kalerkantho

রবিবার । ১০ শ্রাবণ ১৪২৮। ২৫ জুলাই ২০২১। ১৪ জিলহজ ১৪৪২

পোর্টেবল এসি ও এয়ারকুলার

গরমে আরাম পেতে এসির শীতল বাতাস স্বস্তিদায়ক। তবে এসি ব্যবহারের জন্য চাই উপযুক্ত পরিবেশ। এসব বিবেচনায় এখন বহনযোগ্য (পোর্টেবল) এসি ও এয়ারকুলার এনেছে বিভিন্ন ব্র্যান্ড। বিস্তারিত জানাচ্ছেন আতিফ আতাউর

৭ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পোর্টেবল এসি ও এয়ারকুলার

শীতের কয়েক মাস যন্ত্রটির কথা যেন মনেই থাকে না। তবে গরম এলেই খোঁজ পড়ে। কোথায় আছে, কেমন আছে, ঠিকঠাক আছে তো? না থাকলে নতুনটার কত দাম, কেমন মডেল, স্বস্তিদায়ক শীতল বাতাস দেবে তো? এমন প্রশ্ন দেখা দেয় আরামপ্রিয় মানুষের কাছে। শুধু আরাম কেন, গরমের তীব্র দাবদাহে দরকারিও যন্ত্রটা। বলছি ঘরে গরমে প্রশান্তির পরশ বুলিয়ে দেওয়া শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র বা এসির কথা। ঘরে যদি বড় এসি থাকে তাহলে ভিন্ন কথা। কিন্তু ড্রয়িংরুমের আড্ডায় কিংবা ডাইনিংয়ের খাবার টেবিলে ঠাণ্ডা বাতাসের ছোঁয়া পেতে কাজে দেয় পোর্টেবল এসি কিংবা এয়ারকুলার। এগুলোতে থাকা বিভিন্ন প্রযুক্তিগত সুবিধা ঘরের ধুলা-ময়লা ও দূষিত বাতাস টেনে নিয়ে বিশুদ্ধ শীতল বাতাস ছড়িয়ে দেয়। এতে অ্যালার্জিজনিত সমস্যা থেকে রেহাই পাওয়া যায়।

বেশ কয়েক বছর ধরেই এসি ও পোর্টেবল এয়ারকুলার বাজারজাত করছে ভিশন ইলেকট্রনিকস। ভিশনের ব্র্যান্ড ম্যানেজার শেখ মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘আমাদের এসির পাশাপাশি ছোট আকৃতির বহনযোগ্য এয়ারকুলার আছে। যাতে কেউ চাইলে সুবিধামতো দুটির যেকোনোটি বেছে নিতে পারেন। বড় এসির অসুবিধা হচ্ছে, বাসা কিংবা অফিসে সেট করা থাকে। চাইলেই সব সময় সরানো যায় না। কিন্তু পোর্টেবল এসি কিংবা এয়ারকুলারে সেটা নেই। সুবিধামতো যেকোনো ঘর, বারান্দা, ড্রয়িং, ডাইনিংয়ে ব্যবহার করা যায়।’

পোর্টেবল এসি বা এয়ারকুলারগুলোর ওজন অনেক কম হয়। আবার কোনো কোনোটির নিচে চাকা লাগানো থাকে। ফলে সহজেই এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় নেওয়া যায়। পোর্টেবল এসি ও এয়ারকুলার কেনার ক্ষেত্রে পণ্যটির ম্যানুয়াল ভালো করে পড়ে তবেই কেনার পরামর্শ দিলেন শেখ মাহবুবুর রহমান। তাঁর মতে, পুরু হানিকম প্যাড, আয়োনাইজার, ইভাপোরেটিভ ও মিস্ট ফাংশনগুলো দেখে তার পরই এয়ারকুলার কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। যেমন—মিস্ট ফাংশন বিশিষ্ট এয়ারকুলারে বাষ্প বেশি হয়। ফলে ঘরের বিভিন্ন আসবাব নষ্ট হওয়ার ভয় থাকে। এগুলো সাধারণত বারান্দা, ছাদ ও ঘরোয়া আড্ডায় কিছু সময়ের জন্য ব্যবহার করাই বেশি নিরাপদ। এ ছাড়া ব্যবহারের আগে ব্যবহার নির্দেশিকা বা ম্যানুয়াল পড়ে নেওয়া উচিত।

যে যন্ত্রটি আমাদের নিয়মিত যত্ন নেয়, তার প্রতিও আমাদের মাঝেমধ্যে যত্ন নেওয়া উচিত। পোর্টেবল এসি অথবা এয়ারকুলার বেশি নাড়াচাড়া না করাই ভালো। তার পরও প্রয়োজন অনুযায়ী এদিক-সেদিক করতেই হয়। ফলে হাতের ছাপসহ ধুলাবালি ও ময়লা পড়ে নোংরা হয়। এ জন্য এসি অথবা এয়ারকুলারের ওপরের অংশ নিয়মিত শুকনা কাপড় দিয়ে মুছে নিন। এতে দাগ পড়বে না। যদি কোনো কারণে দাগ পড়ে তাহলে সাদা কাপড়ে ভিনেগার লাগিয়ে মুছে নিন। এতেও যদি দাগ না যায় তাহলে তুলায় নেইলপলিশ রিমুভার নিয়ে আলতো করে মুছে নিন। এসি ও এয়ারকুলারের ফিল্টার মাসে একবার পরিষ্কার করা ভালো। কুসুম গরম পানিতে ডিশ ওয়াশার মিশিয়ে ফিল্টার ধুয়ে নিতে পারেন। অনেক সময় ফাঁকা পেয়ে এসির ভেতর পিঁপড়া, তেলাপোকা বাসা বাঁধতে পারে। এ জন্য নিয়মিত ঝাড়ামোছা করুন।

কোথায় পাবেন, কেমন দাম

ভিশন, ওয়ালটন, গ্রি, ক্যারিয়ার, শাওমি, প্যানাসনিক, শার্পসহ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের এয়ারকুলার ও পোর্টেবল এসি পাওয়া যায় বাজারে। এয়ারকুলারের দাম পড়বে ৪ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকার মধ্যে। পোর্টেবল এসি পাওয়া যাবে ২৫ থেকে ৫০ হাজার টাকার মধ্যে।