kalerkantho

রবিবার। ১৬ জুন ২০১৯। ২ আষাঢ় ১৪২৬। ১২ শাওয়াল ১৪৪০

রূপচর্চা

অমসৃণ-ভঙুর নখের জন্য

সুস্থ, সুন্দর নখ শারীরিক সুস্থতার ইঙ্গিত বহন করে। তাই নখ ভঙুর বা অমসৃণ হলে বিষয়টিকে হেলাফেলা করা ঠিক নয়। এমন নখের পরিচর্যার পরামর্শ দিয়েছেন রেড বিউটি স্যালনের রূপবিশেষজ্ঞ আফরোজা পারভিন। লিখছেন নাঈম সিনহা

১০ জুন, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



অমসৃণ-ভঙুর নখের জন্য

বিভিন্ন কারণে নখ অমসৃণ ও ভঙুর হতে পারে। পানি শূন্যতা, ঘন ঘন নেইলপলিশ ও রিমুভার ব্যবহার, অতিরিক্ত শুষ্ক পরিবেশ এবং অপুষ্টির কারণে এ সমস্যা হতে পারে। এ ছাড়া বয়স ৩৫-এর বেশি হলে নখের বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেয়। প্রয়োজন সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও নিয়মিত যত্ন।

 

ভঙুর নখের জন্য

আঘাত বা অন্য কোনো কারণ ছাড়া নখ ভেঙে বা ফেটে গেলে নজর দিতে হবে খাদ্য তালিকায়। ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ‘সি’ ও ‘ই’ যুক্ত খাবার রাখুন প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায়। বায়োটিন এক প্রকার ‘বি’ ভিটামিন, যা নখ পুরু ও শক্ত করতে সাহায্য করে। কলিজা, ডিম, মাশরুম, ফুলকপি, অ্যাভোকেডো, মসুরডাল ও আঁশযুক্ত খাবারে বায়োটিন থাকে। একই সঙ্গে প্রতিদিন অন্তত ১৫ মিনিট রোদে থাকার অভ্যাস তৈরি করতে হবে। সূর্যের আলো আমাদের শরীরে ভিটামিন ‘ডি’ তৈরি করে। ত্বকের জন্য সূর্যের আলো খুবই জরুরি। সকাল বা বিকেলে যখন সূর্যের তেজ কম থাকে সেই সময় সানস্ক্রিন ছাড়া রোদে থাকুন ১৫ থেকে ২০ মিনিট।

পুষ্টিকর খাবারের পাশাপাশি ভঙুর নখের জন্য প্রয়োজন বাহ্যিক পরিচর্যা। রাতে শোবার আগে হাত ও পায়ের নখ ভালো করে পরিষ্কার করে ভিটামিন ‘ই’ যুক্ত কিউটিকল ক্রিম ব্যবহার করুন। অথবা নখে পুরু করে পেট্রোলিয়াম জেলির প্রলেপ দিয়ে সুতির মোজা পরে নিলেও উপকার পাবেন। দিনে কয়েকবার নখে এক্সট্রা ভার্জিন অলিভ অয়েল অথবা আমন্ড অয়েল ম্যাসাজ করুন। সপ্তাহে দুই দিন কুসুম গরম পানিতে আপেল সিডর ভিনেগার মিশিয়ে হাত ও পায়ের নখ ডুবিয়ে রাখুন ১৫ মিনিট। এরপর ব্রাশ দিয়ে ঘষে ঘষে পরিষ্কার করে ধুয়ে মুছে ময়েশ্চারাইজার কিংবা পেট্রোলিয়াম জেলি লাগান। ভঙুর নখ কাটার পর একদিক থেকে ফাইল করুন। দুই দিক থেকে ফাইল করলে নখ ফেটে যেতে পারে।

 

অমসৃণ নখের দেখভাল

নখ বিভিন্ন কারণে অমসৃণ হতে পারে। ব্যালেন্সড ডায়েটের অভাব কিংবা ক্যালসিয়ামের অভাবে এ রকম হতে পারে। প্রয়োজনীয় ভিটামিনের অভাব হলে নখের কেরাটিন গঠনে সমস্যা দেখা যায়। ফলে নখ অমসৃণ হয়ে পড়ে। প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় ভিটামিন ‘এ’ ও ক্যালসিয়ামযুক্ত খাবার রাখুন। পালংশাক, মিষ্টি আলু, গাজর, ডিম, মিষ্টিকুমড়া, ব্রকলি ইত্যাদি। প্রতিদিন এক গ্লাস গাজরের রস খেলেও উপকার পাবেন। নিয়মিত এক গ্লাস দুধ ও একটি ডিম খেলে পুষ্টির অনেকখানি পূরণ হয়ে যায়। অমসৃণ নখে প্রতিদিন রাতে ভালো মানের কিউটিকল অয়েল ম্যাসাজ করুন। কিউটিকল অয়েলের সঙ্গে সামান্য পেট্রোলিয়াম জেলি মিশিয়ে নিতে পারেন। নিয়মিত ব্যবহারে ধীরে ধীরে নখ মসৃণ হয়ে উঠবে। সপ্তাহে এক দিন অন্তত ১০ মিনিট নখের যত্ন নিন। কুসুম গরম পানিতে শ্যাম্পু আর একটুখানি সামুদ্রিক লবণ মিশিয়ে নখ ভিজিয়ে রাখুন পাঁচ মিনিট। তার পর ব্রাশ করে ত্বকের মরা চামড়া তুলে ফেলুন অথবা স্ক্রাবার দিয়ে স্ক্রাব করুন। নখের চারপাশের কিউটিকলগুলো ভালো করে পরিষ্কার করে ধুয়ে মুছে নিন। সবশেষে লাগিয়ে নিন ভালো মানের ময়েশ্চারাইজার অথবা পেট্রোলিয়াম জেলি। নখের এই সমস্যায় কিছু দিনের জন্য নেইলপলিশকে ছুটি দিন। বিশেষ উপলক্ষে নেইলপলিশ লাগাতে চাইলে অবশ্যই ভালো মানের নেইলপলিশ বেছে নিন। নেইলপলিশ লাগানোর আগে রিজ ফিলার ব্যবহার করুন। এতে নখে সরাসরি নেইলপলিশ লাগবে না।

মাসে দুবাবের বেশি রিমুভার ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন। কখনোই এসিটোনযুক্ত নেইল পলিশ বা রিমুভার ব্যবহার করবেন না। এ ছাড়া থালাবাসন ধোয়া, ঘর মোছা বা যেকোনো পানি ও সাবানের কাজে হাতে গ্লভস পরে নিন।

মন্তব্য