kalerkantho

সোমবার। ২৭ মে ২০১৯। ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ২১ রমজান ১৪৪০

নতুন অনুষদ ও বিভাগ খোলা হবে

যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণ করা ড. ফাদার প্যাট্রিক ডানিয়েল গ্যাফনি, সিএসসি যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব নটর ডেম থেকে ১৯৬৯ সালে ‘ক্লাসিক্যাল অ্যান্ড মডার্ন ল্যাঙ্গুয়েজেস অ্যান্ড লিটারেচার’-এ বিএ ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৭২ সালে নেদারল্যান্ডসের জরলশংঁহরাবত্ংরঃবরঃ ঃব টঃত্বপযঃ থেকে থিওলজিতে ডিপ্লোমা, ১৯৭৩ সালে ইউনিভার্সিটি অব নটর ডেম থেকে মাস্টার্স ইন থিওলজি, ১৯৭৭ সালে ইউনিভার্সিটি অব শিকাগো থেকে নৃতত্ত্বে এমএ এবং একই ইউনিভার্সিটি থেকে ১৯৮২ সালে নৃতত্ত্বে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৮০ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত তিনি যুক্তরাষ্ট্রে ইউনিভার্সিটি অব নটর ডেমে নৃতত্ত্ব অধ্যাপনা করেছেন। মাঝখানে, ২০১৩ খ্রিস্টাব্দে, এক বছরের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিজিটিং প্রফেসর ছিলেন। ২০১৭ সালের আগস্ট থেকে তিনি নটর ডেম ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের উপাচার্য

ড. ফাদার প্যাট্রিক ডানিয়েল গ্যাফনি, সিএসসি উপাচার্য, নটর ডেম ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ   

১৩ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নতুন অনুষদ ও বিভাগ খোলা হবে

বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের লেখাপড়ার মধ্যে কী কী পার্থক্য রয়েছে?

বাংলাদেশ আর যুক্তরাষ্ট্রের পড়ালেখার মধ্যে কিছু কিছু ক্ষেত্রে বড় ধরনের পার্থক্য আছে। যুক্তরাষ্ট্রের হাই স্কুল হলো দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত। সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ে আসার আগে স্কুলপর্যায়ে সব শিক্ষার্থীই এক সিলেবাস অনুসারে শিক্ষা গ্রহণ করে। বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে তারা তাদের ভবিষ্যত্ লক্ষ্য অনুযায়ী বিভাগ বেছে নেয়। আরো একটা বিষয় হলো: যুক্তরাষ্ট্রে সব নাগরিককেই রাষ্ট্রকাঠামো সম্পর্কে জানতে হয়। রাষ্ট্রের প্রতি কার কী কর্তব্য আছে, তা তাদের জানতে হয়, যেন কেউ দায়িত্বহীন আচরণ না করে ও কোনো অবাস্তব দাবি নিয়ে না আসে। সুনাগরিকত্ব সম্পর্কে তাদের গঠন স্কুলপর্যায়ে হয়ে যায়। বাংলাদেশে ওই সব মৌলিক শিক্ষা ও গঠন থাকলে মানুষ দেশের প্রতি আরো শ্রদ্ধাশীল ও দায়িত্বশীল হবে। যুক্তরাষ্ট্রে পড়ালেখার মাধ্যমে অনেক জানতে হয়, পড়তে হয়, নিজে নিজে অনেক কাজ করতে হয়। বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ইংরেজি মাধ্যমে পড়ালেখা করানো হয়। কিন্তু স্কুল ও কলেজপর্যায়ে তাদের বেশির ভাগই বাংলা মাধ্যমে পড়ে। বেশির ভাগই ইংরেজি মাধ্যমের স্কুলগুলোর বেতন বেশি বলে শুধু ধনীরা তাঁদের সন্তানদের সেগুলোয় পাঠাতে পারেন। কাজেই বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে ইংরেজি ভালো জানা না থাকায় অনেক শিক্ষার্থী পড়ালেখায় ভালো করতে পারে না। আরো একটি বিষয় হলো, বাংলাদেশের স্কুলগুলোতে শিক্ষার্থীর পরিমাণ খুব বেশি হওয়ায় শিক্ষকরা সব শিক্ষার্থীর প্রতি ব্যক্তিগতভাবে নজর দিতে পারেন না। এ কারণে অনেক শিক্ষার্থীর মনে প্রশ্ন থাকলেও তারা তা করতে পারে না। যুক্তরাষ্ট্রে প্রাইভেট টিউশন বা প্রাইভেট কোচিং দরকার হয় না, কারণ সবই তারা শিক্ষালয়ে পড়ে।

বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থায় নটর ডেম কলেজের যে সুনাম আছে, নটর ডেম ইউনিভার্সিটি তা কিভাবে ধরে রাখবে?

সারা দেশে নটর ডেম কলেজের সুনাম আছে এবং সেটি একগুচ্ছ নীতিতে চলে। ইউনিভার্সিটি নিশ্চয়ই একটু বড় পরিসরে চলবে এবং এটির নিয়ম-কানুনগুলো অবশ্যই আলাদা হবে। মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষাদানের পাশাপাশি অন্যান্য যে নিয়ম-কানুনই থাকুক, সেগুলো যথাযথভাবে পালন করা আমরা নিশ্চিত করব। এখানে গভীর তত্ত্ব সম্পর্কে গবেষণা ও বৌদ্ধিক উন্নয়নের ওপর বেশি জোর দেওয়া হবে যেন শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যত্ কর্মজীবনের জন্য নিজেদের প্রস্তুত করে তুলতে পারে।

অন্য বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর চেয়ে নটর ডেম ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ কেন আলাদা?

অনুন্নতকে উন্নত করা, মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষা দেওয়া, হূদয়ের গঠনও আমাদের লক্ষ্য। সব শিক্ষার্থীকে সঠিকভাবে পড়ালেখায় মনোনিবেশ করানো ও বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম-কানুনের প্রতি বিশ্বস্ত হতে অনুপ্রাণিত করা, সমস্যাগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের সমস্যা থেকে বের হয়ে আসতে সাহায্য করা ইত্যাদি আমাদের নীতি। বিশ্ববিদ্যালয় রাজনীতিমুক্ত থাকবে আর শিক্ষার্থীরা যথাযথভাবে পড়ালেখায় মন দেবে। তারা এখানে যা শিখবে, তা জীবনে কাজে লাগাবে। তারা বিশ্বস্ত হবে, অন্যের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হবে, সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব বজায় রাখবে। এখানকার পরিবেশটা ইতিমধ্যেই ভিন্নরূপ লাভ করেছে। নটর ডেম ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ বাস্তবসম্মত নিয়ম-কানুন স্থির করে, যা স্থির করে তা প্রয়োগ করে। এ কারণে এটি আলাদা হবে। 

বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে ভবিষ্যত্ পরিকল্পনা কী?

নতুন দালান তৈরি হওয়ার পর এনডিইউবিতে নতুন নতুন অনুষদ ও বিভাগ খোলা হবে। বিজ্ঞানের বেশ কয়েকটি বিভাগ থাকবে। জ্ঞানের চর্চা আরো বেশি বাড়বে এবং গবেষণার ওপর সেখানে বেশি জোর দেওয়া হবে, যেন শিক্ষার্থীরা দেশ ও বিশ্বের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে। ভবিষ্যতে অনেক বিদেশি শিক্ষক এনডিইউবিতে আসবেন এবং এনডিইউবির শিক্ষকরা বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নতুন নতুন অভিজ্ঞতা অর্জন করবেন।

মন্তব্য