kalerkantho

সোমবার । ২২ আষাঢ় ১৪২৭। ৬ জুলাই ২০২০। ১৪ জিলকদ  ১৪৪১

করোনাকালে গর্ভবতীর যত্ন

করোনার এই সময়ে গর্ভবতী মায়েদের থাকতে হবে আরো বেশি সতর্ক। বিস্তারিত জানিয়েছেন বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালের কনসালট্যান্ট অবস্টেট্রিশিয়ান ও গাইনোকোলজিস্ট ডা. মাসুমা জলিল। লিখেছেন নাবীল আল জাহান

৬ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



করোনাকালে গর্ভবতীর যত্ন

যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম তাদের ক্ষেত্রে কভিড-১৯ বেশি প্রাণঘাতী হয়ে দেখা দিচ্ছে। তাই প্রবীণ ও শিশুদের পাশাপাশি বেশি সতর্ক থাকতে হবে গর্ভবতী মায়েদেরও। কারণ এ সময়ে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়।

এরই মধ্যে বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের সামাজিক বিস্তার বা কমিউনিটি স্প্রেডিং শুরু হয়ে গেছে। তাই গর্ভবতী মায়েদের আরো বেশি সাবধানে থাকতে হবে। বাড়ি থেকে একদমই বের হওয়া যাবে না। বাইরের কোনো মানুষের সংস্পর্শে আসা যাবে না। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে সবার থেকেই। বারবার সাবান দিয়ে হাত ধুতে হবে। নাকে-মুখে-চোখে হাত দেওয়া যাবে না। বাড়ির অন্যরাও বাইরে থেকে এসে আগে গোসল করবে। এরপর মা যে ঘরে আছে সে ঘরে ঢুকবে। অন্য সময়েও তাঁর কাছে যাওয়ার আগে হাত ধুয়ে নেওয়া ভালো।

এ ছাড়া গর্ভাবস্থার সাধারণ যে সাবধানতা সেগুলো সবই মেনে চলতে হবে; সঙ্গে কভিড-১৯ থেকে বাঁচতে সাধারণ নির্দেশনাগুলোও। বেশি করে পানীয় পান করতে হবে। বাসায় বিশ্রামে থাকবেন। সুষম খাবার খেতে হবে। পাশাপাশি বেশি করে ফলমূল খেতে হবে। বিশেষ করে ভিটামিন ‘সি’যুক্ত ফলমূল।

বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া ডাক্তারের কাছে যাওয়া যাবে না। নিয়মিত ডাক্তারি পরামর্শ ও চিকিৎসাসেবা ফোনে নিতে হবে। এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকেই। শুধু জরুরি প্রয়োজনেই ডাক্তারের কাছে যাওয়া যেতে পারে। সে ক্ষেত্রেও যত দ্রুত সম্ভব ডাক্তার দেখিয়ে ফিরে আসতে হবে। মাথায় রাখতে হবে, এখনো পর্যন্ত করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন বা অন্য কোনো প্রতিষেধক আবিষ্কৃত হয়নি। এটা প্রতিরোধের একমাত্র উপায় সংক্রমণ ঠেকানো। আর বাড়ির বাইরে বের হলেই অন্য মানুষের সংস্পর্শে আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়। তা থেকে সংক্রমণের আশঙ্কা। সেটা যত কম করা যায় ততই ভালো।

বর্তমান পরিস্থিতিতে সংক্রমণ এড়াতে অনেক ডাক্তারই রোগী দেখা কমিয়ে দিয়েছেন। নইলে ডাক্তারের চেয়ে বেশি সংক্রমণের আশঙ্কা থাকে দেখাতে আসা রোগী ও স্বজনদের। ফলে এমনও হতে পারে, জরুরি প্রয়োজনে হাসপাতালে গিয়ে দেখলেন আপনি যে ডাক্তারকে নিয়মিত দেখাচ্ছেন তিনি নেই। কাজেই নিজ দায়িত্বে তার নম্বর সংগ্রহ করে রাখুন। যাতে নিয়মিত পরামর্শের পাশাপাশি জরুরি প্রয়োজনে সরাসরি তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন।

সন্তান জন্ম দেওয়ার সময় সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে হবে স্বাভাবিক প্রসব বা নরমাল ডেলিভারির জন্য। নিতান্ত বাধ্য না হলে সিজার ডেলিভারি এড়িয়ে যেতে হবে। কারণ সিজারের সময় অ্যানেসথেসিয়া দিতে হয়। সে সময় সৃষ্টি হতে পারে জটিলতা। কারণ এই ভাইরাসের সংক্রমণ হয় নাক-মুখ দিয়েই।

তবে মা করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হলে গর্ভের সন্তানও সংক্রমিত হয় কি না তা এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। এ পর্যন্ত এমন একটি ঘটনার কথাই জানা গেছে। ইংল্যান্ডে এক মা ও নবজাতক—দুজনের শরীরেই পাওয়া গেছে করোনাভাইরাসের উপস্থিতি। কিন্তু নিশ্চিত হওয়া যায়নি শিশুটি গর্ভে থাকতেই সংক্রমিত হয়েছে, নাকি প্রসবের সময়।

তবে সন্তানের ব্যাপারে কোনো ধরনের ঝুঁকি না নেওয়াই ভালো। পাশাপাশি এই সময়ে মায়ের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও থাকে কম। কাজেই গর্ভবতী মায়েদের বিশেষ সতর্ক থাকার কোনো বিকল্প নেই।

মন্তব্য