kalerkantho

রবিবার। ১৮ আগস্ট ২০১৯। ৩ ভাদ্র ১৪২৬। ১৬ জিলহজ ১৪৪০

হ্যাপি ওয়ার্ল্ড

স্পেনের একটি প্রতিযোগিতায় সেরা হয়েছে বাংলাদেশের এনিমেটেড ফিল্ম হ্যাপি ওয়ার্ল্ড। এর পেছনের চার তরুণের গল্প শোনাচ্ছেন জামিল মাহমুদ। ছবি তুলেছেন মোহাম্মদ হানজালা

১৫ জুন, ২০১৬ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



হ্যাপি ওয়ার্ল্ড

মাহমুদুর, তারেক, জুবায়ের ও হায়াত

২০ নভেম্বর, ২০১৫। ফেসবুক পেইজে একটি পোস্ট চোখে পড়ল হাসান জুবায়েরের। পোস্টটি দিয়েছে স্পেনের ‘উই আর ওয়াটার ফাউন্ডেশন’। কৌতূহল মেটাতে তাদের ওয়েবসাইটে ঘুরে এলেন জুবায়ের। জানলেন, তারা পানি সংকট নিয়ে কাজ করে, মানুষের সচেতনতা বাড়াতে আন্তর্জাতিক স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র উৎসবেরও আয়োজন করে। ব্যাপারটি নিয়ে বন্ধু মাহমুদুর রহমানের সঙ্গে আলোচনা করলেন। এভাবেই গড়ে উঠল তাঁদের চার সদস্যের দল। জুবায়ের ও মাহমুদুর পড়েন ১০ সেমিস্টারে। হায়াত মাহমুদ অষ্টম ও হোসেন তারেক পঞ্চম সেমিস্টারের ছাত্র। সবাই ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির মাল্টিমিডিয়া ও ক্রিয়েটিভ মিডিয়া বিভাগের ছাত্র।

সবার আগে গল্প নির্বাচন করলেন তাঁরা। গল্পের শুরুতে দেখা যায়, আফ্রিকার একটি মরুময় এলাকায় পানির খোঁজে বেরিয়ে পড়ে একটি কিশোর, বয়স বড়জোর সাত-আট বছর। মাথায় বিরাট একটি পানির পাত্র। প্রচণ্ড গরমে হাঁটতে হাঁটতে একসময় ক্লান্ত হয়ে মাটিতে পড়ে যায়।

এর পরের অংশে ঢাকার একটি বস্তির ছেলে বইখাতা হাতে নিয়ে পানির দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে গেল। সারা দিন অপেক্ষা করেও পানি নিতে পারল না। ততক্ষণে ক্লাসের সময় পেরিয়ে গেছে। তৃতীয় অংশে, কম্পিউটারে কাজ করছেন একজন লোক। তাঁর বাসার বেসিনে ট্যাপ থেকে অঝোরে পানি ঝরছে। সেদিকে কোনো খেয়ালই নেই তাঁর। হঠাৎ মনিটরে ভেসে উঠল পানির জন্য দুই কিশোরের সংগ্রামের কাহিনী। তিনি সতর্ক হলেন এবং সিদ্ধান্ত নিলেন, পানির সমস্যা সমাধানের জন্য উদ্যোগ নেবেন। তহবিল গড়ে তোলার কাজ শুরু করলেন তিনি। সেই টাকায় আফ্রিকা ও বাংলাদেশে টিউবওয়েল বসানো হলো। ফলে বাংলাদেশের সেই ছেলেটি টিউবওয়েল থেকে খুব দ্রুত পানি নিয়ে বাসায় পৌঁছে দিল। হাসিমুখে স্কুলে গেল।

তিন মিনিটের এই শর্টফিল্ম তারা থ্রিডি সফটওয়্যারে তৈরি করেছেন। প্রি-প্রোডাকশনের কাজ করেছেন মাহমুদুর, চিত্রনাট্য ও নির্দেশনা দিয়েছেন জুবায়ের। সাউন্ড সিস্টেম করেছেন হায়াত এবং বিভিন্ন চরিত্রের ডিজাইনসহ খুঁটিনাটি কাজ করেছেন তারেক। টানা তিনটি মাসের পরিশ্রমে তৈরি হলো ‘হ্যাপি ওয়ার্ল্ড’।

সব কাজ শেষ হওয়ার পর তাঁরা উই আর ওয়াটার ফাউন্ডেশনে চলচ্চিত্রটি জমা দিলেন। ৮৮টি দেশ থেকে ৩০০ শর্টফিল্ম জমা পড়ে। ২ জুন স্পেনের বার্সেলোনা শহরের বোকা গ্যালারিতে ফেসবুকের ভোট ও জুরি বোর্ডের সিদ্ধান্তে এনিমেশন ক্যাটাগরিতে সেরা হয়েছে ‘হ্যাপি ওয়ার্ল্ড’।

এই খুশির খবরটি দিয়ে দলনেতা জুবায়ের বললেন, ‘কল্পনাও করিনি চ্যাম্পিয়ন হব। কেবল আমরাই নয়, বিশ্বের সব প্রতিযোগীকে পেছনে ফেলে বাংলাদেশের এনিমেশন সেরা হবে, সেটি ফেস্টিভাল কমিটিও ভাবেনি। আমাদের এই সাফল্য প্রমাণ করে, সুযোগ পেলে বাংলাদেশের তরুণরা সবই করতে পারে। আর এখানে একটি এনিমেশন ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিও গড়ে উঠতে পারে।’

মন্তব্য