kalerkantho

মঙ্গলবার । ১১ মাঘ ১৪২৮। ২৫ জানুয়ারি ২০২২। ২১ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

জুতা-মোজায় গন্ধ নয়

পা ঘেমে অনেক সময় জুতা, মোজা ও পা থেকে দুর্গন্ধ ছড়ায়। পরিত্রাণ পেতে কিছু নিয়ম মেনে চলুন। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের অনারারি মেডিক্যাল অফিসার ডা. রায়হান উদ্দিনের সঙ্গে কথা বলে লিখেছেন ফাতেমা ইয়াসমীন

৬ ডিসেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



জুতা-মোজায় গন্ধ নয়

ফুলবাবুটি হয়ে কোথাও গেলেন। জুতা খুলে বসার পর হঠাত্ বুঝতে পারলেন, জুতা ও মোজা থেকে দুর্গন্ধ ছড়াতে শুরু করছে। কী অস্বস্তিকর একটা ব্যাপার বলুন তো! এটা শুধু নিজের জন্যই নয়, বরং আশপাশের মানুষকেও বিব্রতকর পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দেয়। এ জন্য জুতা, মোজা ও পায়ের যত্নে সব সময় সচেতন থাকা উচিত।

বিজ্ঞাপন

 

পা থেকেই শুরু হোক

জুতা ও মোজা থেকে দুর্গন্ধ ছড়ানোর জন্য জুতা ও মোজার দিকে তীর তাক করে বাঁচার উপায় নেই। গন্ধ শুরুটা হয় কিন্তু পা থেকেই। পা থেকে দুর্গন্ধ ছড়ানোর মূল কারণ পা ঘেমে যাওয়া। এই ঘামের কারণে জুতা, মোজা ও পায়ে ব্যাকটেরিয়া সৃষ্টি হয়। এই ব্যাকটেরিয়া থেকে সৃষ্টি হয় দুর্গন্ধ। এর ফলে জুতা খোলার সঙ্গে সঙ্গে অনেকের পা ও জুতা-মোজা থেকে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে।

পরিত্রাণ কিভাবে

সঠিক জুতা নির্বাচন : পায়ে যাতে বাতাস খেলতে পারে এমন জুতা বেছে নিন। বারবার একই জুতা পরার অভ্যাস পরিবর্তন করুন। নিজের ব্যবহারের জন্য কয়েক জোড়া জুতা রাখুন। জুতা পরার কারণে পা ঘামলে সেই জুতা শুকানোর জন্য বিরতি দিন।

মৃত কোষ দূর : শুষ্ক ও মৃত কোষ ভেজা অবস্থায় ব্যাকটেরিয়ার বিস্তার ঘটায়। এর জন্য দুর্গন্ধ তৈরি হয়। তাই ফাইলার ব্যবহার করে সপ্তাহে একবার পায়ের মৃত কোষ দূর করুন। এতে পায়ের ত্বক সুস্থ ও পরিষ্কার থাকবে। পা থেকে গন্ধ ছড়াবে না।

সব সময় মোজা ব্যবহার : মোজা ছাড়া জুতা পরা পায়ে দুর্গন্ধ হওয়ার প্রধান কারণ। মোজা না পরলে ত্বক সরাসরি জুতার সংস্পর্শে আসে। ফলে ব্যাকটেরিয়া ও আর্দ্রতায় সরাসরি পা আক্রান্ত হয়। তাই জুতা পরার সময় অবশ্যই মোজা ব্যবহার করুন। গন্ধ হওয়া থেকে পরিত্রাণ পাবেন।

পা থাকুক পরিষ্কার : বাড়িতে ফিরে অবশ্যই পা ভালোমতো ধুয়ে নিন। সকালে বাইরে যাওয়ার আগে গোসল করে ভালোমতো পা শুকিয়ে নিন। কারণ জুতায় আটকে থাকায় পা আর্দ্র হয়ে যায়। আর্দ্রতা ব্যাকটেরিয়ার জন্ম দেয়। এ জন্য ভেজা পায়ে জুতা পরবেন না। আবার জুতা খুলে পা ভালোমতো পরিষ্কার করে মুছে নিন।

দুর্গন্ধের জন্য আবার শুধু পা-কে দায়ী করা ঠিক নয়। পা পরিষ্কারের পাশাপাশি জুতা-মোজাও ঠিকমতো পরিষ্কার করা উচিত। নইলে অপরিষ্কার জুতা ও মোজাও হতে পারে দুর্গন্ধের প্রধান উত্স।

জুতা রোদে দিন : সপ্তাহে অন্তত একবার জুতার ভেতরে সুগন্ধি পাউডার দিয়ে ভালো করে কাপড় দিয়ে মুছে নিন। মাঝেমধ্যে জুতাগুলো রোদে দিন।

বেকিং সোডা : জুতা বা মোজার দুর্গন্ধ দূর করতে বেকিং সোডা বেশ কার্যকর। জুতা খুলে রাখার পর কিছুটা বেকিং পাউডার বা বেকিং সোডা ছিটিয়ে সারা রাত রেখে দিন। পরদিন ব্যবহারের আগে বেকিং সোডা ফেলে দিয়ে ব্যবহার করুন। সহজে গন্ধ হবে না।

কমলার খোসা : জুতার দুর্গন্ধ দূর করতে জুতার মধ্যে কয়েকটি কমলার খোসা সারা রাত রেখে দিন। কমলার খোসা দুর্গন্ধ শুষে নেবে। ব্যবহারের আগে খোসাগুলো ফেলে ব্যবহার করুন।

টি ব্যাগ : টি ব্যাগ ব্যাকটেরিয়া জন্মাতে বাধা দেয়। নিত্য ব্যবহূত টি ব্যাগ রেখে দিতে পারেন জুতার ভেতর। প্রথমে ফুটন্ত পানিতে টি ব্যাগ কয়েক মিনিট রেখে দিন। এরপর এটি তুলে ঠাণ্ডা হলে জুতার মধ্যে রেখে দিন এক ঘণ্টা।

বেবি পাউডার : বেবি পাউডার শুধু বাচ্চাদের ত্বকের যত্নে ব্যবহার ছাড়াও নানা কাজে ব্যবহূত হয়। এটি জুতার দুর্গন্ধ দূর করতেও বেশ কার্যকর। জুতা পায়ে দেওয়ার আগে কিছুটা পাউডার ছিটিয়ে নিন। তবে খেয়াল রাখবেন পাউডার যেন বেশি না হয়।