kalerkantho

বুধবার । ২০ নভেম্বর ২০১৯। ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২২ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

গণিত অলিম্পিয়াডে সেরা যাঁরা

আন্তর্জাতিক নারী দিবসে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের নারীদের নিয়ে অনুষ্ঠিত হয় তৃতীয় জাতীয় গণিত অলিম্পিয়াড। এটি যৌথভাবে আয়োজন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগ ও এ এফ মুজিবুর রহমান ফাউন্ডেশন। তাতে পুরস্কৃত হওয়া ১০ জনের মধ্যে সেরা তিনজনের কথা জানাচ্ছেন মীর হুযাইফা আল মামদূহ। ছবি তুলেছেন রাফিজ ইমতিয়াজ

১৩ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



নাদিয়া তাসনিম

সবার সেরা নাদিয়া তাসনিম

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত গণিতের প্রথম বর্ষের ছাত্রী নাদিয়া তাসনিম। স্কুল ও কলেজের পাঠ সেরেছেন গ্রিন হেরাল্ড স্কুল ও কলেজ থেকে। ছোটবেলা থেকেই অঙ্ক কষে আনন্দ পেতেন। মনে হতো, এ এক চ্যালেঞ্জিং ব্যাপার। অষ্টম শ্রেণিতে পড়ার সময়, সেন্ট জোসেফ স্কুলের আয়োজনে অনুষ্ঠিত ইন্টার স্কুল ম্যাথ অলিম্পিয়াডে চ্যাম্পিয়ন  হয়েছিলেন। নবম ও দশম শ্রেণিতেও বেশ কয়েকটি অলিম্পিয়াডে যোগ দিয়েছিলেন। কলেজে উঠে অংকের প্রতি ভালোবাসা আরো বেড়ে গেল তাঁর। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনও বেশ উপভোগ করছেন। একদিন ক্লাসে জেনেছিলেন উইমেন ম্যাথ অলিম্পিয়াডের কথা। আগের দিন তাই আগেরবার যেসব প্রশ্ন এসেছিল, সেগুলোতে নজর বুলিয়েছেন। ১১টা প্রশ্নের মধ্যে ৬টার পূর্ণ উত্তর দিয়েছিলেন। বাকিগুলোর সমাধান করেছেন একটু-আধটু। ভাবতে পারেননি, সবার সেরা হবেন। নাম ঘোষণার সময় বেশ হালকা মেজাজে ছিলেন। নিজের নাম শুনে তাই চমকে গিয়েছিলেন।

সাকিয়াতুল জান্নাত রুহী

পরিসংখ্যানের সাকিয়াতুল জান্নাত রুহী

রুহীও পড়েন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। পরিসংখ্যান বিভাগের ছাত্রী তিনি। অলিম্পিয়াডটির কথা জেনেছিলেন নিজ বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী পলিনের কাছ থেকে। অন্যদের মতো রুহীও ফরম জমা দিয়ে পরীক্ষা দিয়েছেন। তিনি জানান, ‘পরীক্ষা দেওয়ার পর বেশ ভালো লাগছিল। মন বলছিল, পুরস্কার পাওয়া ১০ জনের মধ্যে শেষ দুই-একটা নামের কোনোটা আমার হতে পারে!’ সে জন্য পুরস্কার বিতরণীর সময় দশম ও নবম স্থান অধিকারীর নাম বেশ মন দিয়ে শুনেছিলেন। তারপর আর মন দেননি! খারাপ হয়তো লাগছিল; কিন্তু অতটাও নয়। দ্বিতীয় স্থান ঘোষণার সময় যখন বলা হলো, ‘পরিসংখ্যান বিভাগ থেকে...’, তখন নড়েচড়ে বসলেন। নিজের বিভাগের কারো নাম বলা হবে, আর উল্লাস করবেন—এই ছিল ভাবনা। কিন্তু যেই নিজের নাম শুনলেন, তারপর থেকে আর কিছুই মনে নেই! কে যে প্রথম হয়েছে, কোন বিভাগ থেকে—কিচ্ছু না।

গাজীপুর ক্যান্টনমেন্ট গার্লস হাই স্কুল থেকে স্কুলজীবন ও  গাজীপুর ক্যান্টনমেন্ট কলেজ থেকে কলেজের পাঠ সেরেছেন রুহী। শুরুর দিকে পড়াশোনা তাঁর ভালোই লাগত না! হোম টিউটর তাওয়াব স্যার তাঁর সেই চিন্তাকে বদলে দিয়েছিলেন। তারপর থেকে পড়াশোনা উপভোগ করতে শুরু করেন রুহী। এখনো করছেন। নবম শ্রেণিতে বিজ্ঞান বিভাগ বেছে নেওয়ার সময় খেয়াল করলেন, একা একাই অঙ্ক করতে পারছেন। কোথাও আটকে গেলে তাঁকে দেখিয়ে দিতেন কুণ্ডু স্যার। আন্তর্জাতিক ম্যাথ অলিম্পিয়াডেও বেশ কয়েকবার অংশ নেওয়ার অভিজ্ঞতা আছে রুহীর। সে সময় লিভারের জটিল রোগে আক্রান্ত বাবা তাঁকে যেভাবে আগলে রেখেছিলেন, সে কথা মনে পড়লে এখনো তাঁর চোখ ভিজে আসে। অন্যদিকে কলেজে পড়ার সময়ে সোহাগ স্যার তাঁকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির যোগ্য করে তুলেছিলেন।

 

মুশিরাহ তাছনিম জানতেনই না!

তাছনিম পড়েন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষে। তিনি জানতেনই না, এই অলিম্পিয়াডে তৃতীয় হয়েছেন! ফোন করে তাঁকে জানাতেই উল্লসিত হয়ে উঠেছিলেন। অলিম্পিয়াডে তিনি অংশ নিয়েছেন প্রস্তুতি ছাড়াই। আয়োজনটির খবর ফেসবুকে জেনে বন্ধুরা মিলে ফরম পূরণ করেছিলেন। আর পরীক্ষা দিয়েই ফিরে গিয়েছিলেন বুয়েটে। পুরস্কার জিতবেন—এমন আশা ছিল না। তাছাড়া পরদিন নিজ বিভাগে পরীক্ষা ছিল বলে প্রস্তুতি নেওয়ার তাড়া ছিল তাঁর।

কুমিল্লার বরুড়া হাজী নোয়াব আলী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে স্কুলজীবন কেটেছে তাছনিমের। অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত অংকে যথেষ্ট কাচা ছিলেন। পরের ক্লাসেও বেশ ভুগতে হয়েছিল। এরপর নাজমুল হুদা স্যারের সাহায্যে অঙ্কভীতি কাটতে শুরু করে। সেই থেকে অঙ্ক তাঁর কাছে খুব প্রিয় বিষয়। তিনি কলেজের পাঠ সারেন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ থেকে। সেখানকার হোসেন স্যার তাঁকে খুব সাহায্য করেছেন। (ছবি তোলায় অনাগ্রহী হওয়ায় তাছনিমের ছবি প্রকাশ করা হলো না।)

মন্তব্য