kalerkantho

শুক্রবার । ৮ ফাল্গুন ১৪২৬ । ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২৬ জমাদিউস সানি ১৪৪১

ইন্টেরিয়র

কাঠের আসবাবে পোকা

পোকা-মাকড়ের উপদ্রব থেকে কাঠের আসবাব সুরক্ষা দিতে মানতে হবে কিছু নিয়ম। জানিয়েছেন আর্কিডেন ইন্টেরিয়রের আর্কিটেক্ট সোহেলী সায়মা সেঁজুতি। লিখেছেন আতিফ আতাউর

৮ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



কাঠের আসবাবে পোকা

গত বছর ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলা থেকে শখ করে কাঠের সোফা ও আলমারি কিনেছিলেন মিরপুরের গৃহিণী পারভীন আক্তার। মেলায় বাড়তি ছাড়ে কম দামে দুটি আসবাব কিনেছিলেন। বেশ ভালোই ছিল আসবাব দুটি। কিন্তু বছর না ঘুরতেই সোফা ও আলমারিতে ঘুণ পোকার আক্রমণ। সোফায় বসলে ঘুণে খাওয়া কাঠের গুঁড়ায় কাপড় নষ্ট হয়ে যায়। একই সমস্যায় আলমারিতে রাখা জিনিসগুলো। ঘুণ পোকার আক্রমণ ঠেকাতে ফুটপাতের হকারের কাছ থেকে কীটনাশক কিনে আসবাবে দিয়েছিলেন। তাতেও শেষ রক্ষা হয়নি। এখন সেগুলো ফেলে দেওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় নেই।

কাঠের আসবাব পছন্দ অনেকেরই। কিন্তু সঠিকভাবে সংরক্ষণ ও যত্নের অভাবে খুব কম সময়ের মধ্যেই সেগুলো ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে যায়। কাঠের আসবাব দীর্ঘদিন টেকসই রাখার কিছু উপায় আছে। সেগুলো মেনে চললে দীর্ঘদিন ব্যবহার উপযোগী থাকবে আসবাব। কাঠের আসবাবে ঘুণপোকার উপস্থিতি টের পাওয়ামাত্র ত্বরিত ব্যবস্থা নিতে হবে। একটু সচেতন থাকলেই পোকার আক্রমণ টের পাওয়া কঠিন কিছু নয়। কাঠের আসবাবে যদি ছোট ছোট গর্ত দেখতে পান, তবে বুঝতে হবে পোকার আক্রমণ শুরু হয়েছে। প্রথম দিকে ঘুণপোকা আসবাবের ওপরের দিকেই থাকে। সে ক্ষেত্রে কীটনাশক প্রয়োগ করলে ভালো ফল পাওয়া যায়। বাজারে ঘুণপোকা থেকে আসবাবের সুরক্ষায় অনেক ধরনের তরল কীটনাশক পাওয়া যায়। যেমন ক্লোরপাইরিফস। প্রতি লিটার পানিতে ৩-৪ মিলিলিটার কীটনাশক মিশিয়ে নিতে হবে। বেশির ভাগ ওষুধেই ব্যবহারের নির্দেশনা লেখা থাকে। এটা ভালোভাবে পড়ে নির্দিষ্ট পরিমাণ পানির সঙ্গে মিশিয়ে নিতে হবে। এর পর একটি খালি স্প্রে বোতলে তরলটুকু ঢেলে নিন। পাম্প স্প্রে বোতল হলে ভালো হয়। স্প্রে করার আগে বোতলের মুখ ভালো করে আটকে নিন। আসবাবে এসব তরল ছিটানোর আগে মুখে মাস্ক, হাতে গ্লাভস ও চোখে চশমা পরে নিতে হবে। এতে ত্বক ও চোখের ক্ষতি থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে। স্প্রে করা শেষ হলে ছিদ্রগুলো মোম দিয়ে বন্ধ করে দিন। এতে পোকা মরে যাবে এবং পোকার প্রাদুর্ভাব বন্ধ হবে। স্প্রে করার পর কাঠের আসবাব ব্যবহারের আগে ভালোভাবে শুকিয়ে নিন। সবচেয়ে ভালো হয় কিটনাশক স্প্রে করে একদিন আসবাবটি শুকিয়ে নিলে। এতে কীটনাশক ভালোভাবে কাজ করে।

বাজারে ফেসটক্সিন নামক এক প্রকার বিষ পাওয়া যায়। ঘুণপোকা আক্রান্ত আসবাবে এই বিষের ধোয়া প্রয়োগ করলেও ভালো ফল পাবেন। চাইলে ঘুণ তাড়াতে ঘরোয়া টোটকাও ব্যবহার করতে পারেন। ঘুণপোকা গরম সহ্য করতে পারে না। বাড়িতে উনুন বা চুল্লির পাশে ঘুণপোকায় আক্রান্ত আসবাব কিছুক্ষণের জন্য রেখে দিতে পারেন। বাড়িতে রুম হিটার থাকলে সেটিও কাজে লাগাতে পারেন। আলমারি বা কেবিনেটের ভেতর রুম হিটার চালিয়ে পাল্লা বন্ধ করে দিন। ঘুণপোকা মারা যাবে। গরমের পাশাপাশি খুব বেশি ঠাণ্ডাও সহ্য করতে পারে না ঘুণপোকা। কাঠের ছোট্ট আসবাব বা শো-পিছে ঘুণপোকা ধরলে সেগুলো ফ্রিজের মধ্যে রেখে দিন। সব পোকা মরে যাবে। ফার্নিচারে যাতে পোকা-মাকড়ের উপদ্রব না হয় সে জন্য ছয় মাস পর পর নিমতেল স্প্রে করুন। পোকা-মাকড়ের আক্রমণ কমাতে নারকেল তেলের সঙ্গে কর্পূর মিশিয়ে আসবাবের কোনায় দিয়ে দিন। পোকা মারার স্প্রেও ব্যবহার করতে পারেন। আসবাব বা কাঠ ও বাঁশের তৈরি কোনো জিনিসে ঘুণ ধরলে তা সরিয়ে রাখুন। যাতে অন্য আসবাবে পোকা আক্রমণ করতে না পারে।

ঘুণপোকায় আক্রান্ত আসবাবের কোনো অংশ একেবারে নষ্ট হয়ে গেলে পুরো আসবাবটি ফেলে দেবেন না। ক্ষতিগ্রস্ত অংশটি কেটে ফেলে দিয়ে সেখানে নতুন কাঠ লাগিয়ে নিন। এতে জিনিসটি ব্যবহার করতে পারবেন আরো অনেক দিন। কিংবা ভালো অংশের কাঠ দিয়ে অন্য কোনো ফার্নিচার বানিয়ে নিতে পারেন। যেমন আলামারি বা ওয়ার্ডরোবের ভালো কাঠ দিয়ে রান্নাঘরের কেবিনেট, জুতার র্যাক বানানো যেতে পারে। পোকার প্রকোপ যদি খুব বেশি হয়, তাহলে পোকা মারা বা পেস্টিংয়ের প্রফেশনাল কোনো প্রতিষ্ঠানের সাহায্য নিতে পারেন। আজকাল ঘরে এসে পোকা-মাকড় দমনের কাজ করে দেওয়ার জন্য বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে।

মন্তব্য