kalerkantho

সোমবার  । ১৯ শ্রাবণ ১৪২৭। ৩ আগস্ট  ২০২০। ১২ জিলহজ ১৪৪১

খরচ কমাবার কথা ভাবুন

কভিড-১৯ সংক্রমণে অনেকটাই স্থবির হয়ে পড়েছে বিশ্ব অর্থনীতি। অবশ্য এখনো অতটা প্রভাব পড়েনি বাংলাদেশে, তবু নিজেকে প্রস্তুত রাখা ভালো। সেন্টার ফর মার্কেটিং সায়েন্সের লিড কনসালট্যান্ট মারুফ রেজা বায়রনের সঙ্গে কথা বলে লিখেছেন নাবীল আল জাহান

১৩ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



খরচ কমাবার কথা ভাবুন

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বিরূপ প্রভাব ফেলেছে জীবনের সব ক্ষেত্রে। সবচেয়ে বেশি সম্ভবত অর্থনীতিতে। অনেক দেশের অর্থনীতি রীতিমতো ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। বিশ্বের তুলনায় অবশ্য বাংলাদেশের অবস্থা এখনো বেশ ভালো। পাশাপাশি সরকারও নানা উদ্যোগ নিয়েছে, যাতে অর্থনীতি বড় ধরনের কোনো সংকটের মধ্যে না পড়ে। সব মিলিয়ে আমরা হয়তো এই যাত্রা উতরে যাব।

সে আশা সবাই করছে, তবু সাবধানের মার নেই। সামনের দিনগুলোতে তেমন দুঃসময় আসবে না, তা জোর দিয়ে বলার উপায় নেই। এমনিতেই কয়েক মাস ধরে অনেকেরই আয় সংকুচিত হয়ে এসেছে। সংক্রমণ এড়াতে প্রায় আড়াই মাস ছিল জাতীয় ছুটি। জরুরি সেবা ছাড়া বন্ধ ছিল সবকিছু। ফলে উপার্জন কমেছে অনেকের। কারো কারো একেবারেই বন্ধ ছিল। এখন ধীরে ধীরে সব অফিস-আদালত খুলে যাচ্ছে। তার পরও সামনের দিনগুলোতে অনেকেরই আয় হবে সীমিত। তাই ভবিষ্যতের কথা ভেবে এ সময় নিজেদের প্রস্তুত করে রাখাটা হবে বুদ্ধিমানের কাজ।

এই মুহূর্তে ভবিষ্যতের জন্য নতুন করে সঞ্চয় করা অনেকের জন্যই অসম্ভব। বিশেষ করে যাদের উপার্জন ব্যাহত হচ্ছে। এখন বরং খরচের পাগলা ঘোড়ায় লাগাম পরানোর চিন্তা করা যেতে পারে। সে জন্য কিছু পরিবর্তন আনতে পারেন আপনার জীবনযাপনে। তা করতে খুব বেশি কষ্টও হবে না। কারণ কিছু অভ্যাস এরই মধ্যে হয়ে গেছে। বাধ্যতামূলক ঘরে থাকতে গিয়ে এরই মধ্যে আপনার অনেক বাহুল্য খরচ বাদ পড়ে গেছে। বাকিগুলোর জন্য শুধু একটু চেষ্টা করলেই হবে।

এই যেমন আপনার যাতায়াতের মাধ্যম পাল্টে ফেলতে পারেন। বেছে নিতে পারেন তুলনামূলক কম খরুচে মাধ্যম। সম্ভব হলে সাইকেল কিনতে পারেন। তাতে স্বল্প দূরত্বে যাতায়াতের ঝক্কি মিটে যাবে। অবশ্য যাতায়াতের ক্ষেত্রে খরচের আগে নিরাপত্তার বিষয়টি চিন্তা করতে হবে। দুটো মিলিয়ে সুবিধাজনক মাধ্যম বেছে নিতে পারেন।

গত কয়েক মাসের বাজারের লিস্টি নিয়ে বসুন। চিহ্নিত করার চেষ্টা করুন কোন পণ্যগুলো না কিনলেও চলত, কোনগুলো আরো কম পরিমাণে কেনা যেত। সামনের মাসগুলোতে সে অনুযায়ী বাজার করার চেষ্টা করতে পারেন। আপাতত কেবল জরুরি পণ্যগুলোই সংগ্রহ করুন। অতিরিক্ত সংগ্রহের দরকার নেই। তাতে বাজারের ওপর যেমন চাপ পড়বে না, আপনার পকেটের ওপরও না।

পরিবর্তন আনতে পারেন সন্তানের পড়াশোনার পদ্ধতিতে। এখন প্রায় সব মা-বাবা এই দায়িত্ব পুরোপুরি সঁপে দেন শিক্ষকদের কাছে। স্কুলের বাইরে আরো নানা জায়গায় পড়ার ব্যবস্থা করেন। একই সঙ্গে বাসায়ও শিক্ষক রাখেন পড়ানোর জন্য। স্কুলের বাইরের এই পড়ানোর খরচ যথাসম্ভব কমানোর চিন্তা করতে পারেন। এমনকি দায়িত্বটা নিজেরাও নিতে পারেন। দুজনে পালা করে সন্তানের পড়াশোনার দেখভাল করতে পারেন। নিজেদের দক্ষতা অনুযায়ী ভাগাভাগি করে নেওয়া যেতে পারে দায়িত্ব।

বদলাতে পারেন বাড়িতে কাজ করার অভ্যাস। যত বেশি সম্ভব নিজে করার চেষ্টা করুন। আগে সময় না পাওয়ার জন্য যে কাজগুলো পরিচারিকাকে দিয়ে করাতেন, অন্তত সেগুলো নিজে করুন। কারণ এখন আর সময়স্বল্পতা নেই। পরিচারিকার ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ফেলতে পারলে খরচও অনেকখানি কমে আসবে।

এভাবে খরচ কমানো সম্ভব। তবে সঞ্চয় করা নয়। সে জন্য মূল পেশার বাইরেও কিছু করার চেষ্টা করতে পারেন অবসর সময় কাজে লাগিয়ে। এখন যেহেতু হাতে সময় আছে, কিছু হাতের কাজ করতে পারেন। নিজের দক্ষতা অনুযায়ী বেছে নিন কী করবেন। সেগুলোর মাধ্যমে যে অতিরিক্ত উপার্জন হবে, খুব প্রয়োজন না হলে সেটা আপাতত খরচ করার দরকার নেই। রেখে দিন সামনের দিনগুলোর জন্য। যদি দুঃসময় চলেই আসে, তখন এই সঞ্চয় আপনার কাজে লাগবে।

তবে সবচেয়ে ভালো হবে যদি তেমন দুঃসময় না আসে। আপাতত সেটাই সবার প্রত্যাশা।

 

মন্তব্য