kalerkantho

বুধবার । ২৬ জুন ২০১৯। ১২ আষাঢ় ১৪২৬। ২৩ শাওয়াল ১৪৪০

কাজের মানুষ

চাকরিজীবনে দশ মূল্যবান সম্পদ

১০ জুন, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



চাকরিজীবনে দশ মূল্যবান সম্পদ

সৈয়দ আখতারুজ্জামান প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, বিয়ন্ড ইনস্টিটিউট অব ট্রেনিং অ্যান্ড কনসালট্যান্সি ব্যবস্থাপনাবিষয়ক লেখক ও প্রশিক্ষক

সম্পদ হারালে তার মূল্য আমরা বুঝতে পারি। চাকরিজীবনের সম্পদের তালিকা আসলে অন্তহীন। সেরা দশ সম্পদের তালিকা ব্যক্তি ও উদ্দেশ্যভেদে ভিন্ন। তবু সাধারণ একটি তালিকা হতে পারে, যা প্রায় সর্বত্রই উপযোগী। হারিয়ে যাওয়ার আগেই সম্পদকে সম্পদ বলে চিনতে পারাটা খুব জরুরি। এখানে দশ নম্বর সম্পদ এক নম্বর সম্পদের চেয়ে কম গুরুত্বপূর্ণ—এটি ঠিক নয়। সবার গুরুত্বই সমান।

 

এক. আত্ম-উন্নয়নের বিরামহীন চেষ্টা

এই এক সম্পদ, যা জীবনের বহু দারিদ্র্যের চিহ্ন মুছে দিতে পারে। যেদিন আপনি হাল ছেড়ে দেবেন, সেদিন থেকে এই সম্পদেরও বিলুপ্তি হবে। যার পেশাগত দক্ষতা নেই, অভিজ্ঞতা নেই, তাকে দিয়েও কাজ চালানো যেতে পারে। কিন্তু যার দক্ষ হওয়ার আগ্রহই নেই, তার সবই শেষ।

 

দুই. বিশ্লেষণ করার ক্ষমতা

বিরামহীন চেষ্টা চালিয়ে যাওয়াও শেষ কথা নয়। চাই বুদ্ধিদীপ্ত চেষ্টা। এ জন্যই প্রয়োজন বিশ্লেষণ করার ক্ষমতা। আপনার চারপাশে কী ঘটছে, কেন ঘটছে। ঘটনাগুলোর মধ্যে সম্পর্ক কী, এখানে আপনার ভূমিকা কোথায়? এমন হাজারো প্রশ্ন নিয়ে মনের ভেতর ভাবনার ঝড় তুলে সঠিক সারমর্মে পৌঁছানোর ক্ষমতাও এক বিরাট সম্পদ।

তিন. দ্রুত হিসাব করতে পারা

যোগ, বিয়োগ, ভাগ কিংবা শতকরা হিসাব কমবেশি সবাই জানি। পেশাগত জীবনে কেউ কেউ থাকেন, যাঁরা মুখে মুখে নির্ভুল হিসাব করতে সক্ষম। যেন ক্যালকুলেটরও হার মানে। ব্যবসাসংক্রান্ত তথ্য-উপাত্তের সংমিশ্রণের পরিসংখ্যান উপস্থাপন করেন চোখের পলকে। অবিশ্বাস্য এই সম্পদ। কোন সিদ্ধান্ত সঠিক হবে, তারা অনেক দ্রুত অনুমান করতে পারেন। কেউ কেউ বলেন, জন্মগত ক্ষমতা। আসলে চর্চার চেয়ে বড় আর কিছু নেই।

চার. ভালো সম্পর্ক

আমরা সামান্য স্বার্থের কারণে কত বড় বড় সম্পর্ক জলাঞ্জলি দিই। তারপর অকূল বিপদে পড়ে নিঃস্ব ও অসহায় হয়ে থমকে থাকি। কোন সম্পর্ক বিপদে কাজে দেবে আর কোন সম্পর্ক আপনার বোঝা হয়ে থাকবে, সেটা বোঝাও এক বড় সম্পদ। ভালো সম্পর্কের সদ্ব্যবহার আপনাকে অনেক শক্তিশালী করতে পারে। দুই ব্যক্তির সঙ্গে সবচেয়ে ভালো সম্পর্ক থাকা চাই—

ক. একজন যোগ্য গুরু।

খ. একজন যোগ্য সহযোদ্ধা ও দুর্দিনের বন্ধু।

 

পাঁচ. নেতৃত্ব

ভালো নেতা হতে শিখুন। নেতৃত্বই একমাত্র সম্পদ, যা শুধু নিজেকে ওপরে তোলে না, গোটা প্রতিষ্ঠানকে উন্নতির শিখরে টেনে নিয়ে আসে। নিজেকে ছাপিয়ে সবার সাফল্য নিয়ে বৃহত্তর ক্ষেত্রে বিচরণের সুযোগ করে দেয়।

 

ছয়. পেশাগত জ্ঞান ও দক্ষতা

আর যত গুণই থাকুক না কেন, আপনি যে পেশা বা বিভাগে কাজ করছেন, সে-সংক্রান্ত জ্ঞান ও দক্ষতা আপনার সেরা সম্পদ। সুতরাং আপনার কাজের ক্ষেত্র সম্পর্কে যত দূর দক্ষতা অর্জন করা সম্ভব, সেই চেষ্টা অব্যাহত রাখুন।

 

সাত. যোগাযোগ

বলা হয়, যিনি যোগাযোগে দুর্বল তিনি সবচেয়ে দুর্বল। যোগাযোগের জন্য জানা চাই ভাষাজ্ঞান, শব্দজ্ঞান, প্রয়োগজ্ঞান ও কমন সেন্স। বাংলা, ইংরেজি (এবং পেশার স্বার্থে প্রয়োজনীয় অন্য কোনো ভাষায়), যার লিখিত এবং কথ্য উভয় ক্ষেত্রের যোগাযোগই ভালো, তিনি মনে রাখবেন, আপনি অনেক বড় সম্পদের অধিকারী।

 

 

আট. শৃঙ্খলা

শৃঙ্খলা আরেকটি বড় সম্পদ, যা দৃষ্টির অগোচরেই থাকে বেশি। শুধু কাজের শৃঙ্খলা নয়, ভাবনার শৃঙ্খলাও জরুরি। শৃঙ্খলা পরিকল্পনারই পূর্বশর্ত। যে যত শৃঙ্খলাবদ্ধ, তিনি তত বেশি পরিকল্পনানির্ভর। সম্পদগুলো এভাবেই সাফল্যের পথে সিঁড়ির মতো ধাপে ধাপে সাজানো। এক বা একাধিক ধাপ বাদ দিয়ে চূড়ায় যাওয়া কঠিন।

 

নয়. প্রতিজ্ঞা

আর এই গতিকে বিরামহীন রাখার জন্য চাই প্রতিজ্ঞা। নিজের কাছে, প্রতিষ্ঠানের কাছে, এই প্রতিজ্ঞাই অমূল্য সম্পদ। দৃঢ়তার প্রতীক আর সবার আস্থার ভাণ্ডার। যার কথা সহজে নড়চড় হয় না, তার গ্রহণযোগ্যতাই অন্য রকম।

 

দশ. অফিস রাজনীতি

অন্যকে ফাঁদে ফেলার জন্য নয়; কিন্তু নিজে যাতে ফাঁদে না পড়েন, তার জন্য ভীষণ দরকারি অফিস রাজনীতি। সারা পথেই তো কাঁটা বিছানো থাকে। পর্বতের মতো অবস্থা। যত ওপরে উঠবেন, তত বিপদ। সব সম্পদ থাকার পরও একেবারে শেষ মুহূর্তে এসে এই অফিস রাজনীতির পিচ্ছিল পথে পা ফসকাতে পারে। ফলে রাজনীতি না করুন, রাজনীতি বুঝুন, অনবরত বিশ্লেষণ করুন। সব সময় মনে মনে অনুমান করুন, আর প্রতিবারই দেখুন অনুমান খাটল কি না। এইবার বিশ্লেষণ করুন, কেন হলো? এই অভ্যাস আপনাকে একদিন প্রখর করে তুলবে।

পরিশেষে, কিছু সম্পদ আছে, যা শুধু চাকরিজীবনের জন্য নয়, যেকোনো ক্ষেত্রের জন্যই অমূল্য সম্পদ। সেগুলোর দিকেও খেয়াল রাখুন; যেমন—স্বাস্থ্য, সময়জ্ঞান, কমন সেন্স, সততা ইত্যাদি। আর এই সম্পদগুলো এক দিনে গড়ে তোলার নয়। দীর্ঘ সাধনার পর গড়ে ওঠে। যার আসলে শেষ কথা বলে কিছু নেই।

মন্তব্য