kalerkantho

রবিবার । ২৬ মে ২০১৯। ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ২০ রমজান ১৪৪০

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

অপেক্ষায় ঘোড়া ও ময়ূর

আলী ইউনুস হূদয়   

১০ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



অপেক্ষায় ঘোড়া ও ময়ূর

তৈরি হচ্ছে ময়ূরের ডামি। ছবি : অন্তর রায়

 শনিবার। সাপ্তাহিক ছুটির দিন। মধ্যদুপুরের প্রায় জনশূন্য ক্যাম্পাস। চারুকলা অনুষদের শিক্ষার্থী লাবু হক হেঁটে চলেছেন। গন্তব্য চারুকলা প্রাঙ্গণ। কথা হলো তাঁর সঙ্গে। বললেন, ‘ক্যাম্পাস ছুটি হলেও পহেলা বৈশাখ বরণের জোর প্রস্তুতি চলছে।’

চারুকলা প্রাঙ্গণের প্রধান ফটকের সামনে একদল শিক্ষার্থীর জটলা। কেউ মেঝেতে রাখা ময়ূরের কাঠের ডামিতে বাঁশের কাঠি তার দিয়ে বাঁধছেন। কেউ বাঁশ-কাঠের কাঠিগুলো এগিয়ে দিচ্ছেন। আবার কেউ কাজ নিয়ে বলছেন, ‘এটা ঠিক হয়নি, ওই জায়গায় আরো কাজ করতে হবে?’ বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামলেও যেন কাজ শেষ হয় না। দমকা হাওয়া আর বৃষ্টি উপেক্ষা করেই তৈরি হচ্ছে ময়ূর ও ঘোড়ার ডামি।

এই প্রথম এমন আয়োজনে যুক্ত হতে পেরে খুশি সাদিয়া সাবা সুস্মি। পড়ছেন চিত্রকলা, প্রাচ্যকলা ও ছাপচিত্র বিভাগের প্রথম বর্ষে। হাসিমুখে বললেন, ‘সকাল থেকে সন্ধ্যা, কোনো কোনো দিন রাত পর্যন্তও কাজ করছি। অনুষদের বড় ভাই-বোন, সহপাঠী, বন্ধু ও শিক্ষকদের সঙ্গে কাজ করার আনন্দ অন্য রকম।’

 

মৃিশল্প ও ভাস্কর্য বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী সঞ্জয় কুমার সূত্রধর জানালেন, ‘৩ এপ্রিল থেকে ডামি বানানোর কাজ শুরু হয়েছে। বৈশাখের আগের দিন পর্যন্ত চলবে। শেষ পর্যায়ে কাগজ লাগিয়ে এই ডামিগুলোকে বিভিন্ন রঙে রাঙিয়ে তোলা হবে।’

এবার পহেলা বৈশাখ উদ্যাপন আয়োজনের দায়িত্বে রয়েছেন চিত্রকলা, প্রাচ্যকলা ও ছাপচিত্র বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. বনি আদম, মৃিশল্প ও ভাস্কর্য বিভাগের সহকারী অধ্যাপক কনক কুমার পাঠক এবং গ্রাফিক ডিজাইন, কারুশিল্প ও শিল্পকলার ইতিহাস বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মনির উদ্দিন আহাম্মেদ। কনক কুমার পাঠক বলেন, ‘এবারের আয়োজনে লোকজ ও বাঙালির শিকড়কে অনুসরণ করা হয়েছে। ঘোড়া গতির বার্তা বহন করবে। ময়ূরের নাচ ও রঙিন পালক উত্সবের আমেজকে বোঝাবে।’

মন্তব্য