kalerkantho

রবিবার । ২১ জুলাই ২০১৯। ৬ শ্রাবণ ১৪২৬। ১৭ জিলকদ ১৪৪০

কারো কথায় প্রভাবিত হয়ে বিনিয়োগ করবেন না

রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (রিহ্যাব) সভাপতি আলমগীর সামসুল আলামিন। আবাসন খাতের সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে খোলামেলা আলাপ করেছেন পিন্টু রঞ্জন অর্কের সঙ্গে

২৯ জুন, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



কারো কথায় প্রভাবিত হয়ে বিনিয়োগ করবেন না

আলমগীর সামসুল আলামিন, সভাপতি, রিহ্যাব

ঢাকায় আবাসন খাতের সামগ্রিক চিত্রটা কেমন?

 

সতেরো কোটি মানুষের এই দেশটা আয়তনে আসলেই ছোট। দেশের রাজধানী ঢাকা অন্যতম জনবহুল শহর। বলা চলে বসবাসের অযোগ্য। নাগরিক সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি পাচ্ছে না এমন নয়, তবে মানুষের চাপ এত বেশি যে সামলানো যাচ্ছে না। লোকজন মনে করে শহরে গেলেই কর্মসংস্থান হবে। তাই চাপ বাড়ছে প্রতিদিনই। এ থেকে বেরোতে চাইলে শুধু শহর সম্প্রসারিত করলে হবে না, আসলে দরকার দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা। তবেই ঢাকামুখী হওয়ার প্রবণতা কমবে। কিছু পদক্ষেপ নেওয়াও হয়েছে। যেমন—মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ১০০টি ইপিজেড (এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোন) তৈরির ঘোষণা দিয়েছেন। এগুলো বাস্তবায়িত হলে ঢাকার ওপর চাপ কমবে। তারপর শহরকে বাসযোগ্য করতে সরকার এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, মেট্রোরেল, ফ্লাইওভার, আন্ডারপাস ইত্যাদি তৈরি করছে। এগুলো প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ। একটা মেগাসিটিতে বহুতল ভবনও অনেক দরকার। শুধু জমি বরাদ্দ দিয়ে আবাসন সমস্যা মেটানো সম্ভব না। রাজউকের সঙ্গে বিভিন্ন মতবিনিময় সভায়ও বলেছি, আপনারা জমি বরাদ্দ না দিয়ে ফ্ল্যাট বরাদ্দ দেন। জমি যদি বরাদ্দই দিতে হয়, সেটা ডেভেলপার কম্পানিগুলোকে দেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, সবার জন্য আবাসন। উচ্চবিত্তরা নিজেদের আবাসনের ব্যবস্থা নিজেরাই করতে পারে; কিন্তু মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্তের জন্য সরকারকেই এগিয়ে আসতে হবে। তাদের জন্য জমি বরাদ্দ দিতে হবে এবং বিশেষ মূল্যে তাদের ফ্ল্যাট দিতে হবে। সেই ফ্ল্যাট কেনার জন্য দীর্ঘমেয়াদে স্বল্পসুদে ঋণের ব্যবস্থা করতে হবে। মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্তের জন্য বাসস্থানের ব্যবস্থা করা না গেলে আমাদের সব পরিকল্পনা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হবে। সরকারকে ধন্যবাদ, এই বাজেটে আবাসন খাতের প্রতি তারা সুনজর দিয়েছে। বেশ কিছু ছাড়ও দিয়েছে। অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের সুযোগ রাখা হয়েছে আবাসন খাত ও ইপিজেডে। এটাকে সাধুবাদ জানাই। যেখানে কর্মসংস্থানের সুযোগ আছে, সেখানে বিনিয়োগের সুযোগ দিলে সুফল মিলবে। আবাসন খাতে আমরা একটা বিশেষ তহবিলের কথা বারবার বলে আসছি। এটা এখন পর্যন্ত কার্যকর হয়নি। আশা করি আগামী অর্থবছরে এটা কার্যকর হবে।

 

 

আবাসন খাতে অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগ নিয়ে বিতর্কও আছে অনেক।

দেখুন, যখন আপনি কোনো সুযোগ দেবেন না, তখন ওই অর্থটা অপ্রদর্শিতই থেকে যাবে। শেষে এটা একসময় ব্যাংকিং চ্যানেলের বাইরে চলে যায়। অর্থনীতির কোথাও এর প্রতিফলন দেখা যায় না। এটা ভেতরে নিয়ে আসা প্রয়োজন। দেশের স্বার্থে যেমন, কর্মসংস্থানের স্বার্থেও। যাঁরা এটার বিরোধিতা করেন, তাঁদের সঙ্গে আমি দ্বিমত পোষণ করি। দেশের স্বার্থে এই জায়গা থেকে সরে আসা উচিত।

 

গ্রাহকের আস্থার সংকট নিরসনে রিহ্যাব কিভাবে ভূমিকা রাখছে?

সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করে দেখি ১৪০০ অভিযোগ হাজির আমার সামনে। বর্তমানে তা কমে ১১৭টিতে এসে ঠেকেছে। আমরা একটি মেডিয়েশন (মধ্যস্থতা) সেল তৈরি করেছি। এই সেলের মাধ্যমে অভিযোগকারী ও অভিযুক্ত—দুজনকে নিয়ে বসেই সমস্যাগুলো সমাধান করি। আমরা সার্থকতার সঙ্গে অনেকগুলোর সমাধান করেছি। এখন অভিযোগ অনেক কমে এসেছে। যেকোনো ব্যবসায়ই খারাপ ব্যবসায়ী থাকে। এর অর্থ এই না যে পুরো সেক্টরটা খারাপ।

 

গ্রাহক যাতে প্রতারিত না হয় সে জন্য কী ব্যবস্থা নিচ্ছেন?

আমাদের ওয়েবসাইটে ডেভেলপারকে ল্যান্ড দেওয়ার আগে কিংবা গ্রাহক জমি কেনার আগে কোন বিষয়গুলো দেখবেন, সহজ বাংলায় সেটা কিন্তু দেওয়া আছে। গ্রাহক ও জমির মালিকরা অনেক সময় এই বিষয়গুলো খেয়াল করেন না। কারো কথায় প্রভাবিত হয়ে বিনিয়োগ করে বসেন। পরবর্তী সময়ে সমাধানের জন্য আমাদের কাছে আসেন। শহরের অনেক শিক্ষিত মানুষও অনেক সময় এ ধরনের ভুল করে বসেন।

 

তাহলে বিনিয়োগের আগে কোন বিষয়গুলো খেয়াল করতে বলবেন?

প্রথমে ফ্ল্যাটের কথা বলি। প্রথমে খবর নেওয়া দরকার ভবনটি কততলা পর্যন্ত রাজউকের অনুমোদন পেয়েছে। কতটি অ্যাপার্টমেন্ট থাকার কথা, কত বর্গফুটের একেকটা অ্যাপার্টমেন্ট—এটা কিন্তু পরিষ্কার রাজউকের প্ল্যানে থাকে। ধরুন, ১৩২০ স্কয়ার ফুট করে রাজউকের প্ল্যান পাস করা। ডেভেলপার যদি বলে ১৫০০ স্কয়ার ফুটের অ্যাপার্টমেন্ট, তখন আপনি সহজেই ফাঁকিটা ধরতে পারবেন। এই সামান্য বিষয়গুলো একবার দেখে নিলেই কেউ আপনাকে প্রতারিত করতে পারবে না। রাজউকে প্ল্যান পাস হওয়ার মানে হলো জমিটি সঠিক জমি। কত স্কয়ার ফুটের অ্যাপার্টমেন্ট, কয়টা পার্কিং আছে, সেটাও জানতে পারবেন। কিন্তু অনেকেই এসব না জেনে সেলসম্যানদের কথায় প্রভাবিত হয়ে অর্থ বিনিয়োগ করেন। রাজউকে গিয়ে দুই দিন যদি সময় দেন তাহলে সব জেনে যাবেন।

প্লটের ক্ষেত্রে প্রথমেই খেয়াল রাখতে হবে আপনি কার কাছ থেকে জমি কিনছেন। যে ডেভেলপারের কাছ থেকে কিনছেন তাঁকে জিজ্ঞেস করেন—ভাই, আপনি এ ধরনের কয়টা প্রজেক্ট হ্যান্ডওভার করেছেন? সেই প্রজেক্টগুলো ভিজিট করুন। দু-একজন জমির মালিকের সঙ্গে কথা বলেন। তাহলেই ডেভেলপার সম্পর্কে আপনার ধারণা পরিষ্কার হয়ে যাবে। তার ব্যবহার কেমন, সময়মতো হ্যান্ডওভার করে কি না—সবই জানতে পারবেন। ল্যান্ডের ব্যাপারে প্রথমেই দেখা উচিত যথাযথ কর্তৃপক্ষের ছাড়পত্র আছে কি না। যদি থাকে তাহলে একটা কপি নিন। নিয়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে গিয়ে যাচাই করুন। যদি দেখেন সব ঠিক আছে তাহলে বিনিয়োগ করতে পারেন।

ছবি : মোহাম্মদ আসাদ

মন্তব্য