kalerkantho

মঙ্গলবার। ১৬ জুলাই ২০১৯। ১ শ্রাবণ ১৪২৬। ১২ জিলকদ ১৪৪০

জাতীয় জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াড

চ্যাম্পিয়ন অব দ্য চ্যাম্পিয়নস

১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



চ্যাম্পিয়ন অব দ্য চ্যাম্পিয়নস

দ্বিতীয়বারের মতো আয়োজিত জাতীয় জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াডে চ্যাম্পিয়ন অব দ্য চ্যাম্পিয়নস হয়েছে ওয়াইডাব্লিউসিএ হায়ার সেকেন্ডারি গার্লস স্কুলের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী ঋদ্ধি ঋত্বিকা বসু। তাকে নিয়ে লিখেছেন আনিকা জীনাত। ছবি তুলেছেন, কাকলী প্রধান

ওয়াইডাব্লিউসিএ হায়ার সেকেন্ডারি গার্লস স্কুলের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী ঋদ্ধি। এতটুকু বয়সেই বিজ্ঞানের প্রতি তার তুমুল আগ্রহ। মূলত বাবার হাত ধরেই এবারের জাতীয় জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াডে অংশ নেওয়া। ঋদ্ধির বাবা প্রতিযোগিতার বিষয়ে জানতে পারেন তাঁর এক বন্ধুর কাছ থেকে। অলিম্পিয়াডে অংশ নেওয়ার সময় একটুও ভয় লাগেনি ঋদ্ধির। প্রশ্ন হাতে পেয়ে নাকি তার খুশি লাগছিল। কারণ সবই যে তার জানা! তাই পুরস্কার পাওয়ার বিষয়ে ছিল অনেকটাই নিশ্চিত। তবে তাই বলে চ্যাম্পিয়ন অব দ্য চ্যাম্পিয়নস! একবারে সেরাদের সেরা হয়ে যাওয়ার কথা একবারও ভাবেনি সে।

সবার সেরা

জাতীয় জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াডে ছিল এক ঘণ্টার পরীক্ষা। জীববিজ্ঞানের খুঁটিনাটি জানতে হয়েছিল এতে। এ পরীক্ষায় সবাইকে টপকে ঋদ্ধি হূত্তিকা বসু জিতে নিয়েছে উপেন্দ্রনাথ ব্রক্ষ্মচারী (কালাজ্বরের টিকা আবিষ্কারক) অ্যাওয়ার্ড আর সঙ্গে সাত হাজার টাকা। এবারের জাতীয় জীববিজ্ঞান উৎসবে জুনিয়র, সেকেন্ডারি ও হায়ার সেকেন্ডারি—এই তিন ক্যাটাগরিতে পুরস্কার দেওয়া হয়। সেখানে সেরাদের সেরাকে দেওয়া হয়েছে উপেন্দ্রনাথ ব্রক্ষ্মচারী অ্যাওয়ার্ড। এর আগে গণিত অলিম্পিয়াডে আঞ্চলিক পর্যায়ে প্রথম রানারআপের পুরস্কার পেয়েছিল ঋদ্ধি। পড়াশোনার বাইরে বই পড়তে ভালোবাসে। সপ্তম শ্রেণিতে পড়ার সময় ঋদ্ধি পেয়েছিল বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের সেরা পাঠকের পুরস্কার। নাচ ও গানেও পটু সে।

পড়াশোনায় তুখোড়

প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় সব বিষয়ে জিপিএ ফাইভ পেয়ে পাস করেছে ঋদ্ধি। বিশদভাবে কোনো কিছু জানতে হলে শুধু ক্লাসের বই পড়াই যথেষ্ট নয়, এ কথা জানেন ওর মা-বাবা। তাই পড়াশোনায় ভালো হওয়ায় মেয়েকে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার ব্যাপারে আগ্রহী করে তোলেন তাঁরা। বিজ্ঞানভিত্তিক বই নিয়মিতই পড়ে ঋদ্ধি। কঠিন ভাষায় লেখা বই  নয়; বরং সহজ ভাষায় লেখা বিজ্ঞানের জটিল জিনিসগুলো পড়েই সে উপকার পেয়েছে সবচেয়ে বেশি। ইন্টারনেট ঘেঁটে পড়াশোনা করে শিখতে পেরেছে অনেক কিছু। এমনটাই জানালেন ঋদ্ধির বাবা মানস বসু।

অনুপ্রেরণা বাবা

পেশাগত জীবনে মা ড. বহ্নি শিখা দাস সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট কনসালন্ট্যান্ট আর বাবা মানস বসু ডাক্তার। দুই বোনের মধ্যে বড় ঋদ্ধি। ঋদ্ধির অনুপ্রেরণা তার বাবা। তাঁর কাছে গেলেই বিজ্ঞানের জটিল বিষয়গুলো অনেক সহজ হয়ে যায়। ‘ঋদ্ধিকে আমরা সব সময় বড় বড় মানুষদের জীবনকাহিনী বলি। এখনই আত্মতৃপ্তিতে ভুগতে মানা করি। যেন পরবর্তী সময়ে সে আরো বড় কিছু অর্জন করতে পারে। মানবকল্যাণের জন্য কিছু করতে পারলে তবেই তা পাবে বড় অর্জনের মর্যাদা।’ বলছিলেন ঋদ্ধির বাবা মানস বসু।

লক্ষ্য এবার ভিয়েতনাম জয়

এখানেই শেষ নয়। জাতীয় জীববিজ্ঞান উৎসবের বিজয়ীদের নিয়ে আয়োজন করা হবে চার দিনের জাতীয় বায়ো ক্যাম্প। সেখানে তত্ত্বীয় ও ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এর পর পরীক্ষার মাধ্যমে বাছাই করা হবে চারজন বিজয়ী। তাদের পাঠানো হবে আন্তর্জাতিক জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াডে। সেখানে শিক্ষার্থীদের তত্ত্বীয় ও ব্যবহারিক পরীক্ষায় সমস্যা সমাধানে দক্ষতা, জীববিজ্ঞানের প্রতি আগ্রহ ও আবিষ্কারের ক্ষমতা যাচাই করে নির্ধারণ করা হবে চূড়ান্ত বিজয়ী। জুলাইয়ে অনুষ্ঠেয় ইন্টারন্যাশনাল বায়োলজি অলিম্পিয়াডের (আইবিও) ২৭তম আসরটি এবার বসছে ভিয়েতনামের রাজধানী হ্যানয়ে। চলছে জোর প্রস্তুতি। প্রতিযোগিতায় ভালো করার জন্য বায়োলজি অলিম্পিয়াডের ওয়েবসাইটে কিছু বইয়ের তালিকা দেওয়া থাকে। সেসব বইয়ের পাশাপাশি প্রস্তুতি নিচ্ছে উঁচু ক্লাসের বইগুলো পড়েও। ঋদ্ধি জানায়, শুধু প্রতিযোগিতার জন্য নয়, বইগুলো পড়লে জানার পরিধি বাড়বে বলেই শিক্ষার্থীদের সেগুলো পড়তে বলা হয়েছে।

ঋদ্ধি চায়, দেশে যেন আরো বেশিসংখ্যক বিজ্ঞানমূলক প্রতিযোগিতা হয়। বড় হয়ে মহাকাশবিজ্ঞানী হতে চায় সে।

জীববিজ্ঞানের বড় আসরে

বুঝতে পারলে বিজ্ঞান একটি মজার বিষয়। কিন্তু আমাদের পাঠ্যপুস্তকগুলো শিক্ষার্থীদের উপযোগী করে লেখা নয় বলে অভিযোগ রয়েছে। ইতিমধ্যেই বিজ্ঞান বিভাগে শিক্ষার্থীসংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে। শিক্ষার্থীদের জীববিজ্ঞান সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা দিতে এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিজ্ঞান বিষয়ে আগ্রহ সৃষ্টি করতে দ্বিতীয়বারের মতো আয়োজন করা হয়েছিল জাতীয় জীববিজ্ঞান উৎসবের। ৫ ফেব্রুয়ারি ‘লক্ষ্য এবার ভিয়েতনাম জয়’ স্লোগান সামনে রেখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলে বসেছিল দেশে জীববিজ্ঞানের সবচেয়ে বড় এ আসর। রাজধানীর বিভিন্ন স্কুল ছাড়াও সারা দেশের ৪৭টি জেলা থেকে ৬০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থী এতে অংশ নেয়। বিজয়ীরা জুলাইয়ে ভিয়েতনামে অনুষ্ঠেয় আন্তর্জাতিক জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াডে অংশ নেবে। প্রথমবারের মতো এই অলিম্পিয়াডে বিজ্ঞানী গোপালচন্দ্র ভট্টাচার্য, এ কে এম নুরুল ইসলাম, এস এম হাসানুজ্জামান ও উপেন্দ্রনাথ ব্রক্ষ্মচারীর নামে চারটি পুরস্কার প্রবর্তন করা হয়। অলিম্পিয়াড পরীক্ষায় সর্বোচ্চ নম্বরধারী চারজনকে এই পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। এরা হলো—তাসনিম মুনতাহা, খন্দকার আফতারুল ইসলাম, সৈয়দা আয়েশা সিদ্দিকা ও ঋদ্ধি ঋত্বিকা বসু। এদের মধ্যে চ্যাম্পিয়ন অব দ্য চ্যাম্পিয়নস হয়েছে ঋদ্ধি ঋত্বিকা বসু। এ ছাড়া মোট ৬০ জন বিজয়ীকে পুরস্কৃত করা হয়। বাংলাদেশ জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াড ও আন্তর্জাতিক জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াডের বিষয়ে জানা যাবে নিচের দুই ওয়েবসাইটে—

http://bdbo.org, www.ibo-info.org/countries/bangladesh

মন্তব্য