kalerkantho

বুধবার । ২৯ বৈশাখ ১৪২৮। ১২ মে ২০২১। ২৯ রমজান ১৪৪২

অন্য পোশাকে বৈশাখ

বৈশাখে শাড়ি-পাঞ্জাবিই পরতে হবে, তা কিন্তু নয়! আরামের জন্য শার্ট, টি-শার্ট, কামিজ, কুর্তি, স্কার্ট—পরতে পারেন যেকোনো পোশাক। ফ্যাশন হাউসগুলোও এখন প্রথার বাইরে আয়োজন করছে। জানাচ্ছেন আতিফ আতাউর

৫ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



অন্য পোশাকে বৈশাখ

মডেল : নওশাবা ও সজল নওশাবার পোশাক ও গয়না : কার্পাস সজলের পোশাক : ইজি সাজ : তানিয়া আফরীন ছবি : আবু সুফিয়ান নিলাভ

বৈশাখী উত্সবে যোগ দিতে একেকজনের থাকে একেক রকম পরিকল্পনা। কারো ব্যস্ততা পরিবার নিয়ে তো কেউ কেউ বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরে বেরিয়ে কাটিয়ে দেন সারা বেলা। উত্সবের রঙে নিজেকে রাঙাতে নতুন পোশাক পরেন। পোশাক পছন্দের ক্ষেত্রে একেকজনের রুচি আবার একেক রকম। বিশ্বরঙের স্বত্বাধিকারী ও ফ্যাশন ডিজাইনার বিপ্লব সাহার মতে, বৈশাখে মেয়েদের শাড়ি আর ছেলেদের পাঞ্জাবি পরতে হবে, এমন কোনো ধরাবাঁধা নিয়ম নেই। প্রত্যেক মানুষের পারিবারিক অবস্থান, পরিবারের পরিবেশ, বাজেট ও পরিকল্পনা ভিন্ন ভিন্ন হয়। এর ওপর নির্ভর করে তাঁরা বৈশাখ আয়োজনের প্রস্তুতি নেন। একেকজনের একেক রকম চাহিদা পূরণের জন্যই বেশির ভাগ ফ্যাশন হাউসগুলো মাল্টিপ্রডাক্ট শপ হিসেবে যাত্রা শুরু করে। মানুষের রুচির এই ভিন্নতার জন্যই সব ধরনের প্রস্তুতি রাখে ফ্যাশন হাউসগুলো। আবার অনেকেই আছেন যাঁরা বৈশাখ উপলক্ষে কেনা পোশাক পরেও পরতে চান। তাঁদের জন্যই শাড়ি-পাঞ্জাবির বাইরে শার্ট, টি-শার্ট, ফতুয়া, কামিজ, টপস, কুর্তি ইত্যাদি রাখতে হয়।

ফ্যাশন হাউস কার্পাসের সত্বাধিকারী ও ডিজাইনার ফারজানা নীলা এবার বৈশাখ উপলক্ষে পোশাকের ডিজাইনে বৈশাখী আবহ যেমন রেখেছেন, তেমনি আবার যাতে অন্য সময়ও ব্যবহার করা যায় সেদিকেও দিয়েছেন বিশেষ নজর। তিনি বলেন, ‘বৈশাখে মেয়েদের শাড়ি ও ছেলেদের পাঞ্জাবির আবেদন চিরন্তন। কিন্তু একটা মানুষ তো সারা দিন শাড়ি-পাঞ্জাবি পরে থাকতে পারে না। বাইরের অনুষ্ঠান থেকে বাসায় ফিরে তাকে অন্য আরেকটা আরামদায়ক পোশাক বেছে নিতে হয়। আবার এমন অনেকেই আছেন যাঁরা শাড়ি-পাঞ্জাবিতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন না বা এমন পোশাকে তাঁদের কম মানায়। ফ্যাশনপ্রেমীদের রুচি, চাহিদা, আরাম ও ব্যবহারের উপযোগিতা বিবেচনায় রেখেই প্রডাক্ট লাইন সাজিয়ে থাকি আমরা।’

বৈশাখে তাই অনায়াসে বেছে নিতে পারেন শার্ট, টি-শার্ট, স্কার্ট, কামিজ, টপ, ফ্রক, কুর্তিসহ অন্যান্য পোশাক। যে পোশাকে আপনাকে ভালো মানায় তেমনটাই বেছে নিন। সঙ্গে আরামের বিষয়টিও মনে রাখুন। বিপ্লব সাহা আরো জানান, আগে বৈশাখী পোশাকের ডিজাইনে একতারা, দোতারা, ঢোল, তবলা, বাঁশি ইত্যাদি ফুটিয়ে তোলা হতো। সেই চল থেকে আমরা বেরিয়ে এসেছি অনেক আগেই। এখন একজন ডিজাইনার পোশাকে নকশা ফুটিয়ে তুলতে অনেক কিছু বিবেচনা করেন। এতে যেমন পোশাকটিতে নির্দিষ্ট উত্সবের বার্তা থাকে, তেমনি আবার অন্য সময়েও যাতে ক্যারি করতে কোনো অসুবিধা না হয় সে বিষয়ে সচেষ্ট থাকেন তাঁরা। এ জন্যও শাড়ি-পাঞ্জাবির সঙ্গে সঙ্গে শার্ট, টি-শার্ট, ফতুয়া, স্কার্ট, কামিজ, টপ, ফ্রক, কুর্তি জাতীয় পোশাকও বৈশাখ আয়োজনে বেছে নিচ্ছেন তরুণ-তরুণীরা। এতে যেমন পোশাকটি পরে বৈশাখ উদযাপন করা যায়, তেমনি আবার পরেও স্বাচ্ছন্দে ব্যবহার করা যায়।  

বিপ্লব সাহার মতে, উত্সবের পোশাকে সাধারণত একটু রঙের প্রাধান্যই থাকে। এমন পোশাক সবসময় পরা যায় না, মাঝে মাঝে পরা যায়। রঙিন পোশাক মন ভালো রাখতে সাহায্য করে। আমরা পোশাকের ডিজাইনে শুধু বৈশাখকে উপজীব্য করি না। বরং সারা বছরই যাতে পরা যায় সে বিষয়টির প্রতিও লক্ষ রাখি। বাংলাদেশের লোকশিল্প, ফুল, পাতা, রিকশাচিত্রে নকশা করা পোশাক  সারাবছরই পরা যায়।