kalerkantho

শনিবার । ২০ জুলাই ২০১৯। ৫ শ্রাবণ ১৪২৬। ১৬ জিলকদ ১৪৪০

প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে বন্ধন গড়ে দিই

আনোয়ার গ্রুপের একটি প্রতিষ্ঠান আনোয়ার ল্যান্ডমার্ক। ২০০১ সালে এর যাত্রা শুরু হয়। প্রথমে পুরান ঢাকায় কিছু প্রকল্পে কাজ করে প্রতিষ্ঠানটি। তারপর শ্যামলীতে। এখন ধানমণ্ডি, মিরপুর, শ্যামলী, উত্তরা, বারিধারা, মিরপুর ডিওএইচএসসহ ঢাকা শহরের আরো কিছু জায়গায় কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি। শুধু বাসা নয়, হবে বাসস্থান; যেখানে একটি পরিবার বাস করবে প্রজন্মের পর প্রজন্ম—এই ভাবনা রেখে কাজ করে আনোয়ার ল্যান্ডমার্ক। প্রতিটি প্রকল্পে খোলা জায়গায় ও বারান্দায় গাছ রাখার কথা ভাবে। রাখে খেলা ও নামাজের জায়গা।

২৯ জুন, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে বন্ধন গড়ে দিই

হোসেন খালেদ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, আনোয়ার ল্যান্ডমার্ক

আপনাদের প্রকল্পগুলো নিয়ে বলুন

৭৮০ থেকে ৪০০০ স্কয়ার ফুটের অ্যাপার্টমেন্টও করছি। আমরা সব ধরনের ক্রেতার কাছে যাওয়ার চেষ্টা করি। সাধ্যের বাইরে কোনো কাজে হাত দিইনি। এখন আমাদের ২০টি প্রকল্প চলছে। সম্পন্ন করেছি ৩৯টি প্রকল্প। শ্যামলীতে প্রায় এক হাজার ৬০০ অ্যাপার্টমেন্টের একটি কন্ডোমিনিয়াম প্রকল্প চলছে।

 

আপনাদের বিশেষত্ব কী?

আমরা গ্রাহকের কথা শুনি। তাঁদের প্রয়োজনীয়তা হিসাব করে তাঁদের জন্য নিরাপদ আবাসন নির্মাণ করি। আমরা শুধু বাসা বানাই না, বরং একটি পরিবার স্বাচ্ছন্দ্যে থাকতে পারে এমন পরিবেশ তৈরি করি। আমাদের প্রকল্পগুলো সবুজ হয়। প্রতিবেশীদের কথাও মাথায় রাখি। আমরা নিজেরাই (আনোয়ার গ্রুপ) নির্মাণসামগ্রী তৈরি করি; তাই কাঁচামালের মাননিয়ন্ত্রণ করতে পারছি। নির্মাণসামগ্রীতে আমরা স্বয়ংসম্পূর্ণ বলে প্রকল্পের মান ভালো হয় আর সময়মতো হস্তান্তরও করতে পারি।

 

আপনাদের অর্জন কী?

আমরা আইএসও সার্টিফায়েড কম্পানি । রিহ্যাবেরও সদস্য। আমাদের কাজের মান ভালো বলে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক উভয় পরিসরে পুরস্কার পেয়েছি। আমরা সরকারের সঙ্গেও কাজ করি। চট্টগ্রামে কোরিয়ান কম্পানির সঙ্গে যৌথভাবে ওয়াসার কাজ করছি। ভারতীয়দের সঙ্গেও আমাদের যৌথ প্রকল্প রয়েছে। এ ছাড়া গ্রাহকের রেফারেন্সে নতুন গ্রাহক পাওয়া সবচেয়ে বড় পাওয়া। আমাদের টিম মেম্বার সবাই দীর্ঘদিন আমাদের সঙ্গে। তারা আমাদের সবচেয়ে বড় সম্পদ।

 

সামাজিক কার্যক্রমে আপনারা কেমন ভূমিকা রাখছেন?

আনোয়ার গ্রুপ পুরান ঢাকায় অনেকগুলো সিএসআর (করপোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি) প্রকল্প পরিচালনা করছে। এর মধ্যে আছে বেশ কিছু প্রাথমিক বিদ্যালয়। মাদরাসা, এতিমখানার সঙ্গেও জড়িত আমরা। এ ছাড়া চক্ষু হাসপাতাল, মাতৃসদন, ব্লাড ডোনেশন সেন্টার এবং বারডেমের সঙ্গে ডায়াবেটিক সেন্টার রয়েছে।

 

আপনাদের ভবিষ্য পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাই

ল্যান্ড প্রজেক্টে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে; কিন্তু সেটা হয়তো পাঁচ বছর পর। ঢাকা ও ঢাকার আশপাশে আরো কন্ডোমিনিয়াম প্রকল্প করব। কমপক্ষে এক হাজার ৫০০ থেকে দুই হাজার অ্যাপার্টমেন্ট হবে এগুলোতে। ঢাকার বাইরেও যাওয়ার ভাবনা আছে।

 

গৃহায়ণ খাতে বর্তমান চ্যালেঞ্জ?

নির্মাণসামগ্রীতে এবার বাড়তি ট্যাক্স বসছে। সিমেন্টের প্রতি ব্যাগে ৩০-৪০ টাকা খরচ বেড়ে যাবে। সরকারি কিংবা বেসরকারি নির্মাণ খাতে এর প্রভাব পড়বে। বড় প্রজেক্টগুলোর বাজেটে প্রভাব ফেলবে। আর আমাদের গ্রাহকের ওপর চাপ পড়বে। এতে গ্রাহক ক্রয়ক্ষমতা হারিয়ে ফেলতে পারে। বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত রিয়েল এস্টেট বা কনস্ট্রাকশন খাতকে একটি ইকোনমিক ইনডিকেটর (অর্থনৈতিক সূচক) হিসেবে ধরা হয় না। অথচ পৃথিবীর প্রায় সব দেশে রিয়েল এস্টেট ও কনস্ট্রাকশন খাত ইকোনমিক ইনডিকেটর। সরকারকে রিয়েল এস্টেট সেক্টরকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

সাক্ষাৎকার গ্রহণ ও ছবি : সানজাদুল ইসলাম সাফা

মন্তব্য