kalerkantho

রবিবার। ১৬ জুন ২০১৯। ২ আষাঢ় ১৪২৬। ১২ শাওয়াল ১৪৪০

ত্বকের তারুণ্য ধরে রাখতে...

ত্বকে তারুণ্যের ভাব ধরে রাখতে অ্যান্টি এজিং ট্রিটমেন্ট উপকারী। ত্বক চর্চার এই সেবার নানা দিক জানিয়েছেন শোভন মেকওভারের রূপবিশেষজ্ঞ শোভন সাহা। লিখেছেন আতিফ আতাউর

১০ জুন, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে




ত্বকের তারুণ্য ধরে রাখতে...

মডেল : সুষমা সরকার, কৃতজ্ঞতা : শোভন মেকওভার, ছবি : কাকলী প্রধান

ইদানীং আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে একটু অন্য রকম মনে হয় নাবিলার। বিয়ে করে থিতু হয়েছেন বেশ কয়েক বছর। দুই সন্তানের জননী হলেও রূপ-লাবণ্যের জৌলুস নিয়ে প্রশংসা পেতেন সবার। অথচ কদিন ধরেই কিছুটা বিষণ্ন তিনি। তবে কি ত্বকে বয়সের ছাপ পড়তে শুরু করল। গালের দুই পাশে ও গলায় স্পষ্ট বলিরেখার। কপালেও দু-তিনটি সুতার মতো রেখার আভাস। চোখের নিচেও বয়সের ছাপ। নিজেকে অনেকক্ষণ খুঁটিয়ে দেখে দীর্ঘশ্বাস ছাড়েন নাবিলা।

বয়স ত্রিশ পেরোলেই ত্বকে কিছু পরিবর্তন আসে। তারুণ্যের রূপ-লাবণ্যের জৌলুস কমতে শুরু করে। বয়স বাড়তে থাকলে বলিরেখা পড়াটাকে স্বাভাবিকই মনে করেন চিকিত্সকরা। তবে এ নিয়ে নাবিলার মতো চিন্তায় পড়ে যান অনেকেই। তাদের জন্য সহজ সমাধান অ্যান্টি এজিং ট্রিটমেন্ট। চেহারায় টান টান লাবণ্য ধরে রাখতে চাইলে বয়স ত্রিশের আশপাশে গেলেই শুরু করতে পারেন অ্যান্টি এজিং।

মডেল : ফারহা আমিন

অ্যান্টি এজিংয়ের কয়েক রকম প্রকারভেদ রয়েছে। সবগুলোরই মূল লক্ষ্য ত্বকে তারুণ্যের ভাব ধরে রাখা। যাঁরা নিজের বয়স লুকিয়ে তারুণ্যকে ধরে রাখতে চান, তাঁরা বেছে নিতে পারেন এই সেবা। এ জন্য একটু আগেভাগেই চেষ্টা শুরু করলে সবচেয়ে ভালো ফল পাওয়া যায়। বয়স ত্রিশের কোঠায় পৌঁছলেই অ্যান্টি এজিং শুরু করা ভালো। এতে ত্বকে বয়সের ছাপ লুকানো সহজ হয়। যাঁরা ত্বকে বলিরেখা, চোখের নিচে বয়সের ছাপ পড়া সমস্যায় ভুগছেন, তাঁদের জন্যও উপকারী অ্যান্টি এজিং। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও কমতে থাকে। বয়স বাড়ার চিহ্ন বিভিন্নভাবে আমাদের ত্বকে, চোখে, মুখে ও চুলে প্রকাশ পায়। চামড়ায় ভাঁজ পড়তে শুরু করে। কোলাজেন ও ইলাস্টিন নামের প্রোটিন ত্বককে টান টান করে ধরে রাখতে সহায়তা করে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কোলাজেন ও ইলাস্টিন ধীরে ধীরে ক্ষয় হতে থাকে। ফলে ত্বকে দেখা দেয় শুষ্ক ভাব, গড়ে ওঠে ভাঁজ, যাকে বলিরেখা বলা হয়। একটি গাছের যত্ন নিলে যেমন সতেজ থাকে, আমাদের ত্বকও অনেকটা সে রকম। গাছের মতো আমাদের ত্বকেরও যত্ন এবং পুষ্টি দরকার। এতে ত্বকও অনেক সুন্দর থাকে। ত্বকে টানটান ভাবটা বজায় থাকে। অ্যান্টি এজিংয়ের কাজটাও অনেকটা একই রকম। এই ট্রিটমেন্ট ত্বককে ভেতর থেকে সুন্দর করে তোলে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ত্বক শুষ্ক হয়ে পড়ে। এ সময় ভেতর থেকে ত্বক আর্দ্র করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। অ্যান্টিং এজিংটা হাইড্রেশন বেজড হতে হবে। এটা ত্বককে কোমল করে তোলে। চামড়া শক্ত হয়ে গেলে বা ভাঁজ পড়লে সেটাকে কোমল করে হাইড্রেশন প্রক্রিয়া। পরের ধাপ কোলাজেন মাস্ক। এটি এক ধরনের প্রোটিন ট্রিটমেন্ট। এরপর ত্বকের যত্নে বিভিন্ন ধরনের প্যাক লাগানো হয়। কার কেমন ত্বক, তার ধরন বুঝে বিউটি এক্সপার্ট বেছে নেন প্যাক। এ ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের ফলের নির্যাস থেকে তৈরি প্যাক অ্যান্টি এজিং ট্রিটমেন্টে বেশি উপকার দেয়। 

এর সঙ্গে কিছু সু-অভ্যাস ত্বকে বয়সের ছাপ লুকাতে সাহায্য করে। নিয়মিত ব্যায়াম, পুষ্টিকর খাবার, বিশেষ করে ফল ও শাকসবজি প্রতিদিন খাওয়া, পর্যাপ্ত পানি পান, পরিমিত ঘুম। জীবনযাত্রা ও খাদ্যাভ্যাসের এমন কৌশল শরীরকে যেমন রোগমুক্ত রাখে, তেমনি ত্বকও সুস্থ ও সতেজ রাখবে।

পাশাপাশি কিছু বদ-অভ্যাসও দূরে ঠেলে রাখতে হবে। মুখ ও কপাল কুঁচকে ভঙ্গি করা থেকে বিরত থাকুন। সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি থেকে দূরে থাকুন। জাঙ্কফুড ও ধূমপান পরিহার করুন। অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা থেকে দূরে থাকতে হবে।

অ্যান্টি এজিং একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া। রাতারাতি এর ফলাফল বোঝা খুব কঠিন। অ্যান্টি এজিং ট্রিটমেন্ট যিনি নিচ্ছেন, তাঁর পক্ষেও প্রথম দিকে এটা শুধু ত্বকের যত্ন বলেই মনে হতে পারে। কেউ একবার-দুবার নিয়ে ছেড়ে দিলেই হবে না। নিয়মিত বিরতিতে ট্রিটমেন্ট করাতে হবে। পরে ধীরে ধীরে একসময় ত্বকের বলিরেখা মুছে যেতে শুরু করবে। যত দিন অ্যান্টি এজিং ট্রিটমেন্ট ধরে রাখা যাবে, তত দিন ফল পাওয়া যাবে।

 

কেমন খরচ

অ্যান্টি এজিং ট্রিটমেন্টের কয়েক রকমের প্যাকেজ পাওয়া যায়। আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে মিল রেখে অ্যান্টি এজিং ট্রিটমেন্ট করাতে প্রতিটি সেশনের খরচ পড়বে ১০ হাজার টাকা করে। এর বাইরের অন্যান্য সেশনের খরচ তিন হাজার টাকা থেকে শুরু। তবে অ্যান্টি এজিং ট্রিটমেন্টে ব্যবহূত কসমেটিকসহ পণ্যের দামের ওপরও অনেক সময় খরচ কমবেশি হতে পারে।

মন্তব্য