kalerkantho

সোমবার । ২২ জুলাই ২০১৯। ৭ শ্রাবণ ১৪২৬। ১৮ জিলকদ ১৪৪০

রূপচর্চা

রিবন্ডিংয়ের ভুলে...

চুল সোজা রাখার উপায় রিবন্ডিং। রুক্ষ, উষ্কখুষ্ক, কোঁকড়া চুল সোজা করার এই পদ্ধতিটি বেশ ঝক্কির। একটু হেরফের হলেই চুলের ক্ষতি হতে পারে। রিবন্ডিংয়ে ভুল হলে করণীয় কী? জানিয়েছেন রেড বিউটি পার্লার অ্যান্ড স্যালনের রূপবিশেষজ্ঞ আফরোজা পারভীন। লিখেছেন মোনালিসা মেহরিন

১৭ জুন, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রিবন্ডিংয়ের ভুলে...

চুলের অণুগুলোর একটার সঙ্গে অন্যটার লেগে থাকার আসক্তি বা প্রবণতা হচ্ছে বন্ড। এই বন্ডগুলোর জন্যই একেকজনের চুল একেক রকম রূপ ধারণ করে। একটু পরপর শক্ত হয়ে চুলের কিউটিকলগুলোকে আঁকড়ে ধরে এই বন্ড। ঝামেলাটা বাধে তখন, যখন কোনো একটি জায়গায় বেশ কিছু কিউটিকল একসঙ্গে আঁকড়ে ধরে। চুল তখন আর সোজা থাকে না। বেঁকে যায়, কুণ্ডলি পাকিয়ে কার্ল সৃষ্টি করে। এই বন্ডগুলোকে ভেঙে দিয়ে বা নিষ্ক্রিয় করা ছাড়া চুল আর সোজা করা যায় না। বন্ড ভেঙে দেওয়ার প্রক্রিয়াটাই হচ্ছে রিবন্ডিং।

চুলে তাপ দিয়ে বা পানি দিয়ে সাময়িকভাবে সোজা ভাব আনা যায়। কিন্তু স্থায়ীভাবে চুল সোজা করার প্রক্রিয়াটি বেশ জটিল। প্রথমে বন্ডগুলো ভেঙে সারিবদ্ধভাবে চুলগুলোকে সাজাতে হবে। এর পরের কাজ জোড়া লাগানো। রিবন্ডিং প্রক্রিয়ার সঙ্গে চুলের রাসায়নিক উপাদান, রিবন্ডিং ক্রিমের রাসায়নিক, তাপমাত্রা, নিউট্রালাইজেশন, অক্সিডাইজেশন ইত্যাদি ব্যাপার নিবিড়ভাবে জড়িত। এ জন্য দরকার দক্ষ বিউটিশিয়ান বা হেয়ার স্টাইলার। যারা জানে চুলের ইলাস্টিসিটি লেভেলের জন্য কোন ধরনের কী মাত্রার থাইগ্লাইকমেট ব্যবহার করতে হবে। এছাড়া আইরনিং তাপমাত্রার সঙ্গে বন্ড ভাঙার পরিমাণ সম্পর্কেও সঠিক জ্ঞান থাকা দরকার। এ জন্য দক্ষ বিউটিশিয়ান ছাড়া চুলের রিবন্ডিংয়ে ভুল হওয়ার আশঙ্কা অনেক বেশি।

ভুলের ক্ষতি

♦    চুল উজ্জ্বলতা হারাতে পারে।

♦    চুল আর্দ্রতা হারিয়ে ফেলে। ফলে সব সময় শুষ্ক দেখায়।

♦    চুল ফেটে গিয়ে ধীরে ধীরে একসময় নিস্তেজ হয়ে যায়।

♦    চুল পড়ে যাওয়ার ভয় থাকে।

 

ভুল হলে করণীয়

রিবন্ডিংয়ে কোনো ভুল হলে বা রিবন্ডিং পরবর্তী সময়ে কোনো সমস্যায় সঙ্গে সঙ্গে

তার ক্ষতি উতরে ওঠার চেষ্টা করতে হবে। খুব দ্রুত চুলের ইলাস্টিসিটি পরীক্ষা করে নিতে হবে। এরপর যত তাড়াতাড়ি সম্ভব কেরাটিন ট্রিটমেন্ট করাতে হবে। কেরাটিন এক ধরনের প্রোটিন, যা আমাদের চুলে, নখে ও দাঁতে থাকে। দূষণ, অতিরিক্ত রাসায়নিকের ব্যবহার, হেয়ার ড্রায়ারের ব্যবহার চুল থেকে কেরাটিনের মাত্রা আস্তে আস্তে কমিয়ে দেয়। রিবন্ডিংয়ের ভুলের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে এ জন্য চুলে কেরাটিন ট্রিটমেন্ট প্রয়োগ করা হয়। কেরাটিন ট্রিটমেন্ট করতে দুই থেকে তিন ঘণ্টা সময় লাগে। তবে চুল যদি লম্বা হয়, তাহলে এই সময় বাড়তে পারে। এটি অনেক ব্যয় বহুলও। রিবন্ডিংয়ের যে প্রডাক্ট ব্যবহূত হয় তার চেয়েও দামি প্রডাক্ট দরকার হয় কেরাটিন ট্রিটমেন্টে। কারো ক্ষেত্রে যদি কেরাটিন টিট্রমেন্ট প্রয়োগ করা সম্ভব না হয় সে ক্ষেত্রে সপ্তাহে এক দিন চুলে প্রোটিন ট্রিটমেন্ট করতে হবে। তাহলে আস্তে আস্তে চুল তার আগের অবস্থায় ফিরে আসবে।

 

মন্তব্য