kalerkantho

শনিবার । ৮ কার্তিক ১৪২৭। ২৪ অক্টোবর ২০২০। ৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

মেরিন একাডেমী উন্নীত হচ্ছে মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয়ে

সারা দেশে আরো ছয়টি মেরিন একাডেমী হবে

মোশতাক আহমেদ   

৮ নভেম্বর, ২০১০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সমুদ্রগামী জাহাজ পরিচালনার জন্য উচ্চতর দক্ষ জনবল তৈরির লক্ষ্যে মেরিটাইম নামে দেশে আরো একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে। চট্টগ্রামে অবস্থিত দেশের একমাত্র সরকারি মেরিন একাডেমীকে বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীতকরণের মাধ্যমে নতুন এ বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলা হচ্ছে। এ বিষয়ে এরই মধ্যে সরকার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়ে খসড়া আইন প্রণয়নের জন্য নৌ মন্ত্রণালয়ের সচিবকে প্রধান করে একটি কমিটি গঠন করেছে। কমিটি কাজও শুরু করেছে। পাশাপাশি চট্টগ্রাম বাদে বাকি ছয়টি বিভাগে ছয়টি সরকারি মেরিন একাডেমী স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান গতকাল রবিবার কালের কণ্ঠকে জানান, মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয়টি হলে দক্ষ জনবল যেমন গড়ে উঠবে, তেমনই মেরিন ক্যাডেটদের দেশে-বিদেশে চাকরির সুযোগও অনেক বেশি সৃষ্টি হবে। তিনি আরো জানান, এ বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়াও দেশে বিভাগীয় পর্যায়ে মেরিন একাডেমী স্থাপন করা হবে। উল্লেখ্য, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মেরিন একাডেমীর ডিগ্রি দেওয়া হলেও সেটি তদারক করে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়। জানা গেছে, মেরিন একাডেমীকে মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীত করার লক্ষ্যে গত ২৬ অক্টোবর নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে একটি আন্তমন্ত্রণালয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয়ের খসড়া আইন তৈরির জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আবদুল মান্নান হাওলাদারের নেতৃত্বে এ কমিটির সদস্যরা হলেন নৌ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম প্রধান, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপসচিব রণজিৎ কুমার সেন, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের উপসচিব ফেরদৌস জামান তুহিন এবং সদস্যসচিব বাংলাদেশ মেরিন একাডেমীর কমান্ড্যান্ট নৌ প্রকৌশলী সাজিদ হোসেন। এ ছাড়া মেরিন একাডেমীর ভৌত অবকাঠামো পরিদর্শন করে প্রতিবেদন দেওয়ার লক্ষ্যে নৌসচিবকে প্রধান করে আরেকটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ বিষয়ে মেরিন একাডেমীর কমান্ড্যান্ট নৌ প্রকৌশলী সাজিদ হোসেন গতকাল কালের কণ্ঠকে জানান, খসড়া আইন প্রণয়নের কাজ চলছে। তিনি জানান, বর্তমানে সারা বিশ্বে মোট ৫২টি মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয় আছে। দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে ভারতের পর দ্বিতীয় মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয়টি করা হচ্ছে বাংলাদেশে। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের উপসচিব ফেরদৌস জামান তুহিন কালের কণ্ঠকে জানান, মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রাথমিক কাজ শুরু হয়েছে। নৌসচিব বিদেশে আছেন, তিনি দেশে এলেই সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রতিবেদন দেওয়া হবে। মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রস্তাবনায় বলা হয়, চট্টগ্রামে অবস্থিত বাংলাদেশ মেরিন একাডেমী দেশি-বিদেশি সমুদ্রগামী জাহাজের মেরিন অফিসার ও প্রকৌশলী তৈরির একমাত্র সরকারি প্রতিষ্ঠান। ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম অর্গানাইজেশনের আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী প্রতিবছর ২০০ জন ক্যাডেটকে প্রশিক্ষিত করা হয়। ১৯৯৪ সাল থেকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাডেটদের ব্যাচেলর অব মেরিটাইম সায়েন্স (নটিক্যাল সায়েন্স/মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং) ডিগ্রি দিচ্ছে। প্রস্তাবে মেরিন একাডেমীর বিভিন্ন ইতিবাচক দিক তুলে ধরে আরো বলা হয়, প্রায় পাঁচ দশক ধরে মেরিন একাডেমী এর ভাবমূর্তি ধরে রাখতে সক্ষম হলেও বর্তমানের প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। কারণ মেরিটাইমবিশ্বে দক্ষ জনবলের চাহিদা অনেক। তেমনি শিপিং ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন ক্ষেত্রে মেরিটাইম বিশেষজ্ঞদের চাহিদাও ব্যাপক। এসব ক্ষেত্রের মধ্যে রয়েছে শিপবিল্ডিং ও নেভাল আর্কিটেকচার, মেরিটাইম সেফটি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট ব্যবস্থাপনা, পোর্ট ব্যবস্থাপনা, শিপিং ব্যবস্থাপনা, কোস্টাল ব্যবস্থাপনা, মেরিটাইম বাউন্ডারি ও রিসোর্স ব্যবস্থাপনা। এসব ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করাসহ অধিক হারে মেরিটাইম বিশেষজ্ঞ তৈরির লক্ষ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন সময়ের দাবি। বর্তমান মেরিন একাডেমীর সুখ্যাতির ওপর ভিত্তি করে এটিকে পূর্ণাঙ্গ মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এদিকে চট্টগ্রাম বাদে দেশের বাকি বিভাগগুলোতে একটি করে মোট ছয়টি মেরিন একাডেমী করা হচ্ছে। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগের নারায়ণগঞ্জে, রাজশাহী বিভাগের পাবনায় এবং খুলনা, বরিশাল, সিলেট ও রংপুর বিভাগীয় শহরে মেরিন একাডেমীগুলো প্রতিষ্ঠা করা হবে। ২০১৩ সালের মধ্যে এগুলো করা হবে বলে একটি সূত্র জানিয়েছে।

মন্তব্য