kalerkantho

সোমবার । ২২ আষাঢ় ১৪২৭। ৬ জুলাই ২০২০। ১৪ জিলকদ  ১৪৪১

শখে শাণ দিন

সময় কাটাতে কিংবা মানসিক অবসাদ কাটাতে শখের দুনিয়ায় ডুব দিন। পরামর্শ দিয়েছেন জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক ডা. মুনতাসীর মারুফ। লিখেছেন আতিফ আতাউর

৬ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



শখে শাণ দিন

নেটফ্লিক্স, ইউটিউব, ফেসবুক, টুইটার করছেন। অনলাইনে পত্রিকায় ঢু মারছেন। বই পড়ছেন। তবু সময় কাটছে না। বিরক্ত হয়ে উঠছেন একঘেয়ে জীবনে। ভেবেছিলেন সরকারি ছুটি শেষে সঙ্গে সঙ্গে আবার ফিরে পাবেন পুরনো গত্বাঁধা জীবন। আবার নিজেকে সঁপে দেবেন ব্যস্ততার মহাসমুদ্রে। লকডাউনের দিনে নিশ্চয়ই আমাদের বুঝতে বাকি নেই—কর্মই জীবন। কিন্তু এরই মধ্যে ছুটির পরিধি আরো বাড়িয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। সুতরাং সময় কাটাতে শখের দুনিয়ায় ডুব দিন। শখ এমন একটা জিনিস, যেটাতে মানুষ কখনো ক্লান্ত হয় না। ছোটবেলায় মানুষের কত রকম বিচিত্র শখ থাকে তা তো জানেন। কেউ ডাকটিকিট জমান। কেউ জন্মদিনে পাওয়া পুতুল দিয়ে আলমারি ভরিয়ে তোলেন। কারো আবার নিত্যদিন ডায়েরি না লিখলে শখের পাল্লা ভারী হয় না। অনেকের প্রিয় শখ মজার মজার রান্না। শুধু রান্না করলেই চলবে না, সেটা আবার প্রিয়জনদের দিয়ে পরখ করাতেও ভুল করেন না।

অভিনেত্রী বিদ্যা বালানের কথাই ধরুন না। যখন চাপে থাকেন অথবা মেজাজ ফুরফুরে থাকে তখন কাগজ-কলম নিয়ে বসে যান। লিখে ফেলেন দু-চার লাইন কবিতা। এরপর পড়ে শোনান বন্ধুদের। আর বলিউড স্টার সালমান খানের শখ ছবি আঁকা। অবসর পেলেই বসে যান রংতুলি নিয়ে। তাঁর আঁকা ছবি বিক্রিও হয় বেশ ভালো দামে। তবে বিক্রির পুরোটাই তিনি ব্যয় করেন তাঁর দাতব্য প্রতিষ্ঠানে। আমাদের প্রিয় শিল্পী আইয়ূব বাচ্চুর শখ ছিল গিটার জমানো। মানুষ শখের পেছনে কেন সময় কাটায় এর অনেক কারণ আছে। শখ মানুষের চিত্তবিনোদনের অন্যতম উপায়।

মানুষ তার মূল কাজের বাইরে যে কাজটা করে বাড়তি আনন্দ লাভ করে সেটাকেই মূলত শখ হিসেবে নেয়। যেমন—বিভিন্ন দেশের মুদ্রা অথবা ডাকটিকিট সংগ্রহ, প্রাণী পোষা, বাগান করা, মাছ ধরা, বিভিন্ন জিনিস তৈরি করা, লেখা, ছবি আঁকা, ভ্রমণ, বইপড়া, ছবি তোলা, গান শোনা ইত্যাদি। এর বাইরেও আছে মানুষের বিচিত্র শখের দুনিয়া। পুরনো বাতি, দিয়াশলাই, চিপসের প্যাকেট, অটোগ্রাফ সংগ্রহ। শখের লালন যেমন আমাদের আনন্দ দেয়, তেমনি অন্য কাজেও শক্তি জোগান দেয়। অন্য সব কাজে সহজেই আমাদের ক্লান্তি পেয়ে বসলেও শখের কাজের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম। বরং এটা যত করা যায় তত করতে মন চায়। এর পেছনে রয়েছে আমাদের মস্তিষ্ক। মানুষ যে কাজে বেশি আনন্দ পায় সেই কাজের সময় মস্তিষ্ক থেকে বিশেষ এক ধরনের হরমোন নিঃসৃত হয়। এটা আমাদের কাজে বাড়তি প্রেরণা জোগায়। এর প্রভাবে কাজ করে আমরা তৃপ্তি পাই। আরো ভালো করে কাজ করার প্রেরণা পাই। কাজে ক্লান্তি আসে না। করোনার এই সময়ে তাই অবসাদ কাটাতে শখের দুনিয়ায় ডুব দিন। প্রতিদিন নির্দিষ্ট একটি সময়ে আপনি যে শখে অভ্যস্ত তাতে শাণ দিন। হতে পারে বইপড়া, গান শোনা, বাগান করা, ডায়েরি লেখা, কিংবা চলচ্চিত্র দেখা। কিংবা ছোটবেলায় শখ করে জমিয়ে রাখা জিনিসগুলোরই যত্ন নিন। ঘোরাঘুরির শখে এখন লাগাম দিন। বরং কোথায় ঘুরে বেড়িয়েছেন সেসব লিখুন। শেয়ার করুন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। দেখবেন সময়টা কাটবে ভালো। 

মন্তব্য