kalerkantho

শুক্রবার  । ১৮ অক্টোবর ২০১৯। ২ কাতির্ক ১৪২৬। ১৮ সফর ১৪৪১              

পথচিত্রে কালরাত স্মরণ

২৫শে মার্চ স্মরণ করে দীর্ঘ পথচিত্র এঁকেছিলেন একদল শিক্ষার্থী। এর নেতৃত্বে ছিলেন ইউনিভার্সিটি অব ডেভেলপমেন্ট অল্টারনেটিভের (ইউডা) শিক্ষার্থীরা। সেই আয়োজনের কথা জানাচ্ছেন মুতাসিম বিল্লাহ। ছবি তুলেছেন খাজা জিয়া

১০ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



পথচিত্রে কালরাত স্মরণ

রাজপথ যখন ক্যানভাস

সাদা রঙের ক্যানভাসে দুই পাশে লাল ও কালো রঙের ছড়াছড়ি। তুলির ছোঁয়ায় ফুটে উঠেছে নৃশংস, ভয়ংকর ও বিভীষিকার দৃশ্য। অসহায় মানুষ, নারীর সম্ভ্রম হারানোর আর্তনাদ, জীবন উত্সর্গকারী যোদ্ধাদের প্রতিচ্ছবি। এটি কোনো ছবি আঁকার খাতা বা বোর্ডের ক্যানভাস নয়, রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউ। ২৫শে মার্চ ভয়াল কালরাতকে স্মরণ করতে প্রতিবারের মতো এবারও আয়োজন করা হয় এই চিত্রাঙ্কনের। এতে অংশগ্রহণ করেছিলেন ইউনিভার্সিটি অব ডেভেলপমেন্ট অল্টারনেটিভ (ইউডা), স্কুল অব ডেভেলপমেন্ট অল্টারনেটিভ (সোডা), কলেজ অব ডেভেলপমেন্ট অল্টারনেটিভের (কোডা) শিক্ষার্থীরা। এই কর্মযজ্ঞ শুরু হয় সেদিন সন্ধ্যার পরপরই, শহীদদের আত্মার শান্তি কামনার মাধ্যমে। গণসংগীত ও কবিতা পাঠের আসরের পর সারা রাত চলে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক এই পথচিত্রাঙ্কন। মধ্যরাতে চলে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন।

এক বীর যোদ্ধার ছবি আঁকা হচ্ছে, পাশে দাঁড়িয়ে সেটি ক্যামেরাবন্দি করছিলেন আলোকচিত্রী সিফাত। তিনি জানালেন, প্রতিবছরই প্রাণের টানে এই চিত্রাঙ্কনে আসি। গণহত্যার ভয়াল রূপ ও মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্বের চিত্র এখানে তুলে ধরা হয়।

কালরাত স্মরণের শুরুর দিকের স্মৃতিচারণা করে ইউডার রেজিস্ট্রার ড. ইফফাত চৌধুরী বলেন, ‘১৯৯৩ সালের দিকে ধানমণ্ডির বাংলাদেশ মেডিক্যাল কলেজের সামনের রাস্তায় অধ্যাপক মুজিব খানের নেতৃত্বে গণহত্যা দিবসের স্বীকৃতির দাবিতে শুরু হয় এই দিবস পালন। তখন থেকে প্রতিবছর এই দিনে রাস্তায় মঞ্চ তৈরি করে গণসংগীত, কবিতা আবৃত্তি এবং সূর্যাস্তের পর থেকে কালো পতাকা ওড়ানোর আয়োজন করা হতো।’ তাঁর কথার সঙ্গে সংযুক্ত করে ইউডার চারুকলা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক শাহজাহান আহমেদ বিকাশ বলেন, ‘২০০৩ সালে তিনজন শিক্ষক ও ২৬ জন শিক্ষার্থী নিয়ে আমাদের বিভাগ এই চিত্রাঙ্কনের আয়োজন শুরু করে। তার পর থেকে নিয়মিত এই শৈল্পিক আয়োজনে অনেক বরেণ্য চিত্রকর অংশ নেন। এই আয়োজনে এখন পর্যন্ত আঁকা হয়েছে চার শতাধিক চিত্র।’

 

মন্তব্য