kalerkantho

বুধবার । ১৭ জুলাই ২০১৯। ২ শ্রাবণ ১৪২৬। ১৩ জিলকদ ১৪৪০

পায়ে পায়ে গয়না

বহুকাল থেকেই পায়ের সাজে নূপুর ও খাড়ু পরছেন নারীরা। হাল ফ্যাশনে যোগ হয়েছে পায়েল ও পায়ের আংটি। পায়ের গয়নার খোঁজ নিয়েছেন আতিফ আতাউর

৮ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



পায়ে পায়ে গয়না

মডেল: রুহি, গয়না: কনক দ্য জুয়েলারি প্যালেস, সাজ: পারসোনা, ছবি: কাকলী প্রধান

নূপুর

দুই পায়ে নূপুর পরার চল এখন অনেক কম। একসময় দুই পায়ে একই ডিজাইনের নূপুর জোড়া বেঁধে পরতে দেখা যেত। এখন তাতে খানিকটা ভিন্নতা যোগ হয়েছে। কেউ কেউ দুই পায়ে দুই রকম ডিজাইনের নূপুর বেছে নিচ্ছেন। এ বিষয়ে লায়লা খায়ের কনকের বক্তব্য, ‘ফ্যাশন সম্পর্কে একটা কথা খুবই সত্যি। কেউ যদি মনে করেন কোনো বিশেষ একটি গয়না বা পোশাক তিনি স্বাচ্ছন্দে পরতে পারবেন, তাহলে সেটাই তাঁর নিজস্ব স্টাইল। ফ্যাশনে যেকোনো অনুষঙ্গ ক্যারি করতে পারাটাও একটি আর্ট। পায়ের গয়না থেকে শুরু করে যেকোনো পোশাকের ক্ষেত্রেই এটি গুরুত্বপূর্ণ।’

স্টাইলিশ পুঁতির, স্টোনের ও কাপড়ের নূপুরের পাশাপাশি নকশাদার মেটাল নূপুর বেছে নিচ্ছেন তরুনীরা। আবার কারো পছন্দ দুই থেকে তিনটি চিকন, সূক্ষ্ম কাজের নূপুর পায়ে পেঁচিয়ে পরা। খুব জমকালো নূপুরের চল এখন তেমন নেই বলে জানালেন দোকানিরা। বদলে রুপা, কাঠ, চামড়াসহ বিভিন্ন ধাতব উপাদানের হালকা স্টাইলের নূপুর বেশি চলছে। এসব গয়নার সঙ্গে থাকছে পুঁতি, পাথর আর ইমিটেশনের নানা ইলাস্ট্রেশন। স্বর্ণের নূপুরেও হালকা ডিজাইন বেশি চলছে। একেবারে ট্র্যাডিশনাল নকশার নূপুর পরতে পারেন শাড়ি, কামিজ, গাউন, লং স্কার্টের সঙ্গে। যাঁদের স্কিন টোন কিছুটা উজ্জ্বল, তাঁদের পায়ে রুপার গয়না মানায় ভালো। তাঁরা রুপার নূপুর বেছে নিতে পারেন।

পায়েল ও অ্যাংকলেট

এক পায়ে পায়েল পরা এখন জনপ্রিয় ফ্যাশন ট্রেন্ড। কিশোরী থেকে শুরু করে কর্মজীবী নারীরাও স্বচ্ছন্দ্যে এক পায়ে পায়েল পরছেন। সোনা, রূপা ছাড়াও অ্যালুমিনিয়াম, কাচ, সুতা, কড়ি, কাঠ, প্লাস্টিক, পুঁতিসহ নানা ধরনের স্টোন দিয়েও তৈরি হচ্ছে বৈচিত্র্যময় পায়েল। পায়েলের নকশায় রয়েছে নানা বৈচিত্র্য। কোনোটা সুতার মতো চিকন তো কোনোটা দড়ির মতো মোটা। তাতে ঝকমকে পাথর, পুতুল, ফুল, তারা ইত্যাদি বসিয়ে ডিজাইনে আনা হয়েছে ভিন্নতা। ভারী নকশার পাথর বসানো পায়েলেও এখন অনেক স্বচ্ছন্দ তরুণীরা। মেটাল পায়েলের পাশাপাশি সুতার সঙ্গে পুতি, বিডস, কড়ি দিয়ে ডিজাইন করা পায়েল পাওয়া যাচ্ছে গয়নার দোকানে। পশ্চিমা কাটের পোশাকের সঙ্গে দেশিয় নকশার এসব পায়েল ফিউশন লুক যোগ করে। পায়েলের আধুনিক ভার্সন অ্যাংকলেটও এখন বেশ ফ্যাশনেবল। ক্রপড প্যান্ট, গোড়ালির একটু ওপরে শেষ হয়ে যাওয়া ইন্দো-ওয়েস্টার্ন পোশাক, বিচওয়্যারের সঙ্গে খুব সহজেই মানিয়ে যায় অ্যাংকলেট। চাইলে একাধিক অ্যাংকলেট এক সঙ্গেও পরতে পারেন।

 

 পায়ের আংটি বা গয়না পরার সময় একটি বিষয় মনে রাখতে হবে। সেটা হচ্ছে সব ক্ষেত্রেই সালোয়ার বা প্যান্ট খানিকটা খাটো হওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে চুড়িদার পায়জামা ও চাপা প্যান্টের সঙ্গে পায়ের গয়না ভালো মানায়। জুতার নির্বাচনেও সচেতন হতে হবে। চটি, স্যান্ডেল বা ফ্লিপ ফ্লপ ধরনের জুতা বেছে নিন। উপলক্ষ্য বুঝে হিলও পরা যেতে পারে। আরেকটি বিষয়—পায়েল, খাড়ু অথবা চোখ ধাঁধানো নূপুর যেটাই পরুন না কেন সবার নজর কিন্তু পায়ের দিকেই যাবে। তাই পায়ের গয়না পরার অবশ্যই একবার পেডিকিউর করে নিতে হবে। 

চেইন

পায়েল তো পরছেনই। কিন্তু এক পায়েলে কী সব সময় চলে! তাই ভিন্নতা আনতে পায়ে চেইন পরছেন তরুণীরা। ছিমছাম ডিজাইনের এসব চেইন দেখতেও দারুণ। অনেকে আবার গলার চেইনকেই পেচিয়ে পায়ে পরে নিচ্ছেন। সঙ্গে ছোট্ট লকেট থাকলেও মন্দ লাগছে না। চেইন পরার চল এক পায়েই বেশি দেখা যায়। চাইলে দুই পায়েও পরা যেতে পারে। দেশি বা ওয়েস্টার্ন সব ধরনের পোশাকের সঙ্গেই চেইন মানিয়ে যায়। কালো, সোনালি, রুপালিসহ বিভিন্ন ধরনের চেইনের ডিজাইনে শুধু পাথর ব্যবহার করা হচ্ছে।

খাড়ু

পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর গয়না খাড়ু। পায়ের সাজে খাড়ুর প্রচলন অনেক আগে থেকেই। মাঝে এই চল কিছুটা কমলেও এখন আবার বেশ ভালোভাবেই ফিরে এসেছে। দেশীয় ফ্যাশন হাউসগুলোর পাশাপাশি গয়নার কারিগররাও নানা আকৃতির ও ডিজাইনের খাড়ু তৈরি করছেন। চিকন, মাঝারি, মোটা—সব ধরনের খাড়ুই পাওয়া যাবে বাজারে। তবে আগেকার দিনের খাড়ুর চেয়ে এখনকার খাড়ুর ডিজাইনে বেশি কারুকাজ যোগ হয়েছে। আর খাড়ুর আকার খানিকটা সরু হয়েছে। যাদের বেশি কারুকাজ করা খাড়ু পছন্দ নয়, তাদের জন্যও রয়েছে ছিমছাম নকশার খাড়ু। তামা, রুপা, ব্রোঞ্জসহ বিভিন্ন মেটালের খাড়ু পাওয়া যাচ্ছে।

আংটি

ছিমছাম নকশার রুপা বা মেটালের আংটি পায়ের আঙুলে বেশি মানায়। উত্সব বা বিশেষ উপলক্ষে পরার জন্য মিনা করা, পাথর বা মুক্তা বসানো আংটি পাওয়া যায় দোকানে। পায়ের আঙুলের সাজে হালকা নকশার রুপার আংটির প্রতি বেশি ঝুঁকছেন তরুণীরা।

 

কোথায় পাবেন

আড়ং, বিশ্ব রঙ, রঙ বাংলাদেশ, অঞ্জন’স, পিরান, যাত্রা, দেশাল, বিবিয়ানা, কনক দ্য জুয়েলারি প্যালেসসহ উল্লেখযোগ্য বেশ কয়েকটি গয়নার দোকান ও ফ্যাশন হাউসে পায়ের গয়না কিনতে পাবেন। এ ছাড়া গাউসিয়া ও চাঁদনী চক মার্কেটেও পাওয়া যাবে হরেক রকমের পায়ের গয়না।

 

কেমন দাম

উপকরণ ও নকশাভেদে পায়ের গয়নার দামের পার্থক্য হয়। রূপার গয়নার দাম ঠিক করা হয় ওজন হিসেবে। এছাড়া বিভিন্ন মেটালের তৈরি নূপুর প্রতি জোড়া ৫০০ থেকে দুই হাজার টাকায় পাওয়া যাবে। পায়েল বিক্রি হয় পিস হিসেবে। মেটালের পায়েল বা অ্যাংকলেট পাবেন প্রতি পিস ৩০০ থেকে এক হাজার টাকায়। খাড়ুর দাম ৪৫০ থেকে ৯০০ টাকা। আর বিভিন্ন ডিজাইনের আংটি পাবেন নকশাভেদে ১৫০ টাকা থেকে ৪০০ টাকার মধ্যে। মেটাল ছাড়া পুতি বা সুতার তৈরি পায়ের গয়নার দাম পরবে প্রতি পিস ১০০ থেকে ৩০০ টাকা।

 

মন্তব্য