kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১১ আগস্ট ২০২২ । ২৭ শ্রাবণ ১৪২৯ । ১২ মহররম ১৪৪৪

গরমে আরামে রান্না

রান্নাঘর এমনিতেই গরম। গরমে কাজ করতে কষ্ট বেড়ে যায় কয়েক গুণ। কিছু বিষয় মেনে চললে গরমেও আরাম মিলবে রান্নাঘরে। সেরা রাঁধুনি ১৪২৭-এর প্রথম রানার আপ নাদিয়া নাতাশার সঙ্গে কথা বলে লিখেছেন আতিফ আতাউর

২৩ মে, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



গরমে আরামে রান্না

এই গরমে ঘেমে নেয়ে রান্না করতে কারোরই ভালো লাগার কথা নয়। একে তো চুলার গরম, তার ওপর প্রকৃতির উত্তাপ। দুইয়ে মিলে জীবন যেন ওষ্ঠাগত হয়ে পড়ে। এমন পরিবেশে বেশিক্ষণ থাকলে অসুস্থ হয়ে পড়ার শঙ্কাও কম নয়।

বিজ্ঞাপন

তাই গ্রীষ্মে খাবার রাঁধার সময় রান্নাঘরে আরামের দিকে মনোযোগ দেওয়া উচিত।

গুমট রান্নাঘর নয়

অনেকেই রান্নাঘর যেন ছোটখাটো গুদাম বানিয়ে রাখেন। রান্নাঘরের কার্নিশে ফ্রিজ, টিভির কার্টন, পুরনো জিনিস জমিয়ে রাখেন। এ ছাড়া অহেতুক নানা জিনিস রান্নাঘরে রেখে দিন। এটি করা যাবে না। এতে রান্নাঘর গুমট হয়ে পড়ে। গরম বাড়ে। রান্নাঘর থেকে অদরকারি জিনিসপত্র ঝেঁটিয়ে বিদায় করে দিন, যেন আলো-বাতাস খেলা করতে পারে। রান্নাঘরের কর্মপরিবেশ সুন্দর থাকলে রান্না করেও আরাম পাওয়া যায়।

জানালা খোলা রাখুন

রান্নাঘরের জানালা সব সময় আটকে রাখবেন না। রান্না করার সময় তো নয়ই। বাইরের আলো ও বাতাস যাতে রান্নাঘরে ঢুকতে পারে সেদিকে খেয়াল রাখুন। রান্নাঘরে এগজস্ট ফ্যান ব্যবহার করুন। এই ফ্যান রান্নাঘরের ভেতরের গরম বাতাস বাইরে টেনে বের করে দেয়। ফলে রান্নাঘর তুলনামূলক কম গরম হয়।

আরামদায়ক সময়ে রান্না

গরমের সময় একেবারে দুপুরে রান্নাবান্না করা বাদ দিন। কেননা এ সময় বাইরের তাপমাত্রা থাকে সবচেয়ে বেশি। এর সঙ্গে রান্নাঘরের তাপ মিলিয়ে গরম আরো বেশি অনুভূত হয়। এ জন্য রাতে বা দিনের শুরুতে রান্নার কাজটি শেষ করে ফেলার চেষ্টা করুন। রাতে কিছু কাজ গুছিয়ে রেখে ভোরে উঠে রান্না করুন। এটি গরমকালে রান্না করার ভালো সময়। এ ছাড়া কোটাবাছার কাজটি রান্নাঘরে চুলার পাশে বসে না করে বারান্দা বা আরামদায়ক কোনো স্থানে সারতে পারেন। শুধুমাত্র রান্নার সময় চুলার পাশে অবস্থান করুন।

গোছানো রান্নাঘর

রান্নাঘরে হরেক জিনিসের দরকার পড়ে। একটি জিনিস ব্যবহার শেষে সেটি নির্দিষ্ট স্থানেই তুলে রাখুন। জিনিসপত্র অগোছালো করে রাখলে এবং হাতের কাছে না পেলে গরমে রান্নায় মেজাজ হারিয়ে ফেলতে পারেন। মসলার কৌটা, ডাল, তেল, চিনি, আলু, পেঁয়াজ, রসুনসহ প্রয়োজনীয় পণ্য, জুসার, ব্লেন্ডার, ওভেন, ছুরি, কাঁচি সুন্দর করে সাজিয়ে রাখুন, যাতে কাজের সময় সহজেই পাওয়া যায়, বেশি ছোটাছুটি করতে না হয়। সব কিছু গুছিয়ে নিয়ে রান্না করতে বসুন। গরম ও ক্লান্তি দুটিই কম লাগবে। রান্নাঘর বড় হলে কৃত্রিম গাছ, ফুল ও লতাপাতা দিয়ে সাজিয়ে রাখুন। এমন রান্নাঘরে  ক্লান্তি সহজে আপনাকে স্পর্শ করবে না।

খাবারের লিস্ট

কোন বেলায় কী খাবার রান্না করবেন তার একটি তালিকা আগেই তৈরি করে ফেলুন। এতে মানসিকভাবে আপনি আগেই কিছুটা প্রস্তুত হয়ে যাবেন। খাবারটি রান্না করতে কতক্ষণ সময় লাগবে, সেটি কোন সময়ে রান্না করলে ভালো হবে—এ বিষয়েও ধারণা থাকার ফলে কষ্ট কম হবে। বেশি সময় লাগে এবং শক্তি ব্যয় হয়—গরমের মৌসুমে এজাতীয় খাবার রান্না করা পরিহার করুন। একবেলা রান্না করে এয়ারটাইট বক্সে রেখে পরের বেলা গরম করে খেতে পারেন।

চুলার আঁচ বেশি নয়

রান্নার সময় চুলার আঁচ খুব বেশি বাড়িয়ে দিয়ে রান্না করা থেকে বিরত থাকুন। চুলার জ্বাল বেশি বাড়িয়ে দিলে রান্নাঘর খুব দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে উঠবে। কম আঁচে রান্না করা যায় এমন খাবার মেন্যুতে রাখুন।

নিজের যত্ন

রান্নার ফাঁকে ঠাণ্ডা ফলের জুস পান করতে পারেন। ক্ষণিকের বিরতি নিয়ে অন্য ঘরে ফ্যানের নিচে বসতে পারেন। লেবু-পানি পান করলেও আরাম পাবেন রান্নার সময়। এ ছাড়া ফাঁকে ফাঁকে মুখে ঠাণ্ডা পানির ঝাপটা নিন। গরম কম অনুভূত হবে।