kalerkantho

সোমবার । ২২ আষাঢ় ১৪২৭। ৬ জুলাই ২০২০। ১৪ জিলকদ  ১৪৪১

ঘরেই কাটুক বৈশাখ

করোনার কারণে এবার পহেলা বৈশাখের সব অনুষ্ঠানই বন্ধ রাখতে বলেছে সরকার। ঘরেই যাপন করতে পারেন বৈশাখ। ডিজাইনার ও রূপবিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলে লিখেছেন আতিফ আতাউর

৬ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ঘরেই কাটুক বৈশাখ

প্রস্তুত ছিল সব। অপেক্ষায় ছিল রমনার বটমূল। মঙ্গল শোভাযাত্রার পেছনে শ্রম আর ঘাম দিচ্ছিলেন চারুকলার শিক্ষার্থীরা। বিভিন্ন ফ্যাশন ব্র্যান্ডের শোরুমগুলোর ম্যানিকুইনরাও সেজেছিল বৈশাখী পোশাকে। তরুণ-তরুণীরা কী পরবে তারও আয়োজন ছিল তাদের মনে। কিন্তু কভিড-১৯-এর হানায় থমকে গেছে সব। সরকারি নির্দেশনা মেনে ঘরবন্দি মানুষ। বাইরে বেরনো মানা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কথাতেও সেই সুর। ৩১ মার্চ বিদ্যমান পরিস্থিতিতে এ বছর নববর্ষের সব অনুষ্ঠান বন্ধ রাখার ঘোষণা দেন। অবশ্য নববর্ষ পালনের ছোট্ট একটি উপায়ও বাতলে দিয়েছেন তিনি। বলেন, ‘ঐতিহ্যবাহী রীতিতে নববর্ষ উদ্‌যাপন বন্ধ থাকলেও ডিজিটাল পদ্ধতিতে গানবাজনা-উৎসব সবাই করতে পারেন।’ তবে তাই হোক ঘরেই বসুক বৈশাখী আসর। বৈশাখী সাজ আর ইলিশ-পান্তার সঙ্গে বাহারি ভর্তাযোগে যাপন হোক পহেলা বৈশাখ। অঞ্জন’স এর সত্ত্বাধিকারী শাহিন আহমেদ বলেন, ‘বৈশাখের আনন্দ মূলত ঘুরে বেরানোতেই। করোনার কারণে সবাই ঘরবন্ধি। তবুও পহেলা বৈশাখের দিনটা এই আতঙ্কের সময়েও একটু খুশির আমেজে বাসাতেই যাপন করা যেতে পারে। নতুন পোশাক এবার কিনতে না পারলেও আগের বছরের পোশাকটি পরে ফেলুন। সকালে পান্তা ভাত ও ভর্তা তৈরিতে পরিবারের সবাই একে অন্যকে সাহায্য করুন। গল্প করুন। টেলিভিশনে বৈশাখী অনুষ্ঠান দেখতে বসে যান। গত বৈশাখের গল্প করেও সময় কাটাতে পারেন।’ ফ্যাশন হাউজ নিত্য উপহারের সত্ত্বাধিকারী বাহার রহমান বলেন, ‘এখন ভিন্ন সময়। বিদ্যমান পরিস্থিতি মেনে নিয়েই দিনটা পালন করা উচিত। ইলিশ-পান্তার মতো আভিজাত্যের দিকে না গিয়ে বরং সবাইকে সহযোগিতার মধ্যেই বৈশাখের আনন্দ খুঁজে নিন। এদিন আমরা একে অন্যের বাসায় ঘুরতে যেতাম। এবার সেটা সম্ভব নয়। এজন্য মোবাইলে সবার খোঁজ-খবর নিন। ফোনে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানান। ভিডিও কল দিয়ে সবার সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করতে পারেন। গ্রুপ ভিডিও কলে একসঙ্গে অনেককে যুক্ত করা যায়। সবাই মিলে আড্ডা দিন। দেখবেন ঘরেও নববর্ষ মন্দ কাটছে না। ছেলে-মেয়েদেরও তাদের বন্ধুদের সঙ্গে ফোনে বা ফেসবুকে ভিডিও কলে সংযুক্ত করে দিতে পারেন।’ ফ্যাশন হাউজ রঙ বাংলাদেশের সত্ত্বাধিকারী সৌমিক দাস বলেন, ‘আগামী বছরের বৈশাখ যাতে সবার সঙ্গে মিলেমিশে যাপন করতে পারি এজন্য এখন ঘরে থাকা জরুরী। এজন্য ঘরেই ছোট্ট পরিসরে বৈশাখী আয়োজন করতে পারেন। রান্নার কাজটা সবাই মিলে করলে সকালের সময়টা সুন্দর কাটবে। রান্না হয়ে গেলে পরিবারের ছোটদের গোসল করিয়ে বৈশাখী পোশাক পরিয়ে দিন। কেনাকাটা করতে পারেননি তাতে কী। গত বছরের পোশাকেই সাজুক ছোটরা। একসঙ্গে খেতে বসুন। বিকেলে ছাদে গল্পের আসর বসাতে পারেন। সেখানে পরিবারের সবাইকে নিয়ে গান-গল্প-আড্ডায় মেতে উঠতে পারেন।’ রূপবিশেষজ্ঞ আফরোজা পারভীন বলেন, ‘এবার পহেলা বৈশাখে পার্লারে আসার দরকার নেই। বরং ঘরেই একে অন্যকে সাজিয়ে দিন। ছোটদের আনন্দ বেশি। তাদেরকে বৈশাখী সাজে সাজিয়ে দিন। নিজেরাও ভালো কাপড় পরে নিন। শুধু সাজলেই হবে না। ঘোরাঘুরির সুযোগ নেই তাতে কী। নিজেদের ছবি তুলে ফেসবুকে শেয়ার করুন। সবার সঙ্গে ভিডিও কলে আড্ডা দিন।’

এদিন ডাইনিং টেবিলটাও সাজিয়ে নিন বৈশাখী ঢঙে। মাটির থালাবাসন থাকলে সবচেয়ে ভালো। সবাই মিলে বৈশাখী ঢংয়ে পুরো বাসা সাজিয়ে ফেলুন। এমন আয়োজন কয়েক দিনের একঘেয়ে জীবনে ভিন্নতা আনবে। 

ছবি: আবু সুফিয়ান নিলাভ, মালিয়াত বিনতে, রিবজানা আহমেদ

মন্তব্য