kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৩ কার্তিক ১৪২৭। ২৯ অক্টোবর ২০২০। ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

খেলাধুলার উন্নয়নে বিত্তবানরা এগিয়ে আসুন : প্রধানমন্ত্রী

বাসস   

৩১ অক্টোবর, ২০১০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা খেলাধুলার উন্নয়নে সরকারের পাশাপাশি সমাজের বিত্তবান, ব্যবসায়ী, শিল্পপতিসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি গতকাল শনিবার বিকেলে নবনির্মিত হ্যান্ডবল স্টেডিয়াম, উডেন ফ্লোর জিমনেসিয়াম ও মোহাম্মদ আলী বঙ্ংি স্টেডিয়াম উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করার সময় এ আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আবার খেলোয়াড় কোটা চালু করার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, ভালো খেলোয়াড় ভর্তি হলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সুনাম বাড়বে। তিনি বলেন, শরীর গঠনের পাশাপাশি চরিত্র গঠনে খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই। এর আগে শেখ হাসিনা প্রায় আট কোটি টাকা ব্যয়ে নবনির্মিত ১১০০ আসনের উডেন ফ্লোর জিমনেসিয়াম, দুই কোটি টাকা ব্যয়ে ৪০০ আসনের হ্যান্ডবল স্টেডিয়াম এবং চার কোটি টাকা ব্যয়ে পুনর্নির্মিত ৮০০ আসনের মোহাম্মদ আলী বঙ্ংি স্টেডিয়াম উদ্বোধন করেন। এ সময় তিনি হ্যান্ডবল, জিমন্যাস্টিকস ও বঙ্ংি খেলা উপভোগ করেন। শেখ হাসিনা খেলাধুলার উন্নয়নে বিত্তবান ও শিল্পপতিদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে বলেন, পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়া কখনোই খেলাধুলার উন্নয়ন সম্ভব নয়। দেশের ছেলেমেয়েদের যথেষ্ট প্রতিভা রয়েছে। কিন্তু তারা পর্যাপ্ত সুবিধা পায় না। প্রধানমন্ত্রী খেলাধুলার উন্নয়নে প্রশিক্ষণের ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, আজকাল খেলাধুলার প্রশিক্ষণে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু হলেও এ দেশে এর প্রচলন ঘটেনি। খেলাধুলার উন্নয়নে প্রয়োজনীয় সব কিছু করা হবে জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, বর্তমান সরকার আন্তর্জাতিক মানের খেলোয়াড় তৈরি করতে সব ধরনের উদ্যোগ নেবে। তিনি বলেন, তাঁর সরকার পর্যাপ্ত অবকাঠামো স্থাপন করে প্রশিক্ষণের সুযোগ করে দিতে আগ্রহী। কেননা খেলাধুলার উন্নয়নে প্রশিক্ষণের বিকল্প নেই। নিউজিল্যান্ডকে পর পর চারটি ওয়ানডে ম্যাচে পরাজিত করার পর ক্রিকেট খেলোয়াড়দের পুরস্কৃত করা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, খেলোয়াড়দের উৎসাহিত করার জন্য পুরস্কার প্রদান করা হয়। যাঁরা ভালো দৃষ্টান্ত স্থাপন করবেন, তাঁদেরও পুরস্কার দেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রী খেলাধুলার মানোন্নয়নে কেবল রাজধানীকেন্দ্রিক না হয়ে জেলা, থানা, গ্রাম এবং স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে প্রতিযোগিতা আয়োজন করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। শেখ হাসিনা বলেন, খেলোয়াড়দের অনেক সমস্যা রয়েছে। অনেক সময় তাদের অর্থনৈতিক চিন্তা করতে হয়। এমনকি খেলতে গিয়ে আহত হলে চিকিৎসা করার মতো টাকা তাদের কাছে থাকে না। ফলে তাদের বিভিন্ন জনের কাছে হাত পাততে হয়। খেলোয়াড় এবং খেলোয়াড়-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের যাতে এ সমস্যায় না পড়তে হয় সে জন্য সরকার বঙ্গবন্ধু ক্রীড়াসেবী ফাউন্ডেশন গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে। ইতিমধ্যে মন্ত্রিসভার বৈঠকে তা অনুমোদিত হয়েছে। এ ফাউন্ডেশনের অর্থ দিয়েই খেলোয়াড়দের সাহায্য-সহযোগিতা করা যাবে। তাদের আর কারো কাছে হাত পাততে হবে না। প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন শিল্প ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে খেলোয়াড়দের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির ওপর গুরুত্ব আরোপ করে বলেন, বিজ্ঞাপনের জন্য তারা প্রচুর অর্থ ব্যয় করে। তাদের প্রতিষ্ঠানে খেলোয়াড়দের নিয়োগ দেওয়া হলে এই ব্যয় হ্রাস পাবে। শেখ হাসিনা খেলোয়াড়, কবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিক ও সংস্কৃতিসেবীদের জন্য তাঁর সরকারের নেওয়া বিভিন্ন কল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, তাঁদের আবাসন সমস্যার সমাধানেরও উদ্যোগ নেওয়া হবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরো বক্তৃতা করেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আহাদ আলী সরকার, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি জাহিদ আহসান রাসেল এমপি, স্থানীয় সংসদ সদস্য রাশেদ খান মেনন, অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল আব্দুল মুবীন, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুব আহমেদ এবং ক্রীড়া ফেডারেশনগুলোর পক্ষ থেকে নুরুল ফজল বুলবুল। প্রতিমন্ত্রী আহাদ আলী সরকার খেলাধুলার সাফল্যের কথা তুলে ধরে বলেন, ৬৮ হাজার গ্রামে দেশীয় খেলাধুলা চালু করে আবার গ্রামীণজীবনে খেলাধুলার ক্ষেত্রে জাগরণ সৃষ্টির উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ প্রসঙ্গে তিনি মাওয়ায় স্পোর্টস কমপ্লেঙ্ স্থাপনের কথা উল্লেখ করেন। অনুষ্ঠানে মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্য এবং উচ্চপদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা, খেলোয়াড় ও বিপুলসংখ্যক ক্রীড়ানুরাগী উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য