kalerkantho

বুধবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৩ রবিউস সানি     

সামিরের আঁকার জগৎ

তুখোড় আঁকিয়ে সামিরের আঁকাআঁকির খবরাখবর জানাচ্ছেন মুসাররাত আবির জাহিন

৯ মে, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সামিরের আঁকার জগৎ

ক্লাসে শিক্ষক উপস্থিত না থাকলে অন্য ছেলেরা যখন  হৈ-হুল্লোড় করত, তখন ক্লাসের এক কোণে চুপচাপ বসে খাতায় আঁকিবুঁকি করত সামির। তার এমন স্বভাবের জন্য সহপাঠীরা কম খ্যাপায়নি। কিন্তু যার মাথায় আঁকাআঁকির ভূত চেপে আছে, তার এসবে কী-ই বা যায় আসে?

খিলগাঁও গভর্নমেন্ট হাই স্কুল থেকে এবার এসএসসি পাস করেছে আনিসুল ইসলাম সামির। একেবারে ছোট্টটি থাকতেই আঁকায় হাত পাকিয়ে ফেলে। এরপর বন্ধুদের অনুরোধে তাদের ছবি আঁকতে গিয়ে পোর্ট্রেট আঁকাতেও দক্ষ হয়ে ওঠে। কিন্তু একদিন তার মনে হলো, কত দিন আর এই একই ধাঁচে ছবি আঁকবে? ব্যস, শুরু হয়ে গেল বিভিন্ন ধরনের আঁকার চর্চা! ক্যারিকেচার, ডুডল, পোর্ট্রেট, কমিক ডিজিটাল ইলাস্ট্রেশন, সাইকেডেলিক ড্রয়িং,  এনিমে ড্রয়িং, সাবজেক্ট ড্রয়িং, ওয়াল পেইন্টিং—কিসে তার দক্ষতা নেই? এখন পর্যন্ত সামির তিনটি বইয়ে ইলাস্ট্রেশনের কাজ করেছে, এর মধ্যে একটি বিখ্যাত রম্য লেখক আহসান হাবীবের বই। ছবি আঁকা নিয়ে তার প্রাপ্তির ঝুলি কম বড় নয়। স্কুলের আর্ট ক্লাবের প্রেসিডেন্ট ছিল সে। এ ছাড়া বিভিন্ন চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে বেশ কয়েকটি মেডেল, ক্রেস্ট ও সার্টিফিকেট পেয়েছে। নিজ স্কুলে প্রথম থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত সব ধরনের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার প্রথম পুরস্কারটা বাঁধা থাকত সামিরের জন্য! বিজয় দিবস হোক কি স্বাধীনতা দিবস—আঁকা মানেই বিজয়ী সামির। তার খ্যাতি অবশ্য শুধু নিজ স্কুলের গণ্ডিতেই আটকে থাকেনি। ২০১২ সালে গবর্নমেন্ট ল্যাবরেটরি হাই স্কুল আয়োজিত স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও ২০১৩ সালে মতিঝিল গভ. বয়েজ হাই স্কুল আয়োজিত জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার প্রথম স্থানটিও ছিল তার দখলেই! এ ছাড়া ‘ইমাজিনেশনস’ নামের এক প্রতিষ্ঠানের ‘শিশুরাই সুন্দর’ চিত্র প্রদর্শনীতে তার আঁকা ছবি পরপর পাঁচ বছর প্রদর্শিত হয়েছে।

জাতীয় পত্রিকায়ও সামিরের আঁকা ছবিগুলো কয়েকবার এসেছে! এত কম বয়সেই এত সাফল্যের রহস্য জানতে চাওয়ায় মুচকি হেসে বলল, ‘অনুশীলন, অনুশীলন ও অনুশীলন—এই হলো আমার আঁকার রহস্য। দিনে পড়ালেখা ছাড়া বাদবাকি সময় এই আঁকা নিয়েই থাকি।’ তবে বাসা থেকে যে সব সময় সবার অনুপ্রেরণা পেয়েছে তা নয়। কখনো মা আঁকাআঁঁকি বাদ দিয়ে ভালোমতো পড়াশোনা করতে বলেন। কিন্তু সামিরের আঁকার উৎসাহটা আবার পায় মায়ের কাছ থেকেই।

ছবি আঁকার প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে গিয়ে কখনো মজার অভিজ্ঞতাও হয়েছে। ২০১১ সালে লেখক আনিসুল হকের সঙ্গে প্রথম দেখা হয় এক চিত্র প্রদর্শনীতে। আর সেখানে আনিসুল হকই ছোট্ট আনিসুলের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। এর ঠিক ছয় বছর পর আনিসুল হকের সঙ্গে আবার সামিরের দেখা হয়। আর এবার আনিসুল হকের একটি সুন্দর ছবি এঁকে সামির তাঁকে উপহার দেয়। আর বলে—‘স্যার, আপনিও আনিসুল, আর আমিও আনিসুল।’ সামিরের আঁকাআঁকিগুলো দেখতে চাইলে ঢু মারতে পারো তার ফেসবুক পেজ (The Outlinist) এবং ইনস্টাগ্রাম পেজে ( the_outlinist)-এ। জিম লিকে নিজের আদর্শ মানা সামির বড় হয়ে একদিন বড় কমিক আর্টিস্ট হতে চায়। এ ছাড়া তার ইচ্ছা, দেশীয় এনিমেশন মুভি বানিয়ে এনিমেশন জগতে বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করা।

মন্তব্য