kalerkantho

সোমবার । ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১১ রবিউস সানি ১৪৪১     

ঠাঁই হয়েছে হাসপাতালে

সাইমুন রহমান এলিট   

২০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ঠাঁই হয়েছে হাসপাতালে

১৯৯৭ সালের ১৯ জুলাই নিজেদের ব্যক্তিগত সংগ্রহের বইগুলো দিয়ে পাঠাগার করার জন্য এক জায়গায় জড়ো করেন উপকূলীয় শহর গলাচিপার কিছু জ্ঞানপিপাসু বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজপড়ুয়া শিক্ষার্থী। তাঁদের মধ্যে ছিলেন সুব্রত রায়, আনোয়ার হোসেন সিপন, মো. কাওসার, বিধান কর্মকার, পলাশ কর্মকার, সুজয় দাস, সুনির্মল গণপতিসহ আরো অনেকে। এলাকার প্রবীণ সাংবাদিক এবং সমাজকর্মী গনি মিয়ার নামে নাম দেওয়া হয় ‘আব্দুল গনি স্মৃতি পাঠাগার’। এ সময় অনুপ্রেরণা দেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. আব্দুল মালেক ও ডা. অনীল মণ্ডল। পাঠাগারের বই সংগ্রহ হলেও পাঠকক্ষ ছিল না। অস্থায়ীভাবে গলাচিপা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিল অফিসে জায়গা হয় পাঠাগারটির। নিজেদের বাসা থেকে ভাঙা ও পরিত্যক্ত চেয়ার-টেবিল এনে পাঠাগারে রাখেন ওই শিক্ষার্থীরা।

২০০১ সালে মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিল অফিসের রুমটি ছেড়ে আসতে হয়। পরে স্থানীয় বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় রোডে ৪৫০ টাকায় ভাড়া করা ছোট্ট একটি কক্ষে চলে এর কার্যক্রম। অর্থাভাবে সে ঘরটিও ছাড়তে হয়। অস্থায়ী ঠাঁই হয় গলাচিপা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির পরিত্যক্ত ঘরে। খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলতে থাকা পাঠাগারটির আসবাবপত্র ও বই নষ্ট হয়ে যাচ্ছিল।

২০০৭ সালে উপকূলীয় এলাকার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় সিডরে ক্ষতিগ্রস্ত হয় পাঠাগারের বই ও আসবাবপত্র। এ সময় প্রথম আলো পত্রিকার বন্ধুসভা আসবাবপত্র ও ৫০০ বই দিয়ে সহযোগিতা করে। কিছুদিন পরেই শিক্ষক সমিতির ঘরটিও ছেড়ে দিতে হয়। বই ও আসবাবপত্র রাস্তার পাশে, কিছু কিছু বিভিন্নজনের ঘরে ঘরে রাখা হয়। এ সময় ডা. আব্দুল মালেকের চেষ্টায় কালীবাড়ি রোডে পুরনো ও পরিত্যক্ত এক হাসপাতালের ভাঙা কক্ষে ঠাঁই হয় পাঠাগারের। এখন সেখানেই ভিড় করছেন জ্ঞানপিপাসু শিক্ষার্থী, যুবক ও প্রবীণরা।

শুক্রবার বিকেলে পাঠাগারে গিয়ে দেখা যায় বিভিন্ন শ্রেণির কয়েকজন শিক্ষার্থী গভীর মনোযোগ দিয়ে বই ও পত্রিকা পড়ছে। কলেজপড়ুয়া মিতু আখতার, ফয়সাল, এসএসসি পরীক্ষার্থী মো. সাইদুল ইসলাম, নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী সাইদুল ইসলাম সাইদ, সৌরভ, পঞ্চম শ্রেণির বৃষ্টি বই পড়ছে। পাঠাগারে সম্পৃক্ত হলে কিভাবে? এমন প্রশ্নের জবাবে মিতু বলে, “২০১৫ সালে পাঠাগারের উদ্যোগে ‘আমিও পারি’ নামের একটি কুইজ প্রতিযোগিতায় অংশ নিই। ওই সময় থেকেই বই পড়া ও পাঠাগারের প্রতি আকৃষ্ট হই। এখন স্কুল-কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদের পাঠাভ্যাস গড়ে তোলার জন্য ক্যাম্পেইন করি।”

গলাচিপা সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী সাইদুল ইসলাম সাইদ বলে, ‘পাঠাগারে অনেক বই রয়েছে। এতগুলো বই কিনে পড়া সম্ভব হয় না। আমাদের শ্রেণি পাঠের সঙ্গে সম্পৃক্ত বইও আছে।’ পাঠাগারে বৃহস্পতি ও শুক্রবার সাধারণত শিক্ষার্থীদের ভিড় থাকে বেশি। 

আব্দুল গনি স্মৃতি পাঠাগারের অন্যতম উদ্যোক্তা সুব্রত রায় ও আনোয়ার হোসেন শিপনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, শুধু পুঁথিগত বিদ্যাই নয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে ছাত্র-ছাত্রীদের সম্পৃক্ত করে দেশাত্মবোধ জাগিয়ে তুলতেই পাঠাগারটি প্রতিষ্ঠা করা হয়।

পাঠাগারের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল হাসান রুসেল বলেন, ‘বর্তমান প্রজন্মের শিক্ষার্থীরা যেভাবে বইবিমুখ হয়ে পড়ছে তাতে ভবিষ্যত্ খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। এ কারণেই পাঠাগারে বেশি সময় দেওয়া।’

মাসিক মাত্র ২০ টাকা চাঁদা দিতে হয় সদস্যদের। এখানে গল্প, উপন্যাস, বিভিন্ন গুণী ব্যক্তির আত্মজীবনী, স্বাধীনতার দলিলসহ এক হাজার ৫০০-এর বেশি বই রয়েছে। এ ছাড়া দৈনিক পত্রিকাও রাখা হয়।

 

 

মন্তব্য