোপণ করেন আম, জাম, কাঁঠাল, পেয়ারা, কদম ও মেহগনি গাছের চারা।

 

প্রাথমিকভাবে বাগানের বেড়া নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণসহ বিভিন্ন কাজে নিজের জমানো টাকাই খরচ করেছেন আশরাফুল। পরবর্তী সময় তাঁকে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করেছেন বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ, ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টি টেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মোজাম্মেল হক, রোটারি ক্লাব গ্রিন সিলেটের অ্যাসিস্ট্যান্ট গভর্নর আতাউর রহমান মিলন এবং ‘কিশোরগঞ্জ স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন, শাবিপ্রবি’র সদস্যরা।

আশরাফুল বললেন, ‘ছোটবেলা থেকেই বাগান করতে আমার ভালো লাগে। স্কুলের দিনগুলোতে কিশোরগঞ্জে নিজ বাড়ির আঙিনায় ও পাশের জমিতে কয়েকটি ফলদ বৃক্ষের বাগান আমার হাতে গড়া। ক্যাম্পাসে ফলদ গাছ কম থাকায় এই বাগানের ভাবনা এসেছিল মাথায়। এখন গাছগুলোর দিকে তাকালে দারুণ স্বস্তি অনুভব করি।’

বাগান সম্প্রসারণ ও পরিধি বাড়ানোর ইচ্ছা রয়েছে আশরাফুলের। তিনি বললেন, ‘আর্থিক বরাদ্দ পেলে আরো ২৫০টি গাছ রোপণ করতে চাই। আমার প্রত্যাশা, এখান থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্যেক শিক্ষার্থী বৃক্ষরোপণের প্রতি উত্সাহ পাবেন।’

বাগানটি সম্পর্কে উপাচার্য বলেন, ‘ক্যাম্পাসে ব্যক্তিগত উদ্যোগে বাগান তৈরি করায় আমি অনেক খুশি হয়েছি; অন্যদিকে এরই মধ্যে আমরা ক্যাম্পাসে ৭ থেকে ১০ হাজার গাছ রোপণের একটি প্রকল্প গ্রহণ করেছি। এই বাগানও সেটির আওতাভুক্ত হবে। কেননা পড়াশোনা শেষে আশরাফুল যখন ক্যাম্পাস থেকে চলে যাবে, বাগানটি যেন তখন কোনো অবহেলার শিকার না হয়, সেটি খেয়াল রাখা আমাদের দায়িত্ব।’

মন্তব্য