kalerkantho

রবিবার। ১৬ জুন ২০১৯। ২ আষাঢ় ১৪২৬। ১২ শাওয়াল ১৪৪০

নটর ডেম ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ বিশেষ আয়োজন

মূল্যবোধ শিক্ষার ওপর জোর দিচ্ছে নটর ডেম ইউনিভার্সিটি

সু ও শিক্ষিত নাগরিক গড়ে তোলার জন্য হলিক্রসের ফাদাররা বাংলাদেশে ২৭০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৫০টি হাই স্কুল, ১২টি কলেজ ও ১৪টি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছেন। কয়েক দশক ধরে তাঁরা মানসম্পন্ন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করছিলেন। সেই প্রয়োজনীয়তা থেকেই জন্ম নিয়েছে নটর ডেম ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ। বিশ্ববিদ্যালয়টি নিয়ে তাঁদের উদ্যোগ ও পরিকল্পনার বিষয়ে বলেছেন রেজিস্ট্রার ফাদার আদম এস পেরেরা, সিএসসি। এই বিশেষ আয়োজনে লিখেছেন ছাইফুল ইসলাম মাছুম

১৩ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০ | পড়া যাবে ১৮ মিনিটে



মূল্যবোধ শিক্ষার ওপর জোর দিচ্ছে নটর ডেম ইউনিভার্সিটি

বাংলাদেশের অন্যতম সেরা কলেজ নটর ডেমের ধারাবাহিকতায় কেন নটর ডেম ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হলো?

নটর ডেম কলেজের মূল উদ্দেশ্য—সুশিক্ষিত মানুষ গড়া, বাংলাদেশের জন্য সুনাগরিক সৃষ্টি। এ লক্ষ্যে পৌঁছার জন্য যেসব কার্যক্রমের মধ্যে শিক্ষার্থীদের পরিচালনা করা হয়, সেগুলো খুবই অল্প সময়ের জন্য, দেড় বছরের চেয়ে একটু বেশি। সময় খুব সামান্য হলেও তারুণ্যে তারা নটর ডেম কলেজ থেকে যা লাভ করে, সারা জীবনই সেগুলো মনে রাখে। যদি এই বয়সেই অধিকতর তরুণদের ভর্তি করে এসব নিয়ম-কানুন, প্রক্রিয়া ও পরিবেশে পরিচালিত করা যায়, তবে আরো অনেকের এই গঠনটি দেওয়া সম্ভব হবে। স্থানাভাবের কারণে সেটি সম্ভব হচ্ছে না। নটর ডেম কলেজে তরুণদেরই শিক্ষার ব্যবস্থা আছে, তরুণীদের তো নেই। বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার এও অন্যতম কারণ। কাজেই যুব বয়সে আমাদের ছেলে-মেয়েরা যেন অন্তত চার বছর এখানে শিক্ষা লাভ করে জ্ঞানচর্চার পাশাপাশি জীবন গঠনের যথাযথ মূল্যবোধ শিখতে পারে, দেশের জন্য আরো বেশি সংখ্যায় মূল্যবান সম্পদ হয়ে উঠে, সে কারণেই নটর ডেম ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ (এনডিইউবি) প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। 

নিয়ম-কানুনের জন্য কলেজের সুনাম সুবিদিত। ইউনিভার্সিটিতে সেটি কিভাবে প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছেন?

এনডিইউবি যথাযথ মৌলিক নিয়মানুসারে চলছে। ভর্তির পর থেকে শিক্ষাজীবনের শেষ পর্যন্ত তাদের যথাসময়ে ক্লাসে উপস্থিতি, সক্রিয় অংশগ্রহণ, নিয়মিত কুইজ লেখা, বাড়ির কাজ ঠিকমতো করা ও জমাদান, প্রস্তুতি নিয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ ইত্যাদি নিয়ম পালন করানো হচ্ছে। তারা যেন সবার সঙ্গে সদ্ভাব বজায় রাখে, ছেলে ও মেয়েরা যেন পরস্পরকে শ্রদ্ধা ও সম্মান করে, পরিবেশ দূষিত না করে, তা ঘন ঘন স্মরণ করে দেওয়া হয়। এভাবে পড়ালেখা শেষ করে কয়েকটি ব্যাচ বেরিয়ে কর্মক্ষেত্রে তাদের ব্যক্তিত্ব ও কাজ তুলে ধরতে পারলে নিয়ম-কানুন ও অন্যান্য ভালো অবদানের জন্য কলেজের মতো ইউনিভার্সিটির সুনামও সবার কাছে সুবিদিত হবে। কলেজের নিয়ম-কানুনের অভিজ্ঞতা নিয়েই আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছি।

যেসব বিভাগ চালু আছে, কেন চালু করা হলো এবং সেগুলোর বিশেষত্ব?

এমন কয়টি বিভাগ দিয়ে শুরু করা হয়েছে, যেগুলো সহজে আরম্ভ করা যায় ও শিক্ষার্থীদের কাছে গ্রহণীয় হয়। ফলে বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই), ইংরেজি, আইন ও অর্থনীতি—এই পাঁচটি বিভাগ আছে। নতুন ভবন নির্মাণের প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে চলছে। সেটি তৈরি হলে আরো সাতটি বিভাগে পাঠদান সম্ভব হবে। সেগুলো হলো—ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (স্নাতক ও স্নাতকোত্তর), ফার্মেসি, সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং, আর্কিটেকচার, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা, সামাজিক বিজ্ঞান বা নৃতত্ত্ব (স্নাতক ও স্নাতকোত্তর) ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়ার খরচ অনেক। নটর ডেমে কেমন?

লেখাপড়ার খরচ সহনীয়। উদাহরণ দিই—সিএসই ক্রেডিটপ্রতি চার হাজার ৫০০, বিবিএ চার হাজার, আইন তিন হাজার ৫০০, ইংরেজি ও অর্থনীতি তিন হাজার টাকা। প্রথম সারির বেশ কয়েকটি ইউনিভার্সিটিতে এই খরচ আমাদের চেয়ে অনেক বেশি। তবে এখানে লেখাপড়ার মান মোটেও খারাপ নয়। এই বিশ্ববিদ্যালয় কারো সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে না, নিজস্ব ভাবধারায় শিক্ষার আলো বিতরণ করবে। কড়াকড়ি নিয়ম-কানুন ও এসব প্রক্রিয়া যেসব অভিভাবকের ভালো লাগবে, তাঁরা সন্তানদের শিক্ষাদানের জন্য ভর্তি করবেন।

ইংরেজি ভাষা দক্ষতার ওপর জোর দিচ্ছেন কেন?

বাংলা মাধ্যম থেকেই বেশির ভাগ শিক্ষার্থী ভর্তি হচ্ছে। প্রাথমিক স্তর থেকেই তাদের সবার ইংরেজির ভিত্তি দৃঢ় হয় না বলে এ বিষয়ে তাদের খুব দুর্বলতা থাকে। ইংরেজিতে খুব সাধারণ যে ভুলগুলো আমাদের শিক্ষার্থীরা করে, সেগুলো শুদ্ধ করে দেওয়ার মতো অতীতে হয়তো তাদের কেউ ছিল না। কিন্তু এখানে লেখাপড়ার মাধ্যম ইংরেজি বলে শুরু থেকে এদিকে বিশেষ জোর দেওয়া হয়। যারা ইংরেজির কারণে লেখাপড়ায় খারাপ করছে, তাদের জন্য বিশেষ ক্লাসের ব্যবস্থা করা হয়। ইংরেজি বর্তমান বিশ্বে সবচেয়ে ব্যবহূত ভাষা, বর্তমান গ্লোবাল মার্কেটের সর্বত্রই ইংরেজির প্রচলন আছে। সে ক্ষেত্রে টিকতে হলে মাতৃভাষা শেখার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের অবশ্যই ইংরেজি ভালোভাবে জানতে হবে। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে হলেও ইংরেজি জানতে হবে।

সহশিক্ষাক্রমিক কার্যক্রমে ছাত্র-ছাত্রীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে ও সহায়তা করতে উদ্যোগ?

পড়ালেখা নিয়ে সারাক্ষণ ব্যস্ত থাকলে এই প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে অগ্রসর হওয়া যাবে না। টিকে থাকতে আরো অনেক কিছু জানা দরকার। ফলে এনডিইউবিতে বিভিন্ন ক্লাব চালু করা হচ্ছে। এখন কম্পিউটার ক্লাব, বিজনেস ক্লাব, ইংলিশ ক্লাব, ল ক্লাব, ড্রামা ক্লাব, ডিবেটিং ক্লাব ও কালচারাল ক্লাব আছে। প্রতিটি ক্লাবের সংবিধানে কার্যক্রমের কথা উল্লেখ রয়েছে। মডারেটররা সদস্যদের পরিচালনা ও ক্লাবের কার্যক্রমে সমন্বয় করেন। ক্লাবগুলো যাতে নিয়মিত কার্যক্রমের উদ্যোগ নেয়, সেদিকে কর্তৃপক্ষ নজর দেয়, ভালোভাবে কার্যক্রম পরিচালনায় পরামর্শ দেয়, কার্যক্রমে সঙ্গে থাকে।

মূল্যবোধ শিক্ষায় জোর দিচ্ছেন বলে জেনেছি। কেন? প্রক্রিয়াগুলো কী?

মূল্যবোধ শিক্ষার ওপর এনডিইউবি কেন এত জোর দিচ্ছে তার উত্তর ‘মূল্যবোধ’ কথাটির মধ্যেই আছে। মূল্যবোধ মানুষের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ, সারা জীবন ধরে রাখার মতো সম্পদ। চরিত্রবান হওয়া মানুষের মূল্যবোধের সম্পদ, কেননা, চরিত্র হারিয়ে গেলে তার আর কিছুই থাকে না। নিয়মানুবর্তিতাও মূল্যবোধ। ক্লাস, পরীক্ষা ও অন্যান্য কার্যক্রম আমরা সময়মতো শুরু ও শেষ করি। যারা এই মূল্যবোধগুলো শিখবে, তারা পরবর্তী জীবনেও নিয়মানুবর্তী হবে। বিশ্বস্ততাও মূল্যবোধ। শিক্ষার্থীদের নিয়ম-কানুনের প্রতি বিশ্বস্ত হতে শেখাই। ৮০ শতাংশ ক্লাসে উপস্থিত থাকার জন্য সে নম্বর পায়, কিন্তু ৭০ শতাংশের নিচে উপস্থিতির কারণে ফাইনাল পরীক্ষায় অংশ নিতে পারে না। এভাবে নিয়মিত উপস্থিতিতে অভ্যস্ত হলে কর্মজীবনে তারা নিয়মিত উপস্থিত না হতে পারলে তাদের বিবেক দংশন করবে। সততা ও শ্রমের মর্যাদাও মূল্যবোধ। পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বন না করে কষ্টার্জিত ভালো ফলাফলে আমরা তাদের নির্মল আনন্দ পেতে অভ্যস্ত করাই। যেন ভবিষ্যতে সব কিছু কষ্ট করে অর্জন করতে শেখে, করুণা ভিক্ষার মাধ্যমে নয়।

ক্যাম্পাসকে কিভাবে রাজনীতি, মাদক ও দুর্নীতির হাত থেকে রক্ষা করবেন?

আমরা নটর ডেম কলেজকে রাজনীতিমুক্ত রাখতে সক্ষম হয়েছি। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায় ভিন্ন। কারণ এখানে যারা অধ্যয়ন করে, তাদের বয়স, বোধ সামান্য বেশি। তবে এখানেও সেই নীতিগুলো অনুসরণ করে সাফল্য অর্জন করতে পারব বলে আমরা আশা করি। এ জন্য সব শিক্ষার্থীর সঙ্গে আমরা শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ভালো সম্পর্ক রাখি, ক্লাবসহ সহশিক্ষাক্রমিক কার্যক্রমে তাদের ব্যস্ত রাখতে চেষ্টা করি, সব সময় তাদের ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করি। অনাকাক্ষিত কিছুর আভাস পেলে সঙ্গে সঙ্গে ছাত্র বা ছাত্রীকে ডেকে তার সঙ্গে আলাপ করে সুপথে ফিরিয়ে আনতে চেষ্টা করি। যদি কেউ ক্যাম্পাসের বাইরে মাদক নেয়, আমরা তো কিছু করতে পারি না। সে ক্ষেত্রে মা-বাবার কর্তব্য আছে। তাঁরা যদি সন্তান সম্পর্কে এমন কিছু জানেন এবং শিক্ষকদের বলেন, তবে আমরা তাদের কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে ভালো পথে ফিরিয়ে আনতে চেষ্টা করি। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো কার্যক্রমে আমরা দুর্নীতি করি না, হতেও দিই না। দুর্নীতিতে কারো জড়ানোর সুনির্দিষ্ট তথ্য পেলে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে তা নিরসনের চেষ্টা করি। শিক্ষার্থী যদি নকলসহ কোনো দুর্নীতির আশ্রয় নেয় তবে আমরা তাকে গঠনমূলক শাস্তি দেই। এভাবেই কলেজের মতো বিশ্ববিদ্যালয়টিও সাফল্য লাভ করবে বলে আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি। কারণ রাজনীতি, মাদক, দুর্নীতি ইত্যাদি বিষয়গুলো শিক্ষার্থীদের ধ্বংসের পথে ঠেলে দেয়, সমাজও নষ্ট হয়ে যায়।

মূল ভ্রাতৃ বিশ্ববিদ্যালয় যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানার নটর ডেম ইউনিভার্সিটির সঙ্গে শিক্ষা কার্যক্রমে এই বিশ্ববিদ্যালয় কোনভাবে উপকৃত হবে?

যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানার ইউনিভার্সিটি অব নটর ডেম (ইউএনডি) আমাদের সবচেয়ে বড় ও প্রথম সারির ইউনিভার্সিটি। আমাদের আরো ইউনিভার্সিটি আছে, যেমন—পোর্টল্যান্ড ইউনিভার্সিটি, সেন্ট অ্যাডওয়ার্ড ইউনিভার্সিটি, কিংস কলেজ, স্টোনহিল কলেজ, সেন্ট মেরি’স কলেজ। সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গেই আমাদের শিক্ষা ভাবনা বিনিময় হয়, তাঁদের সবার দ্বারাই আমরা উপকৃত হতে পারব। তাঁরাও আমাদের মাধ্যমে উপকৃত হতে পারবেন। ইউএনডির সঙ্গে আমাদের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের ফলে চার বছরে তাদের তিনটি দল এখানে এসে শিক্ষাবিষয়ক নানা সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেছে, এখান থেকেও তিনটি দল গেছে। ফলে এখন আমাদের ইংরেজি বিভাগের একজন শিক্ষক ইউএনডিতে এক বছর অবস্থান করে আধুনিক শিক্ষাপদ্ধতি, গবেষণাসহ নানা বিষয়ে শিখছেন, তাঁর ইংরেজি ভাষাও সমৃদ্ধ হচ্ছে। ফিরে এসে তিনি নটর ডেম ইউনিভার্সিটির অন্য শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের উন্নয়নে সহায়তা করতে পারবেন। আগামী জানুয়ারির শেষ সপ্তাহে ইউএনডি থেকে দুজন বিশেষজ্ঞ এসে এখানে প্রায় ১০ দিন  থেকে আমাদের শিক্ষকদের শিক্ষাদানের নতুন নতুন পদ্ধতিসহ নানা বিষয়ে সহায়তা দেবেন। তাঁদের শিক্ষকরা ভিজিটিং প্রফেসর হিসেবে এসে আমাদের ইউনিভার্সিটিতে শিক্ষা দেবেন। আমাদের শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষার জন্য যোগ্য বিবেচিত হলে ইন্ডিয়ানার ইউনিভার্সিটি অব নটর ডেমে পড়তে যেতে পারবে। সেখানকার শিক্ষার্থীরাও অভিজ্ঞতা নিতে এখানে আসবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মান বৃদ্ধিতে পরিকল্পনা?

এনডিইউবিতে ভালো শিক্ষক আছেন। আসলে শিক্ষকদের গড়ে তুলতে হয়। তাঁদের জন্য ট্রেনিং কোর্সের আয়োজন করছি, সেগুলোর মাধ্যমে শিক্ষকদের গুণগত মান বাড়বে। শিক্ষকরা যত ভালোই হোন না কেন, শিক্ষার্থীরা ভালোভাবে লেখাপড়া না করলে ভালো শিক্ষকদের সুনাম হয় না। তবে এও ঠিক, শিক্ষকরাই ছাত্র-ছাত্রীদের ভালোভাবে পড়ালেখা ও সুনাগরিক হওয়ার জন্য প্রেরণা দেন। তাদের মধ্যে প্রেরণা তৈরির পদ্ধতিগুলো আমাদের শিক্ষকদের আয়ত্ত করাতে ঘন ঘন ট্রেনিং কোর্স আয়োজনের পরিকল্পনা আছে। শিক্ষার্থীদের ভালোভাবে পড়ালেখা করার পরিবেশ আমাদের রয়েছে। এই পরিবেশ তাদের পড়ালেখায় উন্নতি করতে সহায়তা করবে। তখন শিক্ষকদের সুনাম বাড়বে। বিশ্ববিদ্যালয়ও আরো বেশি সাফল্য পেতে থাকবে।

একনজরে এনডিইউবি
স্থাপন : ২৯ এপ্রিল, ২০১৩।

শিক্ষার্থী : ১,২৫০।

শিক্ষক : ৬৫ জন।

শিক্ষাব্যয় : সীমিত ও যুক্তিসঙ্গত।

অনুষদ ৪টি : (ক) ব্যবসায় প্রশাসন ও অর্থনীতি, (খ) সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, (গ) ইংরেজি এবং (ঘ) আইন।

অনার্স : চার বছর মেয়াদি মোট পাঁচটি অনার্স প্রগ্রাম : (ক) বিবিএ, (খ) সিএসই (কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং), (গ) বিএ ইন ইংলিশ, (ঘ) এলএলবি এবং (ঙ) বিএ ইন ইকোনমিকস।

মাস্টার্স : এমবিএ (২০১৮ সালের শুরুতে ‘এমএ ইন ইংলিশ’ চালুর প্রক্রিয়া চলছে)।

গবেষণাগার : শিক্ষার্থীদের জন্য নটর ডেম ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশে তিনটি গবেষণাগার আছে। দুটি কম্পিউটার ল্যাব—একটি শুধু সিএসইর শিক্ষার্থীদের জন্য, অন্যটি সকল বিভাগের সাধারণ ব্যবহারের জন্য। শুধু সিএসই শিক্ষার্থীদের জন্যই একটি হার্ডওয়্যার ল্যাব আছে।

কাউন্সেলিং : শিক্ষার্থীদের এই বয়সে ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সহপাঠীকেন্দ্রিক ইত্যাদি যে সমস্যা থাকে, সেগুলো সব সময় অন্যদের কাছে বলে ও আলোচনা করে উত্তরণের সুযোগ পায় না। এ কারণে এনডিইউবিতে কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা আছে। কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে অনেক বড় বড় সমস্যা থেকে মুক্ত হয়ে শিক্ষার্থীরা পড়ালেখায় মনোযোগী হতে সক্ষম হয় এবং জীবনটাকেও ভালোভাবে গড়ে তোলার সুযোগ পায়।

ক্লাব : সহযোগী কার্যক্রমের জন্য যে আটটি ক্লাব আছে, তার প্রতিটির জন্য মডারেটর, কো-মডারেটর, ক্লাব কো-অর্ডিনেটর আছেন। প্রতিটি ক্লাবের সদস্যরাই খুব সক্রিয়। পড়ালেখার পাশাপাশি তারা সাপ্তাহিক, মাসিক, ট্রাইমেস্টারভিত্তিক, বার্ষিক বিভিন্ন ধরনের কার্যক্রম হাতে নেয়। যেসব বিষয় তারা সাধারণ পড়ালেখা থেকে পায় না, সেগুলো ক্লাব কার্যক্রমের মাধ্যমে জানতে ও অভিজ্ঞতা লাভের সুযোগ পায়। 

শিক্ষাবৃত্তি : এনডিইউবি প্রচুর দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীকে শিক্ষাবৃত্তি দিচ্ছে। তা ছাড়া আছে ওয়েইভার—দৈহিক প্রতিবন্ধী, মুক্তিযোদ্ধার সন্তান এবং আপন ভাই-বোন (বিশেষ ওয়েইভার) সব শিক্ষার্থীর জন্য উন্মুক্ত। এমবিএ শিক্ষার্থীদের জন্য খ্রিস্টান মিশনারি স্কুল ও কলেজ থেকে পাস করা, করপোরেট প্রতিষ্ঠানের তিনজনের দল ও দম্পতিদের জন্য বিশেষ ওয়েইভার আছে। এ ছাড়া পড়ালেখায় ভালো ফলের ভিত্তিতে প্রচুর ওয়েইভার দেওয়া হয়।

ক্যাম্পাসের ঠিকানা : ডাক বাক্স নম্বর ৭, ২ আরামবাগ, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০। ক্যাম্পাসটি নির্ঝঞ্ঝাট, নিরাপদ ও রাজনৈতিক কোলাহলমুক্ত। সামনে বিরাট খোলা মাঠ। অভিভাবকরা নিঃসন্দেহে এখানে তাঁদের ছেলে ও মেয়েদের ভর্তি করিয়ে নিরাপদ বোধ করবেন।

স্থায়ী ক্যাম্পাস : নটর ডেম ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের সুখবরটি হলো, বিশ্ববিদ্যালয়টির শুরুই হয়েছে নিজস্ব ক্যাম্পাসে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে জমির পরিমাণ ১.২০ একর। বর্তমানে অস্থায়ী ভবনে ক্লাস চলছে। এই চত্বরেই নির্মিত হবে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ভবন। নির্মাণের প্রক্রিয়াও বেশ অগ্রসর হয়েছে। অনুষদগুলো নতুন করে সাজানো হবে ও নতুন নতুন বিভাগ দিয়ে পুনর্বিন্যাস করা হবে।

ক্যাম্পাসেই আছে কাজ
লেখাপড়ার পাশাপাশি কোনো একটি কাজ করে নিজের বিকাশ ঘটানো এবং আয়-রোজগার করার বাসনা এ দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদেরই আছে। তবে এ দেশে পার্ট টাইম জবের তেমন কোনো সুযোগ নেই। নটর ডেম ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশই প্রথম বিশ্ববিদ্যালয়, যেখানে ছাত্র-ছাত্রীরা কাজ করার সুযোগ পান। সেটি করে দিচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষই। তাঁদেরই একজন আশ্রাফ সিদ্দিক। তিনি ইংরেজি অনার্স তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। প্রথম বর্ষ থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ে পার্ট টাইম জব করছেন। আশ্রাফ হাসিমুখে বললেন, ‘সপ্তাহে ছয় দিন লাইব্রেরি, টিচার্সরুম ও স্টুডেন্টস অ্যাফেয়ার্সে কাজ করি। প্রতিদিন তিন ঘণ্টা কাজ করতে হয়।’ অঞ্জলী তিগ্যা বললেন, ‘ক্যাম্পাস জবের মাধ্যমে অনেক কিছু শিখেছি। কম্পিউটার অপারেটিং, ডাটা সংগ্রহ, ফাইল ম্যানেজমেন্ট যেমন শিখেছি, তেমনি আমার মধ্যে সময়জ্ঞান ও শৃঙ্খলাবোধ তৈরি হয়েছে। এই অভিজ্ঞতা কর্মজীবনে অন্যদের চেয়ে আমাকে এগিয়ে রাখবে।’ ক্যাম্পাস জবের তত্ত্বাবধানকারী সিস্টার সাগরিকা মারিয়া গোমেজ জানালেন, “শিক্ষার্থীরা যেন দায়িত্বশীল নাগরিক হয়ে গড়ে উঠতে পারে, ক্যারিয়ার তৈরি করতে পারে, সে জন্য নটর ডেম ইউনিভার্সিটিতে ‘ক্যাম্পাস জব’ চালু করা হয়েছে। অন্য চাকরির ক্ষেত্রগুলোর মতো এই চাকরির জন্যও নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। ছাত্র-ছাত্রীরা আবেদনের পর ইন্টারভিউয়ের মাধ্যমে তাঁদের নানাভাবে যাচাই-বাছাই করে নিয়োগ দেওয়া হয়। ক্লাস রুটিন দেখে অবসর সময়ে তাঁদের কাজের দায়িত্ব দেওয়া হয়, প্রতি ট্রাইমেস্টারে দায়িত্ব পরিবর্তন করে তাঁদের যোগ্যতাকে আরো বিকশিত করা হয়। নিয়োগের পর কিভাবে কাজ করতে হবে, সেই নিয়ম-কানুন জানানো হয়। ছাত্র ও ছাত্রীর মধ্যে সমতার জন্য সমান সমান শিক্ষার্থীকে নিয়োগ দেওয়া হয়।”

সেরা শিক্ষার্থী সুশীল

নটর ডেম ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের অর্থনীতি বিভাগের শেষ বর্ষের ছাত্র সুশীল সরেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পর থেকে মেধার স্বাক্ষর রেখে যাচ্ছেন। ফলে তিনি পাচ্ছেন বিশেষ বৃত্তিও। সুশীলের জন্ম দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার শ্রীরামপাডা নামের গণ্ডগ্রামের এক কৃষকের ঘরে। ছোটবেলা থেকেই পড়ালেখায় বেশ মনোযোগী। দিনাজপুরের সেন্ট ফিলিপস হাই স্কুল থেকে এসএসসি ও নটর ডেম কলেজ থেকে এইচএসসিতে জিপিএ ৫ পেয়ে পাস করেন। ভালো ফলের জন্য স্কুল-কলেজে বৃত্তি পেয়েছেন, কোনো সময়ই ক্লাস মিস দিতেন না বলে শতভাগ উপস্থিতির পুরস্কারও তাঁর। লেখাপড়ার প্রতি এই তীব্র মনোযোগ এবং আগ্রহই গ্রামের একটি ছেলেকে ভালো ফলে উদ্দীপ্ত করেছে। এত ভালো ফল করেও কেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছেন—এই প্রশ্নের জবাবে সুশীল জানালেন, ‘আমার ভবিষ্যত্ লক্ষ্য হলো একজন প্রকৃত শিক্ষিত ও সঠিক ব্যক্তিত্বসম্পন্ন মানুষ হওয়া। নটর ডেম কলেজে আমি অধ্যয়ন করেছি। সেই কলেজ এখন বিশ্ববিদ্যালয় হয়েছে জেনে আমি এখানেই পড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। কারণ এই বিশ্ববিদ্যালয় আমাকে যা দেবে, তা আমি অন্য কোথাও থেকে পাব না। আমার জীবন গঠনের জন্য এই বিশ্ববিদ্যালয়ই সঠিক পীঠস্থান বলে এটাকেই আমি বেছে নিয়েছি।’ এখানেও ভর্তির পর থেকে ভালো ফল করে চলেছেন তিনি। সিজিপিএ চারের মধ্যে চার পেয়ে চলেছেন। ফলে টিউশন ফিতেও পঞ্চাশ ভাগ ছাড় পাচ্ছেন। এই ভালো ফলের রহস্য হিসেবে জানালেন, ‘অর্থনীতি আমার পছন্দের বিষয়, পড়তে ভালো লাগে। প্রতিদিনের পড়া প্রতিদিন শেষ করি। সিজিপিএর প্রতি আমার কোনো দুর্বলতা নেই। কতটুকু জানতে পেরেছি, সেদিকেই মনোযোগ দিই। সে জন্য সিলেবাসের বাইরে অর্থনীতির সঙ্গে সম্পর্কিত নানা বিষয়ে লেখাপড়া করি। নিয়মিত ক্লাসে যেতে ভালো লাগে বলে কখনো ক্লাস মিস করি না। শতভাগ উপস্থিতির রহস্য সেটিই।’ তিনি বললেন, ‘শরীরের দিকে মনোযোগ দিতে গিয়েই খেলাধুলার সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়েছি।’

ক্লাবের যত আয়োজন
এই বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাব আছে মোট আটটি—ড্রামা অ্যান্ড ফিল্ম ক্লাব, ডিবেট ক্লাব, কম্পিউটার ক্লাব, ইংলিশ ক্লাব, বিজনেস ক্লাব, ইকোনমিকস ক্লাব, কালচারাল ক্লাব ও আইন ক্লাব। কম্পিউটার ক্লাবের সভাপতি রাফসান রাতুল বললেন, ‘ক্লাবের মাধ্যমে ছাত্র-ছাত্রীদের আমরা ওয়েব ডেভেলপমেন্ট, প্রগ্রামিং, গ্রাফিকস ডিজাইন শেখাই। রোবটিক্স নিয়েও কাজ করি। সম্প্রতি আমরা একটি ড্রোনও তৈরি করেছি।’ বিজনেস ক্লাবের সভাপতি মোহাম্মদ ওয়াসিউ ওসমান বললেন—‘আমাদের মূল উদ্দেশ্য হলো, লেখাপড়ার পাশাপাশি করপোরেট দুনিয়ার সঙ্গে ছাত্র-ছাত্রীদের পরিচিত করে তোলা। সে জন্য আমরা বিভিন্ন করপোরেট ব্যক্তিত্বদের আমন্ত্রণ জানাই এবং তাঁদের সঙ্গে অভিজ্ঞতা বিনিময় সভার আয়োজন করি, সফল উদ্যোক্তাদের নিয়ে এসে তাঁদের জীবনের গল্প শুনে উদ্যোক্তা হওয়ার প্রেরণা পাই।’ ইকোনমিকস ক্লাবের সভাপতি সুশীল সরেন বললেন, ‘অন্য ক্লাবগুলোর চেয়ে আমরা এ কারণেই আলাদা যে আমরা ক্লাবের সদস্যদের নিয়ে অর্থনীতির নানা বিষয়ে গবেষণাকর্ম পরিচালনা করি।’ তিনি জানালেন, এ ছাড়া ভালো সিভি লেখা কর্মশালা, নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদদের জীবন ও কর্ম নিয়ে তাঁরা দেয়ালিকা প্রকাশ করেন।

ডিবেট ক্লাব নিয়ে বলতে গিয়ে মডারেটর কমল গোমেজের বুক গর্বে ভরে উঠল, “আমাদের কলেজের ডিবেটিং ক্লাবের স্রোতধারাই বিশ্ববিদ্যালয়ের বিতর্ক সংগঠনে বহমান রয়েছে।” ক্লাবের সভাপতি রনক বিনতে রফিক বললেন, ‘আমরা নিয়মিত কর্মশালা ও আন্ত বিশ্ববিদ্যালয় বিতর্ক প্রতিযোগিতার আয়োজন করি। যাতে বিতর্কের মাধ্যমে ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে নেতৃত্বের বিকাশ ঘটে। তারা যৌক্তিকভাবে সমাজব্যবস্থা এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে।’

ফিল্ম অ্যান্ড ড্রামা ক্লাবের সভাপতি আফসারা আজিম লিমু বললেন, “ছাত্র-ছাত্রীদের বিনোদন ও প্রতিভা বিকাশের সুযোগ করে দিতে বিভিন্ন বিখ্যাত সিনেমার প্রদর্শনী করি। এ ছাড়া তাদের নিয়ে নাটকের আয়োজন করি। ছয়টি ঋতু উপস্থাপন করে আমরা ‘বৈচিত্র্যময় বাংলা’ নামের গীতিনাট্যের আয়োজন করেছি।”

ইংলিশ ক্লাবের মডারেটর ও ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক আহমেদ তাহসিন শামস বললেন, ‘ইরেজি ভাষা ও সাহিত্যচর্চার পাশাপাশি নটর ডেম ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের ইংলিশ ক্লাব সদস্যদের যুগোপযোগী নান্দনিক চর্চার ক্ষেত্র তৈরি করে দেয়। নাটক, কাব্যনাট্য, আবৃত্তি, সাংস্কৃতিক ও সাহিত্য বিষয়ে সেমিনার আয়োজনের মাধ্যমে ইংরেজি ভাষায় স্বদেশি সংস্কৃতি চর্চা করা হয়। এ ছাড়া নামকরা সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা অতিথি হিসেবে এসে সদস্যদের সৃজনশীল পরিবেশনা মূল্যায়ন করেন, তাঁদের দিকনির্দেশনা দেন। শুধু ইংরেজি বিভাগের ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে ইংলিশ ক্লাবে অন্য বিভাগের ছাত্র-ছাত্রীরাও সদস্য হয়। ক্লাবের সব সৃজনশীল ও নান্দনিক অনুষ্ঠানে অংশ নেয়।’ কালচারাল ক্লাবের সভাপতি ইমরান হোসেন আবীর বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের সবগুলো আয়োজনে আমরা পারফর্ম করি। আমাদের উদ্দেশ্য বাঙালি সংস্কৃতি তুলে ধরা, সেটি লালন-পালন ও চর্চা করা।’ ল ক্লাব সদস্যদের নিয়ে বিভিন্ন সময় বিচারালয়ে গিয়ে আইনিপ্রক্রিয়া শেখা, মুট কোর্ট প্রতিযোগিতার আয়োজন এবং খ্যাতনামা বিচারকদের আমন্ত্রণ জানিয়ে তাঁদের কাছ থেকে বিভিন্ন বিষয়ে জ্ঞান লাভ করা হয়। সবগুলো ক্লাবের কার্যক্রমে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সহযোগিতা করে। সব ক্লাবে মডারেটর হিসেবে শিক্ষকরা দায়িত্ব পালন করছেন। লেখাপড়ার বাইরেও নানা কাজে যুক্ত থাকার উপকারিতা সম্পর্কে তাঁরা ছাত্র-ছাত্রীদের সচেতন করেন, অংশগ্রহণে উত্সাহ দেন। সেসব কার্যক্রমের সচিত্র প্রতিবেদন বিশ্ববিদ্যালয়ের বার্ষিক পত্রিকায় ছাপানো হয়। ক্লাবগুলোর নিজস্ব পত্রিকা আছে। অন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে ক্লাবগুলো যোগাযোগ রাখে ও তাদের নিয়ে প্রগ্রামের আয়োজন করে। এতে ক্লাব কর্মকর্তাদের সাংগঠনিক গুণাবলি বৃদ্ধি পায়।

১০০ টাকা ফিতে লাইব্রেরির সদস্য
২০১৩ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রা শুরুর সময়ই নটর ডেম ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশে গ্রন্থাগার চালু হয়। পাঠ্য বই, গবেষণা, গল্প, উপন্যাস, ঐতিহাসিক রচনা মিলিয়ে এখানে আছে প্রায় ১০ হাজার বই। প্রতিদিন গ্রন্থাগারে সাতটি পত্রিকা রাখা হয়। জার্নাল ও ম্যাগাজিনও থাকে। গ্রন্থাগারে বসে পড়ছিলেন আজিজুল হক নাঈম। তিনি বললেন, ‘অনেক সময় বাসায় নানা কারণে লেখাপড়া করতে পারি না। ইনকোর্স বা ট্রাইমেস্টার ফাইনালের আগে লাইব্রেরি বেশি ব্যবহার করতে হয়। প্রেজেন্টেশন বা অ্যাসাইনমেন্ট জমা দেওয়ার সময়ও লাইব্রেরিতে পড়তে হয়। আমাদের লাইব্রেরিতে অনেক রেফারেন্স বই আছে। ফলে একই বিষয়ের অনেক বই পড়ে স্বচ্ছ ধারণা নেওয়া সম্ভব হয়।’ সিনিয়র অ্যাসিস্ট্যান্ট লাইব্রেরিয়ান সিলভানা ট্রিসা বলেন, ‘প্রতিদিন গড়ে ২০০ শিক্ষার্থী এই লাইব্রেরি ব্যবহার করেন। ১০০ টাকা ফি দিয়ে যেকোনো ছাত্র-ছাত্রী লাইব্রেরির সদস্য হতে পারেন। ফলে তাঁরা দুটি বই এক সপ্তাহের জন্য বাড়িতে নিয়ে পড়তে পারেন। প্রয়োজনে কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে সময় বাড়িয়ে নেওয়া যায়। প্রয়োজনীয় বই, পত্রিকার কপি বা ক্লাসশিট ফটোকপির ব্যবস্থা আছে। তিনি জানালেন, প্রতিদিন সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত এটি খোলা থাকে। এখন লাইব্রেরি ডিজিটালাইজ করার প্রক্রিয়া চলছে। ফলে লাইব্রেরির সদস্যদের কাছে বিভিন্ন আপডেট তথ্য মোবাইলের মেসেজে চলে যাবে, লাইব্রেরির সবগুলো বইয়ের অনলাইন ভার্সন থাকবে।’ দুইজন লাইব্রেরিয়ানকে ক্যাম্পাস জবের কর্মীরা লাইব্রেরি তত্ত্বাবধানে সাহায্য করেন।

মন্তব্য