kalerkantho

বুধবার । ২৯ বৈশাখ ১৪২৮। ১২ মে ২০২১। ২৯ রমজান ১৪৪২

শাড়ি-পাঞ্জাবির বৈশাখ

বাঙালির প্রাণের উত্সব পহেলা বৈশাখ কড়া নাড়ছে দরজায়। আবহাওয়া এখন বেশ গরম। তাই পহেলা বৈশাখে পোশাক কিনতে হবে দেখেশুনে। বৈশাখের শাড়ি-পাঞ্জাবি নিয়ে ফ্যাশন ডিজাইনারদের সঙ্গে কথা বলে জানাচ্ছেন এ এস এম সাদ

৫ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



শাড়ি-পাঞ্জাবির বৈশাখ

মডেল : রিবা ও রাব্বী শাড়ি : রঙ বাংলাদেশ পাঞ্জাবি : ইজি সাজ : ওমেন’স ডল ছবি : আবু সুফিয়ান নিলাভ

নকশা

প্রতিবারের মতো এবারও বৈশাখের শাড়ি-পাঞ্জাবি থিমভিত্তিক। শতরঞ্জি, উজবেক সুজানি, মধুবনি ও মানডালা—এই চারটি থিমের ওপর নির্ভর করে শাড়ি তৈরি করেছে রঙ বাংলাদেশ। রঙ বাংলাদেশের স্বত্বাধিকারী ও ফ্যাশন ডিজাইনার সৌমিক দাস বলেন, ‘চারটি থিম কাছাকাছি ধরনের। ছেলে-মেয়ে থেকে শুরু করে বাসার সবাই বৈশাখী থিমের পোশাক পরতে পারেন। এতে প্রত্যেকের পোশাকেই আসবে বৈচিত্র্য। বাঙালির চিরচেনা গ্রামবাংলার ইতিহাস ও ঐতিহ্য ফুটিয়ে তোলা হয়েছে এসব থিমের মাধ্যমে।’ আবার ছেলেদের পাঞ্জাবিতে নকশার কারুকার্যের বদলে আরামদায়ক কাপড়ে বেশ মনোযোগ দিয়েছে ইজি ব্র্যান্ড। বৈশাখে আবহাওয়া বরাবরই থাকে গরম, তাই ছেলেদের পাঞ্জাবির কাপড়ও নির্ধারিত হয়েছে পাতলা ধাঁচের। ইজির স্বত্বাধিকারী তৌহিদ চৌধুরী বলেন, ‘বৈশাখকে কেন্দ্র করে পোশাকে নতুনত্ব আনা হলেও গরমের কারণে অতিরিক্ত নকশা রাখা হয়নি। বৈশাখে পাঞ্জাবির ওপরই ঝোঁক থাকে বেশির ভাগ ছেলের। বুনন নকশার পাঞ্জাবির কালেকশনে মনোযোগী ছিল ইজির ডিজাইনাররা। নকশার ভারে যেন পোশাকটি পরতে বিরক্ত না লাগে, সেই দিক বিবেচনা করেই এক রঙের পাঞ্জাবিই পেয়েছে প্রাধান্য।’    

   

ম্যাটেরিয়াল

পোশাকটি দেখতে যতই সুন্দর হোক, পোশাকটির মান নির্ভর করবে কাপড়ের ওপর। গরমের কথা চিন্তা করে বৈশাখের পোশাক করা হয়েছে সুতি কাপড়কে কেন্দ্র করে। ফ্যাশন ডিজাইনার সৌমিক দাস বলেন, ‘পাতলা কাপড়ের মধ্যে আরামদায়ক পোশাক পরাই ভালো। এতে অস্বস্তিও লাগে কম। সুতি ছাড়াও রঙ বাংলাদেশে রয়েছে মসলিন ও লিনেন কাপড়ের শাড়ি।’ ইজির ডিজাইনার তৌহিদ চৌধুরী বলেন, ‘ছেলেদের পাঞ্জাবিগুলো সুতি, সিল্ক ও টিস্যু ফ্যাব্রিকে তৈরি করা হয়েছে। প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে আরাম, সঙ্গে ফ্যাশনেও।’

রং কেমন

পহেলা বৈশাখের পোশাক মানেই সাদা-লাল—এই ধারণার অনেকটাই পরিবর্তন এসেছে এখন। তবে রঙ বাংলাদেশের ডিজাইনার সৌমিক দাস বলেন, ‘একেবারে লাল-সাদা বাদ দিয়ে তো বৈশাখের পোশাক করা যায় না। এর আবেদন চিরন্তন। তবে নীল, কমলা, ম্যাজেন্টার মতো গাঢ় রং মূল রঙের সঙ্গে মেশানো হয়েছে। এতে নকশায় থাকছে বৈশাখের আমেজ। এ ছাড়া হালকা রঙের পাঞ্জাবি থেকে গাঢ় রঙের পাঞ্জাবি—দেখা যাবে সবই।

সাদা-লাল ছাড়া কমলা, ম্যাজেন্টা রঙের পাঞ্জাবির চল দেখা যাচ্ছে এখন। প্রায় প্রতিটি ব্র্যান্ড সাদা-লাল ছাড়াও বৈশাখে মেরুন, সবুজ, টিয়া, বাদামি রঙের পাঞ্জাবির কালেকশন বাড়িয়েছে। তৌহিদ চৌধুরী বলেন, ‘অনেকেই বৈশাখে সাদা-লাল ছাড়া অন্য রঙের পাঞ্জাবিও পরতে চান।

বৈশাখের বাজেট

সাশ্রয়ী মূল্যে সব থেকে ভালো পোশাকটি কিনতে ঢুঁ মারতে পারেন ইজি ও রঙ বাংলাদেশে। শাড়ির মূল্য : তাঁতের শাড়ি ১,২০০-২,০০০ টাকা, হাফসিল্ক ২,৫০০-৫,৫০০ টাকা, এন্ডি ৫,০০০-১৫,০০০ টাকা, মসলিন ৮,০০০-২০,০০০ টাকা, ব্লাউজ পিস ২০০-৩৫০ টাকা, তৈরি ব্লাউজ ৬৫০-১,০০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাবে।

পাঞ্জাবির মূল্য : পাঞ্জাবি ৮৫০-৫৫০০ টাকা, ছোট ছেলেদের পাঞ্জাবি ৬০০-১,০০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাবে।